প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৩ পিএম
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে কয়েকজন অভিনেত্রী দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন, শাবনূর তাদের মধ্যে অন্যতম। নব্বইয়ের দশক থেকে দুই হাজার দশকের শুরুর সময় পর্যন্ত বড় পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল প্রেক্ষাগৃহভর্তি দর্শক। অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা, শক্তিশালী অভিনয় আর সাবলীল সৌন্দর্যের কারণে তিনি হয়ে ওঠেন ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। আজ এই ঢালিউড জনপ্রিয় নায়িকার জন্মদিন। জন্মদিন এলেই তাই ফিরে দেখা হয় তার সেই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও বর্তমান জীবনের পথচলা।
১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন শাবনূর। তবে ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুজন সখী’ সিনেমাটি তাকে এক লাফে তারকাখ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘দুই নয়নের আলো’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’Ñ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সময়ের অন্যতম সেরা নায়িকা হিসেবে।
শাবনূরের অভিনয়ের বড় শক্তি ছিল তার আবেগপ্রবণ চরিত্রে সাবলীলতা। প্রেমিকা, স্ত্রী, গ্রামবাংলার সহজ-সরল নারী কিংবা শহুরে আধুনিক চরিত্রÑ সব ক্ষেত্রেই তিনি দর্শককে বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় উপহার দিয়েছেন। জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ, শাকিব খান, ফেরদৌসসহ অনেক তারকার সঙ্গে তার জুটি সিনেমা হলে দর্শক টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি কমতে থাকে। ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক কারণে একপর্যায়ে তিনি অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান। পরবর্তীতে বিয়ে ও সন্তান জন্মের পর স্থায়ীভাবে দেশের বাইরে চলে যান শাবনূর। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন বলে জানা যায়।
এখন শাবনূর নিয়মিত অভিনয়ে নেই। তবে পুরোপুরি আড়ালেও নন। সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যে নিজের ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জন্মদিন কিংবা বিশেষ দিনে তার পুরনো সিনেমার স্মৃতিচারণা আবারও আলোচনায় আসে। ভক্তরা এখনও তাকে বড়পর্দায় ফিরে দেখতে চান, যদিও তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।
একসময়ের ব্যস্ত নায়িকা শাবনূর আজ বেছে নিয়েছেন শান্ত, পারিবারিক জীবন। তবু ঢালিউডের ইতিহাসে তার অবদান অমলিন। জন্মদিনে তাই শুধু শুভেচ্ছাই নয়, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় সেই অভিনেত্রীকে, যিনি একসময় বাংলা সিনেমার পর্দা আলো করে রেখেছিলেন।