প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
বেশ কিছুদিন ধরেই সংগীতাঙ্গনে গুঞ্জন চলছিল- রকস্টার জেমস নাকি আবারও ঘর বেঁধেছেন। ঢাকার কনসার্টের মঞ্চে সঙ্গী হিসেবে এক তরুণীকে পাশে দেখা যাওয়ায় কানাঘুষা আরও বেড়ে যায়। অবশেষে সত্যিটা নিজ মুখেই স্বীকার করলেন নগরবাউল। জানালেন, তিনি সত্যিই নতুন জীবনে পা রেখেছেন, আর সেই জীবন এখন পূর্ণতা পেয়েছে নবজাতকের আগমনে।
জানা গেছে, চার মাস আগে- গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে জেমস ও তার স্ত্রী নামিয়া আনামের ঘরে জন্ম নেয় তাদের পুত্রসন্তান জিবরান। নামিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন, বাবা ব্যবসায়ী নুরুল আমিন, মা নাহিদ আমিন। জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক নামিয়া ২০২৩ সালের জুনে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দেখা পান জেমসের সঙ্গে। সেখান থেকেই শুরু হয় যোগাযোগ, পরে পরিণতি পায় ভালোবাসায়। এক বছর পর, ২০২৪ সালের ১২ জুন ঢাকায় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।
জেমস জানিয়েছেন, নামিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন। স্ত্রী এখন তার নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন জেমসের পারিবারিক পদবিÑ ‘আনাম’। তাদের পুত্র জিবরানের জন্ম হয় ২০২৫ সালের ৮ জুন, নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে। জন্মের সময় পাশে ছিলেন জেমস নিজে ও দুই পরিবারের সদস্যরা। এক মাস যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর তারা নবজাতককে নিয়ে ফিরে আসেন ঢাকায়।
নিজের এই নতুন সূচনা নিয়ে জেমস বলেন, ‘হয়তো এটা আমার জীবনের নতুন বাঁক। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে আবারও এক সুন্দর জীবন দিয়েছেন। সবাই জিবরান আর নামিয়ার জন্য দোয়া করবেন।’
নামিয়া আনামও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘জিবরানকে নিয়ে আমি আর জেমস সত্যিই খুব সুখে আছি। মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন।’
ব্যক্তিজীবনে এর আগে দুবার বিয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে জেমসের। প্রথম স্ত্রী ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কানিজ রাবেয়া রথিÑ ১৯৯১ সালে বিয়ে, ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ। সেই সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা। দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন বেনজীর সাজ্জাদ; ২০০০ সালে পরিচয়, পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিয়ে। সেই সংসারে রয়েছে এক কন্যা। বেনজীরের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়।
জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় উত্থানÑ পতন, বিচ্ছেদ-মিলন পেরিয়ে এবার যেন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন নগরবাউল।