প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৭ পিএম
আদিল হোসেন নোবেল
দেশের মডেলিং জগতের অন্যতম দিকপাল আদিল হোসেন নোবেল। ব্যক্তিত্বে যিনি অনন্য, তার সৌন্দর্য ও ভুবন ভুলানো হাসিতে মুগ্ধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। দেশের এই সুপারস্টার এ প্রজন্মের অনেক মডেল কিংবা অভিনেতার আইকন।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে শোবিজে কাজ করছেন নোবেল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মডেলিং জগতে শীর্ষস্থানটি নিজের দখলে রেখেছেন এই তারকা। মডেলিং জগতের বরপুত্র আদিল হোসেন নোবেল বেশ কয়েক বছর পর আবারও টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন। মাছরাঙা টেলিভিশনের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’র একাদশ পর্বের বিশেষ অতিথি হয়ে জানালেন নিজের সম্পর্কে জানা-অজানা অনেক গল্প। আদিল হোসেন নোবেল দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট জগতেই ভীষণ ব্যস্ত, সেখানেও তিনি তারকা। নোবেল জানালেন এখন শুধু ব্যস্ততা করপোরেট জগতের কাজ নিয়েই। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত নিজের অফিসের কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। নোবেল বলেন, ‘নিজের কাজকে ভালো না বাসলে সাফল্য আসে না। তুমি যে কাজটাই করোÑ তা উপভোগ করতে হবে। ভালো কিছু পেতে চাইলে অনেক কিছুতে ছাড় দেওয়াও জানতে হবে। এটা আমি সব সময় বিশ্বাস করি। প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কাজকে ভালোবাসা, উপভোগ করা। যে কাজে ভালোবাসা নেই, আবেগ নেই, সে কাজ অর্থহীন। নিজের প্রায়োরিটি সেট করা জানতে হবে। কোনটা ধরতে হবে, কোনটা ছাড়তে হবে স্থির করলে যে কেউ সাফল্য পাবে। আমি কখনও ভার্সেটাইল হতে চাইনি। নানা দিকে মনোযোগ দিয়ে মূল কাজের জায়গা থেকে লক্ষ্যচ্যুত হতে চাইনি।’
নব্বই দশকে ক্যারিয়ার শুরুর পর বহু বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে পারফরম করেছেন নোবেল। তারপর বিজ্ঞাপন জগতে অনেক মডেলই এসেছেন কিন্তু কেউ নোবেলের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি। একজন পারফরমার হিসেবে নিজেকে যতটা স্টাইলিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, নোবেল তা বেশ সচেতনভাবেই করে যাচ্ছেন এখনও।
বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে পডকাস্টে সঞ্চালক রুম্মান রশীদ খানকে নোবেল জানান, ছোটবেলা থেকেই কড়া শাসনের মধ্যে তাকে বড় হতে হয়েছে। খেলাধুলা-পাগল নোবেলকে ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে বরাবরই নিরুৎসাহিত করতেন তার মা। কারণ দিনব্যাপী খেলার পেছনে সময় বের করতে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে। শুধু খেলাধুলাই নয়, প্রথমবার মডেলিং করার ঠিক আগের দিন আপত্তি জানিয়েছিলেন মা। তবে মনের ভেতর সে সময় নোবেল শপথ করেছিলেন, একদিন মায়ের দুশ্চিন্তা তিনি দূর করবেনই।
পরবর্তীতে তিনি কথা রেখেছেন। তারকাখ্যাতি পেয়েও নোবেল নিজের ব্যক্তিত্ব, সততা ধরে রেখেছেন আজ পর্যন্ত। তিনি বলেন, কোনো কিছু পেয়ে গেলে ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। নিজের সেলফ কন্ট্রোল মেকানিজম ঠিক থাকলে সবকিছুই সহজ। শুরু থেকেই ভীষণ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন নোবেল। তার ক্যারিয়ারের প্রথম টিভিসি এখনও অনএয়ার হয়নি। সে সময় তিনটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনচিত্র করেছিলেন মডেল ইমরান (কোকাকোলা), সালমান শাহ (ফান্টা) ও নোবেল (স্প্রাইট)। তবে টেকনিক্যাল কারণে শুধু সালমান শাহের বিজ্ঞাপনচিত্রটিই প্রচারিত হয়েছিল। নোবেল নিজেও চেয়েছিলেন, তার করা প্রথম টিভিসি যেন অনএয়ার না হয়। নিজেকে পর্দায় দেখে, সেই কাজটির মান নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। সে সময়ই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ভালো-মন্দের তফাৎ। পরবর্তীতে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় একটি চায়ের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন এবং তুমুল জনপ্রিয় হন।
৩৪ বছর ধরে শীর্ষ পুরুষ মডেলের খেতাবটাও তিনি ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ নাটকের ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ নায়কও তিনি। এতে নোবেলের নায়িকার চরিত্রে দেখা যায় বিপাশা হায়াতকে। ক্যারিয়ারে অনেক কাজের অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন নোবেল যা পরে অন্যরা করে তারকাখ্যাতি পেয়েছে। তেমনই একটি কাজ কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমা। সে কাজ ফিরিয়ে দিয়ে নোবেলের কি আফসোস হয়নি কোনোদিন? এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, একদমই না। বরং উল্টোটা হয়েছে। সালমান শাহ-মৌসুমীর সিনেমা আমি হলে গিয়ে দেখেছি। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে এটা আমি করলে এত ভালো হতো না।
নোবেল অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- কুসুম কাঁটা, ছোট ছোট ঢেউ, তাহারা, প্রিমা তোমাকে, শেষের কবিতার পরের কবিতা, বৃষ্টি পরে, নিঃসঙ্গ রাধাচূড়া, তুমি আমাকে বলোনি, হাউজ হাজব্যান্ডর, সবুজ আলপথে ইত্যাদি।