প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:০৩ পিএম
অ্যাভাটার সিরিজের ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। প্রথম সিনেমা ‘অ্যাভাটার’ এবং দ্বিতীয় পর্ব ‘অ্যাভাটার : দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখেছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্ব ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল, যা দেখিয়েছে এই মহাজাগতিক গল্পের জনপ্রিয়তা কতটা অবিস্মরণীয়। তিন বছর ধরে ভক্তরা অধীর আগ্রহে তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় ছিলেন এবং সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ১৯ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে ‘অ্যাভাটার : ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের দর্শকরাও স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দেখতে পারছেন।
জেমস ক্যামেরন এই তৃতীয় পর্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এসেছে নতুন গোষ্ঠী, নতুন চরিত্র এবং নতুন ভিলেন। সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র হলো ভারাং, যিনি অ্যাশ পিপল গোত্রের নেতা। আগ্নেয়গিরিতে বসবাসকারী এই গোত্রের জীবন কষ্টে ভরা, তাই ভারাং কঠোর এবং নিজের জনগোষ্ঠীর জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। তার কণ্ঠ দিয়েছেন গেম অব থ্রোনস খ্যাত অভিনেত্রী ওনা চ্যাপলিন।
পর্বটির সবচেয়ে বড় চমক হলো প্যান্ডোরার ভিন্ন দিক তুলে ধরা। জেমস ক্যামেরন জানিয়েছেন, তিনি এইবার নাভি ও মানুষ জাতির ধারণাকে উল্টিয়ে দেখিয়েছেন। আগের পর্বগুলোতে নাভি জাতিকে শুধু ভালো হিসেবে এবং মানুষ জাতিকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু এইবার অ্যাশ উপজাতির জীবনধারা ও নাভির অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে গল্প আরও সমৃদ্ধ এবং জটিল হয়েছে।
কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্যাক সুলি (স্যাম ওয়ার্থিংটন) এবং নিতিরি (জো সালদানা) পরিবার। বড় সন্তানের মৃত্যু সামলাতে গিয়ে তারা নতুন বিপদের মুখোমুখি হয়। অ্যাশ উপজাতির নেতা ভারাং পুরনো শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নাভিদের ওপর আক্রমণ চালায়। পরিবারের সুরক্ষা, জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং গ্রহ রক্ষার লড়াইÑ এই তিনটি স্তরেই নির্মিত হয়েছে গল্পের থ্রিলিং তন্তু।
হলিউড সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, ভিজ্যুয়াল ও গ্রাফিক্সের দিক থেকে এই পর্ব আগের দুই পর্বকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে শেষ ৩০ মিনিটের যুদ্ধের দৃশ্য দর্শকদের অন্য জগতে নিয়ে যাবে। অ্যাভাটারের ভক্তরা এখন এক নতুন অভিজ্ঞতা এবং চোখে-মনে চমক অপেক্ষা করছে।