প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৭ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৭ পিএম
দূর অতীতের এক নারীর কণ্ঠে বর্তমান সময়ের প্রশ্নÑ এই দ্বৈত সংলাপই মোহাম্মদ আলী হায়দার নির্দেশিত বটতলার নন্দিত নাট্যপ্রযোজনা ‘খনা’-এর প্রধান শক্তি। ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে থাকা কৃষি জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নারীর অবদমনের গল্পকে মঞ্চভাষায় নতুন করে নির্মাণ করে ‘খনা’ কেবল একটি নাটক নয়, বরং এক সময়ভেদী পাঠ। সেই পাঠের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাটকটির ৯৯তম মঞ্চায়ন।
‘খনা’ এমন এক আখ্যানের মঞ্চরূপ, যা নারী প্রশ্ন, শ্রেণি প্রশ্ন ও ক্ষমতার কাঠামোকে গভীরভাবে সামনে আনে। প্রায় পনেরশ বছর আগের গল্প হলেও এর বক্তব্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। নাটকটি দেখিয়ে দেয়Ñ ঘরের বাইরে পা ফেলা নারীর প্রথম প্রতিরোধ অনেক সময় ঘরের ভেতর থেকেই আসে। জ্ঞান ও অজ্ঞতার দ্বন্দ্বে, জানার ও না বোঝার ব্যবধানে যে নির্মম বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে, নাটকের পরতে পরতে তা উন্মোচিত হয়। ‘যে জানে সে মূঢ় নয়, মূঢ় সেই যে জেনেও বোঝে না কত কম জানা যায়’Ñ এই দর্শনই যেন খনার কণ্ঠে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়।
প্রজন্মান্তরে বহমান কৃষিভিত্তিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ধারাকে অনুসরণ করতে গিয়ে নাটক খনা ঘুরে বেড়ায় চাষিদের বেগুনক্ষেত, কলাবাগান পেরিয়ে ছোট্ট উঠানে। সেখানে দাঁড়িয়ে খনা শুধু নিজের জীবনের প্রশ্নই তোলেন না, দর্শকদেরও দাঁড় করান এক গভীর সত্যের মুখোমুখিÑ জ্ঞান কি কেবল ক্ষমতার অধিকারীদের জন্য, নাকি তা সবার?
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহস্র দর্শকের সামনে প্রথম মঞ্চায়নের পর থেকে দেশে-বিদেশে অনুষ্ঠিত ৯৮টি প্রদর্শনীতে ‘খনা’ অর্জন করেছে বিপুল প্রশংসা ও স্বীকৃতি। অতীতের ইশারায় বর্তমানকে প্রশ্ন করার যে সাহসী প্রয়াস ‘খনা’ নেয়, তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে এই ৯৯তম মঞ্চায়ন।