সাক্ষাৎকার
মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৬ পিএম
ব্যস্ত সময় পার করছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। একের পর এক নতুন নাটকের কাজ শেষ করে এখন দর্শক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই তার ভাবনা। সাম্প্রতিক কাজ, চরিত্র নির্বাচন, শিল্পী হিসেবে পরিণত হওয়ার যাত্রা এবং দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা সবকিছু নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহমুদা বিশ্বাস
প্রশ্ন : আপনার করা সাম্প্রতিক কাজ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : রিসেন্টলি বেশ কয়েকটা কাজ করেছি। এই মাসেও একটা নাটকের শুটিং শেষ করেছি। ইমরাউল রাফাত ভাইয়ার সঙ্গে ‘নাইন্টিজের গল্প’ নামে একটি কাজ করলাম। গত চার দিন এটির শুটিং করলাম। এরপর শুভ ভাইয়ার সঙ্গে আরও একটা নাটক করেছি। এই নাটকে আমার সঙ্গে ফারহান অভিনয় করেছে, এটার শুটিংও শেষ হয়েছে। তারপর আরশের সঙ্গে তিনটি নাটক করেছি। এর মধ্যে নাইন্টিজের গল্প একটু আলাদা গল্পের, বাকি নাটকগুলো রেগুলার কাজের মতো। এ ছাড়া আরও কয়েকটা নাটকে অভিনয় করেছি, সেগুলোও খুব শিগগিরই দর্শক দেখতে পারবে।
প্রশ্ন : আপনার কাজগুলো দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পাচ্ছে?
উত্তর : খুবই ভালো সাড়া পাচ্ছি। নাটকগুলো প্রচারিত হওয়ার পরপরই অনেক ভিউ হচ্ছে। দর্শক পছন্দ করছে, ভালো কমেন্টস করছে। এর মধ্যেও আবার কিছু নাটক দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে বেশি। দর্শকের ভালো মন্তব্য কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়। আমিও চাই দর্শক দেখুক, প্রশংসা করুক। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, ভালো সাড়া পাচ্ছি।
প্রশ্ন : কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর : আগের তুলনায় আমি এখন গল্প বেছে করছি। কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই স্ক্রিপ্টে। যখন কোনো কাজের সুযোগ হয়, আমি প্রথমে গল্পটা পড়ি। তারপর যদি আমার মনে হয় যে, এই গল্পে আমি ভালো অভিনয় করতে পারবÑ সেই গল্পতেই কাজ করছি। আর যেই গল্প মনে হয় যে, আমি এটার জন্য নাÑ সেগুলো বাদ দিয়েই আসলে বেছে বেছে অভিনয় করছি। এ ছাড়া গল্পের পাশাপাশি পরিচালকের একটা বিষয় থাকে। ভালো গল্প হলেই যে নাটক ভালো হবে এমনটা নয়। আমি সব সময় গল্পের পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখি যে, ডিরেক্টর কে, ভালো কাজ তৈরি করতে পারবে কে। আমার কাছে আগে এটা ভুল ধারণার মতো ছিল, কিন্তু আমি এখন বিশ্বাস করি। একটা ভালো গল্পকে ভালো কাজে পরিণত করার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনশেষে একটা ভালো গল্প পেলাম আর অভিনয় করে ফেললাম এরকম না। ভালো ডিরেক্টর যারা, তারা সব সময় চেষ্টা করে যেন তাদের কাজটা ভালো হয়। অভিনয় করাটাই সব না, মিউজিক, কালারস অন্যান্য যারা পোস্টপ্রোডাকসনে আছে তাদের ভূমিকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আর এই সবকিছু মিলিয়েই আসলে দিনশেষে একটা ভালো কাজ দর্শক দেখতে পারে।
প্রশ্ন : কেমন চরিত্রে কাজ করতে ভালো লাগে?
উত্তর : সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতেই আমার ভালো লাগে, এখন পর্যন্ত করেও যাচ্ছি। সব সময় আমার পছন্দ মতো গল্প-চরিত্রতো আমি পাব না। তবে চেষ্টা করি ইতিবাচক চরিত্রগুলোতে কাজ করার, যে কাজ থেকে মানুষের ভালো মন্তব্য পাব।
প্রশ্ন : একজন শিল্পী হিসেবে আরও বেশি পরিণত করে তুলতে কোন দিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়?
উত্তর : যত বেশি অভিনয় করছি এর মধ্যে থেকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। আমার কাছে মনে হয় যে, শিল্পী হিসেবে আরও বেশি পরিণত হতে গেলে আরও অনেক বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। এজন্য বেছে বেছে ভালো গল্পে কাজ করা প্রয়োজনÑ আমি এখন সেটাই করছি, অভিজ্ঞতা অর্জন করছি।
প্রশ্ন : যারা আপনাকে ভালোবেসে সব সময় অনুপ্রেরণা জোগায়, সেই দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলতে চান?
উত্তর : আমি এখন বেছে বেছে কাজ করছি, এটার কারণই আসলে দর্শক আমাকে পর্দায় কীভাবে দেখতে চায়। দর্শকের এই চাওয়াকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সেই চরিত্রগুলোতেই অভিনয় করার চেষ্টা করছি। দিনশেষে আমার কাজগুলো তারাই দেখবে। তাই তাদের পছন্দ-অপছন্দকে মাথায় রেখেই আমি কাজ করছি। দর্শকের থেকে আমার এটাই বড়প্রাপ্তি যে, কষ্ট করে কাজ করছি, একজন মানুষও যদি দেখে এবং ভালো মন্তব্য করেÑ সেটা সামনে আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। এত টুকুই বলতে চাই সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারি।