প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৫ ১১:২২ এএম
ঢালিউডে এখন সিনেমা ব্যবসা চলছে টালমাটাল সময়ের ভেতর। এমন সময় একটানা ১৫৬ দিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলছে একটি বাংলা সিনেমাÑ এ খবর যেন রূপকথার মতোই শোনায়। কিন্তু এটিই বাস্তব। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ এখনও চলছে রাজধানীর যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসে, আর দর্শক উপস্থিতিও কম নয়।
হলিউড বা বলিউডে সিনেমার দীর্ঘ মেয়াদি প্রদর্শন নতুন কিছু নয়। ‘টাইটানিক’ কিংবা ‘গদর ২’-এর মতো উদাহরণ রয়েছে হাতে গোনা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা বিরল, বিশেষ করে যখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই মন্দার সময়েও ‘উৎসব’ যেন ঢালিউডে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
মুক্তির ১৫৬ দিনে দেশের বাজার থেকে সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ১০ কোটি টাকা, বিদেশের বাজারসহ মোট আয় ১৩ কোটির বেশি- সবটাই টিকিট বিক্রি থেকে। এই তথ্য এসেছে সিনেমার পরিচালক তানিম নূরের কাছ থেকেই। বেশিরভাগ প্রযোজক যেখানে বক্স অফিস আয় গোপন রাখতে চান, সেখানে তানিম স্বচ্ছভাবে সব তথ্য প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, ‘একটি সিনেমা কত দর্শক দেখছেন, কোন বয়সের, কোন সময় সবচেয়ে বেশিÑ এই তথ্যগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ওপরই নির্ভর করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সিনেমা তো অন্য যেকোনো ব্যবসার মতোইÑ বিনিয়োগের হিসাব না জানলে কেউই ঝুঁকি নেবে না।’
তানিমের মতে, বাংলাদেশে এখনও সিনেমার আয়ের সঠিক পরিসংখ্যান রাখার কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই। অথচ পাশের দেশ ভারত এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে এনেছে বিপ্লব। তিনি স্মরণ করেন, ‘একসময় ভারতের সিনেমায়ও বক্স অফিস সংস্কৃতি ছিল না। ১৯৯৮ সালে দেশটি চলচ্চিত্রকে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ ঘোষণা করার পর বদলে যায় পুরো চিত্র। করপোরেট বিনিয়োগ বাড়ে, আসে ই-টিকেটিং, আর প্রযোজক ঘরে বসেই জানতে পারেনÑ কোন শহরে, কোন প্রেক্ষাগৃহে কতজন দর্শক সিনেমাটি দেখছেন।’
তানিম মনে করেন, বাংলাদেশেও এমন একটি বক্স অফিস সিস্টেম চালু করা জরুরি, যা প্রযোজনা, বিতরণ ও বিপণনে আনবে স্বচ্ছতা। এতে শুধু বিনিয়োগ বাড়বে না, সিনেমার মানও উন্নত হবে। বর্তমানে যখন বেশিরভাগ সিনেমা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া প্রেক্ষাগৃহে টিকতে পারছে না, তখন ‘উৎসব’ শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের গল্প নয়, এটি প্রমাণ করছেÑ দর্শক এখনও ভালো সিনেমা খুঁজে নেয়।