মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৭ এএম
নির্বাচন মানেই শুধু পোস্টার, স্লোগান আর মাইক হাতে ভাষণ নয়Ñ এর আড়ালে চলে জটিল কৌশল, ইমেজ নির্মাণের লড়াই আর ক্ষমতার নীরব যুদ্ধ। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, তখন এই সময়টা রাজনীতি বোঝারও এক দারুণ উপলক্ষ। বাস্তব রাজনীতির এই নাটকীয়তা বহুবারই উঠে এসেছে হলিউডের পর্দায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও নির্বাচনী রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এমনই পাঁচটি স্মরণীয় সিনেমা নিয়ে রয়েছে আজকের প্রতিবেদন।
প্রাইমারি কালার্স (১৯৯৮)
মাইক নিকোলস পরিচালিত প্রাইমারি কালার্স হলিউডের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯২ সালের বিল ক্লিনটনের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয় হেনরি বার্টন নামের এক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীকে ঘিরে। আদর্শবাদী এই যুবক বিশ্বাস করেÑ রাজনীতির মাধ্যমে সত্যিই মানুষের জীবন বদলানো সম্ভব।
সে কাজ শুরু করে গভর্নর জ্যাক স্ট্যান্টনের নির্বাচনী দলে। স্ট্যান্টন জনসমর্থনে ভীষণ জনপ্রিয়; মানুষের চোখে চোখ রেখে সহানুভূতির কথা বলতে জানেন। কিন্তু প্রচারণার ভেতরে ঢুকতেই হেনরির সামনে একের পর এক উন্মোচিত হতে থাকে ক্ষমতার অন্ধকার দিক ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি, নৈতিক দ্বিচারিতা আর ইমেজ রক্ষার নির্মম হিসাব। আদর্শ আর বাস্তবতার সংঘাতে একজন তরুণ কর্মীর ‘মোহভঙ্গ’ই এই সিনেমার মূল সুর। ভোটের রাজনীতিতে ইমেজ কতটা শক্তিশালী অস্ত্র, তা গভীরভাবে তুলে ধরে ছবিটি।
অল দ্য প্রেসিডেন্টস ম্যান (১৯৭৬)
এটি শুধু একটি সিনেমা নয়Ñ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। অ্যালান জে পাকুলা পরিচালিত অল দ্য প্রেসিডেন্টস ম্যান নির্মিত হয়েছে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সত্য ঘটনা অবলম্বনে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগে গিয়ে পৌঁছায়।
দুই সাংবাদিকের নিরলস অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই আর রাজনৈতিক চাপের মুখে নত না হওয়ার গল্প এই সিনেমা। নির্বাচনী রাজনীতিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণÑ এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া যায় এখানে। চারটি অস্কারজয়ী এই সিনেমা আজও ক্ষমতা, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে অনন্য রেফারেন্স।
ওয়াগ দ্য ডগ (১৯৯৭)
ভোটের ঠিক আগে যদি বড় কোনো কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়, তখন কী করা হয়? ওয়াগ দ্য ডগ সেই প্রশ্নের ভয়ংকর কিন্তু বাস্তবসম্মত উত্তর দেয়। ব্যারি লেভিনসন পরিচালিত এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রে দেখানো হয়েছেÑ জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে মিডিয়াকে ব্যবহার করে কীভাবে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া যুদ্ধ পর্যন্ত সাজানো যায়।
রবার্ট ডি নিরো ও ডাস্টিন হফম্যান অভিনীত এই সিনেমা আজকের সামাজিক মাধ্যম ও ‘ফেক নিউজ’-এর যুগে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। রাজনীতিতে সত্য কত সহজেই নির্মিত বাস্তবতার আড়ালে হারিয়ে যেতে পারে, সেটাই এর মূল বক্তব্য।
দ্য ওয়াররুম (১৯৯৩)
ডকুমেন্টারি হলেও দ্য ওয়াররুম দেখলে থ্রিলার সিনেমার উত্তেজনা অনুভূত হয়। ১৯৯২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের প্রচারণার ভেতরের দৃশ্য সরাসরি ক্যামেরাবন্দি করেছেন নির্মাতা ডিএ পেনবেকার ও ক্রিস হেজেডাস।
নির্বাচনী অফিস যেখানে বসে ঠিক হয় স্লোগান, বক্তব্যের শব্দচয়ন, কেলেঙ্কারি সামাল দেওয়ার কৌশলÑ সেই ‘ওয়াররুম’-এর ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেয় এই ছবি। মঞ্চের আড়ালের মানুষগুলো কীভাবে জনমতকে প্রভাবিত করে, তা জানার জন্য এই ডকুমেন্টারি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
দ্য বেস্ট ম্যান (১৯৬৪)
রাজনৈতিক দলের ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর প্রার্থী মনোনয়নের নোংরা লড়াইকে অসাধারণ নাটকীয়তায় তুলে ধরেছে দ্য বেস্ট ম্যান। ষাটের দশকের পটভূমিতে নির্মিত হলেও এর বিষয়বস্তু আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
একটি রাজনৈতিক দলের কনভেনশনে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জয়ের জন্য একে অন্যের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ব্যবহারের নৈতিক প্রশ্নÑ এই সিনেমার কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব। ক্ষমতা অর্জনের পথে আদর্শের কতটা মূল্য থাকে, সেই প্রশ্ন রেখে যায় ফ্রাংকলিন জে শ্যাফনার পরিচালিত এই ক্লাসিক।