প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১৯ এএম
কোনো ব্যান্ডের প্রাণশক্তি যে কণ্ঠশিল্পী- এ কথা নতুন নয়। তার কণ্ঠেই গান পায় চরিত্র, আর শ্রোতাও ব্যান্ডকে চেনে মূলত ভোকালের মাধ্যমেই। তাই অন্য সদস্যের তুলনায় ভোকালিস্টই সাধারণত দ্রুত আলোচনায় আসে। এই পরিচিতিকে কেন্দ্র করে অনেক কণ্ঠশিল্পী ব্যান্ডের বাইরে মিক্সড অ্যালবাম বা একক গানেও কাজ করেন। তবে ব্যান্ডে থাকা অবস্থায় সদস্যদের একক গান করা উচিত নয়Ñ এ বিষয়ে মত দিয়েছেন সোলসের প্রধান ভোকাল পার্থ বড়ুয়া।
সম্প্রতি নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ডসংগীত নিয়ে সাজানো এক টিভি অনুষ্ঠান ‘নাইনটিজ মিউজিক স্টোরি’ অতিথি হয়ে এসে তিনি জানান নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত। কিবোর্ড বাজিয়ে সোলসে পথচলা শুরু করা পার্থ পরে কীভাবে মূল ভোকালে পরিণত হলেন, সেই সময়ের রেকর্ডিং পরিবেশ, স্টুডিওর কাজের ধরন, গানের আড্ডাÑ সবই উঠে আসে তার কথায়। ব্যান্ডের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দলগত সৃজনশীলতার গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ব্যান্ডের শিল্পীর কোনোভাবেই আলাদা গান করা উচিত নয়। কারণ একটা ব্যান্ডে চার-পাঁচজন যারাই থাকুক সবার এফোর্ট থাকে। যে গান গায় সে হলো ফ্রন্টলাইনার। ফ্রন্টলাইনারকে সবাই বেশি চেনে। তাই কণ্ঠশিল্পী সবার আগে জনপ্রিয় হয়ে যায়। খ্যাতির লোভটা ভয়ানক একটা বিষয়। সে যদি (আরও খ্যাতির আশায়) ব্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে মিক্সড অ্যালবাম বা সলো ক্যারিয়ার গড়ে তাহলে ব্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। এটা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।’ ব্যান্ডের বাইরে মিক্সড অ্যালবামেও গান করেছেন পার্থ। জানালেন বাড়তি টাকা আয়ের জন্যই গেয়েছেন মিক্সড অ্যালবামে। তবে তার মতে, ব্যান্ডে থাকাকালে শিল্পীদের একক গান প্রকাশ করা ঠিক নয়।
পার্থ বলেন, ‘মিক্সড অ্যালবামে গান করে কিছু টাকা পাওয়া যেত। এ কারণেই করা। যদিও মিক্সড অ্যালবামে আমার কিছু ভালো গান রয়েছে। কিন্তু আমি কখনও সলো অ্যালবাম করিনি। আমার বেশ ভালো অফার ছিল তখন। সে সময় যদি সলো অ্যালবাম করতাম তাহলে অনেক টাকা পেতাম। আমি যেটা বিশ্বাস করি, আমি সোলসের হয়ে গান গেয়ে পরিচিতি পেয়েছি। আমার প্রাপ্তি তো এমনিতেই অন্য সদস্যদের চেয়ে একটু বেশি, সেখানে নিজেকে সামলাতে দোষটা কোথায়?’
সময়ের বিবর্তনে এখন কমেছে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। শিল্পীরা নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করছেন। এই বিষয়ে পার্থ বলেন, ‘এখন আমাদের সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযোজক কে আর শিল্পী কেÑ এটার পার্থক্য বোঝা কষ্টকর। দেখছি প্রযোজকই গান গায়। যে শিল্পী প্রযোজনা করছে তার আরেকজনের গান নেওয়ার দরকার কী। এ ছাড়া যে কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের অনেক ধরনের চাহিদা। গানটি এমন হতে হবে, অমন হতে হবে। প্রযোজকদের কথা শুনে মনে হয়, গানবাজনা না করাই ভালো। কারণ সে গানের কী বোঝে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হচ্ছে। অথচ সবাই নিজের মতো করে গান করবে, নতুন কেউ তার মতো করে নতুন কিছু করবেÑ এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু তাকে যখন বলা হয় এমন না, ওই গানের মতো করো, তাহলে নতুনত্ব কীভাবে আসবে। তাই যে যার মতো করে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে গান আপলোড করছে।’
পার্থ বড়ুয়া মনে করেন, সংশ্লিষ্টদের সচেতনতাই নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে পারে সংগীত অঙ্গনে।