প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১১ এএম
শায়ান চৌধুরী অর্ণব
শায়ান চৌধুরী অর্ণব একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, সংগীতায়োজক ও চিত্রশিল্পী। একুশ শতকের শুরু থেকে ভিন্ন ধাঁচের শব্দ-সংযোজনার মধ্য দিয়ে তিনি রচনা করেছেন সংগীতের নতুন অধ্যায়। নিজস্ব ঢংয়ের গান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। অনেক দিন ধরে তার মৌলিক গান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ নিয়ে ভক্তদের যত আক্ষেপ। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচতে চলেছে। কবিতা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাটা তার অনেক দিনের। শায়ান চৌধুরী অর্ণব চাইছিলেন কবিতায় সুর দিয়ে তৈরি করবেন গান। কাজটি তিনি শুরু করেছিলেন বেশ আগে। সব গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগল। অবশেষে প্রায় ১০ বছর পর মৌলিক গানের পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম প্রকাশ করছেন অর্ণব। ৩০ অক্টোবর আসবে তার নতুন অ্যালবাম ‘ভাল্লাগে না’। প্রকাশ করছে আধখানা মিউজিক। জানা গেছে, ৮টি গান নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অ্যালবাম। এর কিছু গান তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় কবিদের কবিতা থেকে, বাকিগুলো অর্ণব ও তার বন্ধুরা লিখেছেন। জীবনানন্দ দাশ, শ্রীজাত, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দুই বাংলার বিভিন্ন কবির কবিতা নিয়ে গান তৈরি করেছেন তিনি। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন অর্ণব। ভাল্লাগে না অ্যালবামের গানগুলো প্রকাশ পাবে অর্ণবের অফিসিয়াল স্পটিফাই চ্যানেলে। পরবর্তী সময়ে গানগুলো ভিডিও আকারে প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে। অ্যালবাম প্রসঙ্গে অর্ণব বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর পর মৌলিক গানের পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম আসছে আমার। ভীষণ উচ্ছ্বসিত এই কাজটা নিয়ে। কবিতা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। আরও আছে আমার বন্ধু তৌফিকের লেখা গান, রাজীবের লেখা গান। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’
পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের চেয়ে শিল্পীরা ইদানীং একক গানই প্রকাশ করেন বেশি। কারণ অ্যালবামের তুলনায় সিঙ্গেল গানে এখন শ্রোতাদের আগ্রহ বেশি। অর্ণবও স্বীকার করেন সেটা। তবু অ্যালবামের দিকেই তার আগ্রহ বেশি। কারণ হিসেবে অর্ণব বলেন, ‘আমার মনে হয় সিঙ্গেল গানে শিল্পীকে চেনা যায় না। শিল্পীর কাজ সময়কে তুলে ধরা। অ্যালবামে সেটা ভালো হয়। অনেকেই মনে করেন, মানুষ চায় না বলে অ্যালবাম বানিয়ে লাভ নেই। তবে স্পেশাল প্রজেক্ট ছাড়া সিঙ্গেল গানের মানে নেই। একটা ছবি দিয়ে যেমন এক্সিবিশন হয় না, তেমনি শিল্পীকেও চেনা যায় না। আমি ছবি আঁকার সঙ্গে গানকে মেলাই বারবার।’
জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে যেকোনো কাজ নিয়ে তাকে ব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায় না। সে কারণেই সংগীতপ্রেমীরা অ্যালবাম থেকে শুরু করে একক গান, প্লেব্যাকসহ মঞ্চের পরিবেশনায়ও অর্ণবকে প্রতিবার নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন। বাংলা ব্যান্ডের অ্যালবাম থেকে শুরু করে তার একক ‘চাই না ভাবিস’, ‘হোক কলরব’, ‘ডুব’, ‘রোদ বলেছে হবে’, ‘আধেক ঘুমে’, ‘খুব ডুব’, ‘অন্ধ শহর’সহ বন্ধুদের নিয়ে করা বিভিন্ন অ্যালবাম আয়োজনে পাওয়া গেছে অন্য সবার চেয়ে ভিন্নভাবে। কথা, সুর, সংগীত সবকিছু মিলিয়ে অর্ণবের প্রতিটি আয়োজন ছিল পুরোপুরি তার নিজস্ব চিন্তাধারার। কারণ অর্থ নয়, আত্মতৃপ্তির জন্যই সব সৃষ্টি।
বলা প্রয়োজন, সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব গান লেখা, সুর করা, কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ছবিও আঁকেন। তিনি নিজেও এর আগে অন্য লেখকের বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন।
২০০৫ সালে প্রকাশ পায় অর্ণবের প্রথম অ্যালবাম ‘চাই না ভাবিস’। এরপর প্রকাশ করেছেন ‘হোক কলরব’ (২০০৬), ‘ডুব’ (২০০৮), ‘অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস লাইভ’ (২০০৯), ‘রোদ বলেছে হবে’ (২০১০), ‘আধেক ঘুমে’ (২০১২), ‘খুব ডুব’ (২০১৫), ‘অন্ধ শহর’ (নতুন-পুরনো মিলিয়ে, ২০১৭) এবং ‘অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ২’ (রিমেক, ২০২২)।