মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬ পিএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫২ পিএম
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন অনেক শিল্পী আছেন, যারা শুধু পর্দায় অভিনয় করেই থেমে থাকেননিÑ সময় ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে হয়েছেন সফল নির্মাতাও। নায়ক, নায়িকা কিংবা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়ে তারা যখন পরিচালকের চেয়ারে বসেছেন, তখন বাংলা সিনেমা পেয়েছে নতুন ভাষা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তাদের হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে বহু কালজয়ী ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। অভিনয় ও নির্মাণ-দুই ভূমিকাতেই যারা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, এমনই তারকাদের নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৬৮ সালে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হয়ে দর্শকমনে ঝড় তোলেন। এরপর রাজ্জাক মানেই ছিল নায়কত্বের প্রতীক। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে ‘অনন্ত প্রেম’ নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘বদনাম’, ‘চাপাডাঙ্গার বউ’, ‘সৎভাই’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘উত্তর ফালগুনী’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘অভিযান’, ‘মৌচোর’, ‘আমি বাঁচতে চাই’, ‘কোটি টাকার ফকির’সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় ছবি নির্মাণ করে তিনি নির্মাতা হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
শাবানা ষাটের দশকে আজিজুর রহমানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরি’ ছবিতে শাবানা নামে আত্মপ্রকাশ করে নব্বই দশক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক সফল ছবি উপহার দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ‘মাটির ঘর’ নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন। আজিজুর রহমানের পরিচালনায় তার প্রযোজিত এই ছবি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে প্রায় ২৫টি ছবি নির্মাণ করে অভিনেত্রীর পাশাপাশি সফল নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শাবানা।
সোহেল রানা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ প্রযোজনা করে ইতিহাস গড়েন। ১৯৭৪ সালে ‘মাসুদ রানা’ দিয়ে পরিচালনা ও অভিনয় দুই ভূমিকাতেই আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ছবিটির বিপুল সাফল্যের পর ‘এপার ওপার’, ‘গুনাহগার’, ‘জবাব’, ‘যাদুনগর’, ‘জীবন নৌকা’সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবি নির্মাণ করেন।
ষাটের দশকে অভিনয়ে আসা সুচন্দা আশির দশকে নির্মাণে নামেন। ‘তিন কন্যা’, ‘প্রেম প্রীতি’, ‘সবুজ কোট কালো চশমা’, ‘হাজার বছর ধরে’ নির্মাণ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
আলমগীর ১৯৭৩ সালে অভিনয় শুরু করে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চরিত্র উপহার দেন। ১৯৮৫ সালে ‘নিষ্পাপ’ দিয়ে পরিচালনায় এসে ‘নির্মম’, ‘বৌমা’, ‘মায়ের দোয়া’, ‘একটি সিনেমার গল্প’ নির্মাণ করে সফল নির্মাতার স্বীকৃতি পান।
এ ছাড়া খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, আজিম, আমজাদ হোসেন, রহমান, সুজাতা, ববিতা, বুলবুল আহমেদ, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মৌসুমীর মতো গুণী শিল্পীরাও অভিনয় থেকে নির্মাণে এসে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের হাত ধরেই বাংলা সিনেমা পেয়েছে শক্ত গল্প, মানবিক আবেগ আর কালজয়ী সৃষ্টিÑ যা আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন।