প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৫ পিএম
নাজিফা তুষি
মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমার মাধ্যমে আলোচনায় আসা নাজিফা তুষি অন্যদের তুলনায় খানিকটা ধীরগতিতেই এগোচ্ছেন। তবে অল্প কাজেই তৈরি করেছেন আলাদা জায়গা। দুটি সিনেমা ও একটি ওয়েব সিরিজ শেষ করে এখন মনোযোগ নতুন ছবির প্রস্তুতিতে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তুষি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমি অনেকটাই বুঝেশুনে পা ফেলি, ধীরস্থিরভাবে। হুট করেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সেটা আমার ক্যারিয়ারেও আছে। আমি শুরু থেকেই বাছবিচার করে কাজ করছি। একটি চিত্রনাট্য পেলাম আর ঝাঁপিয়ে পড়লাম, বিষয়টা এমন নয়। শুধু শুধু কাজের সংখ্যা বাড়াতে চাই না। দর্শক যদি কোনো কাজ গ্রহণই না করে, সেটা করে লাভ নেই। ব্যক্তিগত জীবনের মতোই ক্যারিয়ারে তাড়াহুড়া নেই। নতুন কাজ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক আগে ‘রইদ’-এর শুটিং শেষ। এটা নিয়ে সামনে সুখবর আসবে। ‘রঙ্গমালা’র কিছু শুটিং বাকি রয়েছে। সেটা অক্টোবরে করব। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের একটি সিরিজ করেছি, সামনে আসবে। এখন নতুন আরেকটি কাজের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছি। কাজটি সম্পর্কে সময় হলেই জানাব। আরও কিছু কাজ রয়েছে। এগুলো পরপর এলেই মনে হবে, কত কাজ করি। ভৌতিক গল্পের সিনেমা বানাচ্ছেন রায়হান রাফী। কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ‘আন্ধার’ নামের এ সিনেমায় অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।
সম্প্রতি জানা গেল এ সিনেমায় সিয়ামের সঙ্গে থাকবেন নাজিফা তুষি। আন্ধার সিনেমায় সিয়াম ও তুষির অভিনয়ের কথা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তাই এখনই এ সিনেমা নিয়ে কথা বলতে নারাজ সিয়াম ও তুষি। তবে সিয়াম ও তুষির সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ঘোষণার পরেই নতুন এই সিনেমা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চান তারা। জানা গেছে, শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের নাম। আন্ধার নির্মিত হচ্ছে ২২১ বি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। সিনেমাটি তৈরি হচ্ছে দুই ব্যান্ড তারকা অর্থহীন ব্যান্ডের সাইদুস সালেহীন সুমন ও ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরীর লেখা গল্পে। তাদের সঙ্গে গল্প লিখেছেন আদনান আদিব খান।

নিজের সৌন্দর্য ও মেধা শক্তি দিয়ে প্রায় এক দশক ধরে মিডিয়ায় কাজ করে যাচ্ছেন। রূপালি পর্দা ও ওটিটিতে নিজেকে তিনি তুলে ধরেছেন নানা অবয়বে। কিন্তু একটাই কষ্ট তার। পর্দায় সবাই তার সুনাম করলেও বাস্তবে কেউ তার রূপের প্রশংসা করেন না। সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলেন তুষি। সেখানেই উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ। তুষি বলেন, ‘আমার সৌন্দর্যের কেউ প্রশংসা করে না। অডিয়েন্স প্রশংসা করে। আমাকে কেউ সামনাসামনি বলেনি আমি অনেক সুন্দর। এমনটা শুনিনি। তবে এটা বুঝতে পারি, কেউ সুন্দর বলতে চায়। এগুলো আমি মাথায় নিই না। কারণ আমার কাছে মনে হয় না আমি অনেক সুন্দর। যতটা প্রেজেন্টেবল থাকা দরকার, ততটা আছি। আর সৌন্দর্যের শেষ নেই। কত সুন্দর সুন্দর মানুষ আছে পৃথিবীতে।’ সৌন্দর্য নিয়ে নিজের দৃষ্টিকোণ শেয়ার করে তুষি বলেন, ‘একটা মানুষের কাজ, আচরণ বা ব্যক্তিত্ব সবার আগে আমাকে আকর্ষণ করে। একটা মানুষ কতটা মেধাবী, তার পরিশ্রমের ডেডিকেশন কতটা, আউট অব বিউটি থেকে ইনার বিউটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
সৌন্দর্যের দিক থেকে দেশের পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের চেয়ে নারীদের এগিয়ে রাখলেন তুষি। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমাদের দেশের মেল অ্যাক্টরদের থেকে ফিমেল অ্যাক্টররা অনেক বেশি সুন্দর। কাজের জায়গায় এরা সৎ। আমাদের দেশের মেয়েরা শিক্ষায়, পরিশ্রমে, ডেডিকেশন, সততায় ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। আমরা যে সোসাইটি বিলং করি, সেখানে ছেলে অ্যাক্টররা অভিনয়ে, রেমুনারেশনে আমাদের ডমিনেট করে। ছেলেরা যে অনেক বেশি ডিসিপ্লিনড, তা নয়। যখন একটা ছেলের পরিচিতি বাড়ে, তখন সে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেয়, ভালো চরিত্র পায়। কিন্তু একটা মেয়ের ক্ষেত্রে ভালো চরিত্র পাওয়া কঠিন।’