প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৮ এএম
স্কুলজীবনেই ব্যান্ড সংগীতের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন নকীব খান। চট্টগ্রামের তরুণ সেই নকীব প্রথমে যুক্ত হন স্থানীয় ব্যান্ড ‘বালার্ক’-এ, পরে সুরেলা হয়ে পৌঁছান কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘সোলস’-এ। প্রায় এক দশক ছিলেন এই ব্যান্ডের অন্যতম ভরসা হিসেবে- যেখানে তার সুরে জন্ম নেয় ‘মুখরিত জীবনের চলার পথে’, ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’সহ একাধিক কালজয়ী গান।
পরবর্তীতে ঢাকায় এসে ১৯৮৫ সালে তিনি গড়ে তোলেন নিজের নতুন সংগীতদল রেনেসাঁ- যা নামের মতোই ব্যান্ড সংগীতে এনে দেয় এক নবজাগরণ। প্রধান ভোকাল, কি-বোর্ডিস্ট, সুরকার ও কম্পোজার হিসেবে নকীব খান হয়ে ওঠেন এই ব্যান্ডের প্রাণ। তার সুরে শোনা যায় প্রজন্ম পেরিয়ে যাওয়া গানÑ ‘ভালো লাগে জোছনা রাতে’, ‘আচ্ছা কেন মানুষগুলো এমন হয়ে যায়’, ‘হৃদয়! কাদামাটির কোনো মূর্তি নয়’, ‘ও নদী রে, তুই যাস কোথায় রে’, ‘আজ যে শিশু’ যেগুলো আজও শ্রোতার হৃদয়ে অনুরণিত হয়।
নকীব খানের সংগীতযাত্রা তাই শুধু একটি ব্যান্ডের ইতিহাস নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশগাথার এক অনবদ্য অধ্যায়। ব্যান্ড সংগীতের এই দীর্ঘ যাত্রায় নব্বই দশককে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন নকীব খান। তার ভাষায়, ‘নব্বই দশক ছিল আমাদের ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণালি সময়।’
সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘নাইনটিজ মিউজিক স্টোরি’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। নব্বইয়ে ব্যান্ড সংগীতের জাগরণের গল্প বলার পাশাপাশি নিজের ব্যান্ড ক্যারিয়ার, সোলসের দিনগুলো, রেনেসাঁ গঠন, জনপ্রিয় গানগুলো সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরেন। জানান অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম গানের সুর করেন তিনি। আরও অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। অকালে হারানো ব্যান্ড শিল্পীদের কথা বলতে গিয়ে বিষণ্ন হন।
রিয়াদ শিমুলের গ্রন্থনা ও এসএম হুমায়ুন কবিরের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে শনিবার রাত ১২টায়।