বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:১৩ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৫ পিএম
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নাম অভিনেত্রী শাবনূর। তার অভিনয়ের ভক্ত ছিল না দেশে এমন সিনেপ্রেমী দর্শক নেই বললেই চলে। তার অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করেছে। যার ধারাবাহিকতা ছিল এই শতকেও। তবে হুট করে কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন তিনি। সিনেমা থেকে একেবারেই নিজেকে সরিয়ে নেয়া এই অভিনেত্রী এখন পরিবার নিয়ে থাকেন সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার অস্ট্রলিয়ায়। আজ তার ৪৩তম জন্মদিন।
শাবনূর অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও ভক্তদের হৃদয় থেকে লুকাতে পারেননি তিনি। তাই আজকের দিনে ভক্ত ও সহকর্মীদের থেকে পাচ্ছেন প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
শাবনূরের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের শ্রোতানন্দিত গায়িকা কনক চাঁপা তার ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি শেয়ার করেন। এরপর বিশাল এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানান অভিনেত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
শুরুতেই কনক চাঁপা লেখেন, ‘শাবনূর, একটি পরিপূর্ণ প্রতিভাময় শিল্পীর নাম যাকে বাংলাদেশ কখনোই ভুলতে পারবে না। তার অভিনয় শৈলী, উচ্চারণ, সৌন্দর্য, গোলাপের মতো হাসি এবং নয়নযুগল পুরো যুবসম্প্রদায়কে বুঁদ করে রেখেছে কয়েক যুগ। তার রেশ এখনো কাটেনি, কাটবেও না কখনও। এই শাবনূর এপিসোড থেকে দর্শক বেরুতেও চায়নি, চাইবেও না কখনো। কারণ এমন প্রতিভার অধিকারী শত জনমে একজনই হয়। তার সমসাময়িক অনেকেই আছেন কিন্তু কাছাকাছি কেউ নেই।’
এরপর শাবনূরের সঙ্গে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এই সংগীতশিল্পী তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলা যায় প্রথম থেকেই তাঁর জন্য গাইছি। আশ্চর্যজনক কথা যে তাঁর সাথে আমার খুবই কম দেখা হয়েছে। আমি আমার মতো গেয়েছি তিনি তাঁর মতো অভিনয় করেছেন। কিন্তু যখন পিকচারাইজেশন দেখেছি তখন আমারই বিশ্বাস হয়নি যে এটা আমি গেয়েছি, মনে হয়েছে এটা যেন তাঁরই কণ্ঠ! এই যে একাকার হয়ে যাওয়া এই ক্রেডিট আমি শাবনূরকেই দিতে চাই। তিনি আসলে আমাদের কবরীর পরে ভার্সেটাইল যাকে বলে সেই উঁচুমানের মহানায়িকা। সিরিয়াস অভিনয়, হাসির অভিনয়, ছটফটে দুরন্ত কিশোরীর অভিনয় সবই দুর্দান্ত তবে তার ভয়ংকর সুন্দর চোখে যখন অশ্রু ঝরে তখন একটা কথাই মাথায় আসে ‘ফুল নেবো না অশ্রু নেবো ভেবে হই আকুল!’
কনক চাঁপা আরও বলেন, ‘আগেই বলেছি ব্যক্তিগত জীবনে তার সাথে আমার খুব কম দেখা হয়েছে। আমার রেকর্ডিং স্টুডিও আর তাঁর কর্মক্ষেত্র আলাদা জায়গায় হওয়াতেই এমন হয়েছে। কিন্তু যখন তাকে দেখেছি, খেয়াল করেছি খুব সহজ সরল তাঁর উপস্থিতি। তাঁর কাঁচভাঙ্গা হাসি আমার মন কেড়ে নিয়েছে। সবারই বোধহয় এভাবে অনুভব হয়। সাধারণভাবে দেখা সাক্ষাৎ হলে মনে হয়েছে এই মেয়ে সিরিয়াস অভিনয় করে কিভাবে!
আমার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম তাঁর বাসায়। তখন তার আন্তরিক আতিথিয়েতা দেখে আমি মুগ্ধ! তখনও আমি নিরাভরণ শাবনূরকে দেখে চমকে উঠেছি তাঁর বিরল সৌন্দর্য ও চোখের চাহনিতে।’
এরপর শাবনূরের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে গর্বিত মনে করা এই গায়িকা বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়ই আমি সাথে ছিলাম। তার অভিনীত একশো ভাগের নিরানব্বই ভাগ গানই আমার গাওয়া। আমাদের দুই দেহ এক প্রাণ বলা যায়। জীবনে কখনো কোনো চ্যানেলকে বলিনি আমাকে এমন একটা অনুষ্ঠান দেন। কিন্তু কয়েকটি চ্যানেলে স্বপ্রনোদিত হয়ে বলেছি শাবনূর ও আমাকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম সাজাতে, কিন্তু কোনো চ্যানেলই আগায়নি। এই বাংলাদেশে মূল্যায়ন পাওয়া খুবই কঠিন তবে আমার বিশ্বাস একদিন আমার গান আর শাবনূরের অভিনয়ের সমন্বয় নিয়ে গবেষণা হবে তখন হয়তো তা দেখার জন্য হয়তো কোনো একজন থাকব না। আমি আমাদের এই মহানায়িকার আনন্দিত সুখী সুদীর্ঘ জীবন কামনা করছি। শাবনূরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমার পক্ষ থেকে রইলো অগণন শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।’
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর যশোর জেলায় ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শাহজাহান চৌধুরী। তিন ভাই বোনের মধ্যে শাবনূর সবার বড়। পারিবারিকভাবে ঢালিউডের এ সুপারস্টারের নাম রাখা হয়েছিল কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। কিন্তু চলচ্চিত্রে আসার পরে পরিচালক এহতেশাম তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন শাবনূর। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার দারুণ ঝোঁক ছিল তাঁর। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৯৩ সালে চাঁদনী রাত সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।