জোর নেই প্রচারে
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৪ এএম
দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে একাধিক ছবি, কিন্তু জোর নেই প্রচারে
একসময় দুর্গাপূজা ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির অন্যতম মৌসুম। তখন উৎসব ঘিরে হলে হলে জমত দর্শকের ভিড়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে; নির্মাতা ও প্রযোজকদের মনোযোগ এখন একেবারেই ঈদকেন্দ্রিক। তবুও এবারের দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে একাধিক ছবি, যদিও প্রচারের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি।
অসুস্থ মাকে নিয়ে সাবা নামের এক মেয়ের সংগ্রামের গল্পে নির্মিত হয়েছে সাবা সিনেমা। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয় সাবার। এরপর বুসান, রেড সি, গোথেনবার্গ, সিডনি, রেইনড্যান্সসহ প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এটি। এবার দেশের দর্শকের দেখার পালা। তবে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর তাগিদ হয়তো কম নির্মাতাদের। কারণ, প্রচারে একেবারেই গতি নেই।
গত বছর ডিসেম্বরে ‘প্রিয় মালতী’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল মেহজাবীনের। সে সিনেমার প্রচারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ক্যাম্পেইন করতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। সিনেমা নিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, নিজ হাতে পোস্টার লাগাতেও দেখা গেছে তাকে। তবে এবার তেমন কিছুই চোখে পড়েনি। যেটুকু প্রচার হচ্ছে, তা শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই আটকে আছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’, মাকসুদ হোসেনের ‘সাবা’ এবং এসএম শফিউল আযমের ‘উদীয়মান সূর্য’। তবে সিনেমাগুলোর পোস্টার, ট্রেলার বা টিজার প্রকাশসহ সব ধরনের আয়োজনেই ছিল স্বল্পতা।
প্রেমের গল্প নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বানিয়েছেন স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা। কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে আছেন আদর আজাদ ও নিশাত নাওয়ার সালওয়া। তবে সিনেমার প্রচারে পাওয়া যায়নি নায়ক-নায়িকার কাউকেই। একাই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নির্মাতা। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে হয়েছিল স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা সিনেমার শুটিং। এক বছর পর ২০২১ সালে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পায়। অবশেষে ছাড়পত্র পাওয়ার চার বছর পর আলোর মুখ দেখছে সিনেমাটি। আদর-সালওয়া ছাড়া এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলীরাজ, মারুফ আকিব, রেবেকা প্রমুখ।
উদীয়মান সূর্য নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গল্পে। লিনেট ফিল্মসের প্রযোজনায় সিনেমার কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করছেন এসএম শফিউল আযম। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাদমান সামীর ও কান্তা নুর। আরও অভিনয় করেছেন শিশির আহমেদ, তামান্না জুলি, ওবিদ রেহান, সাজ্জাদ সাজু, আনোয়ার সিরাজী প্রমুখ। এ সিনেমার প্রচারের অবস্থাও নাজুক।
এদিকে দুর্গাপূজার পরপরই আগামী ৩ অক্টোবর মুক্তি পাবে ‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’। করোনা-পরবর্তী সময়ে রিফ্রেশমেন্টের জন্য কুয়াকাটায় বেড়াতে যাওয়া কয়েকটি ব্যাচেলর গ্রুপকে নিয়ে এই সিনেমার কাহিনী। বানিয়েছেন নাসিম সাহনিক। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আব্দুন নূর সজল, শিরিন শিলা, কায়েস আরজু, কচি খন্দকার, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ। এ সিনেমাও পিছিয়ে আছে প্রচারে। হাতে সময় আছে মাত্র এক সপ্তাহ। এখন পর্যন্ত নির্মাতা একাই সিনেমার প্রচারে নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রচারে দেখা যায়নি সিনেমার অভিনেতা আব্দুন নূর সজল, শিরিন শিলাদের।
ঈদকেন্দ্রিক মুক্তিই যেন এখন দেশের সিনেমার মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকের মনে গেঁথে গেছে- ঈদ ছাড়া সিনেমা হিট হয় না। কিন্তু দীর্ঘদিনের মন্দার বাজারে প্রচারবিহীন কোনো সিনেমা হলে নামানো আসলেই কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। প্রচারের ঘাটতি যেমন সিনেমার জন্য বিপজ্জনক সংকেত, তার চেয়েও ভয়ংকর হলো সম্পূর্ণ নীরবে মুক্তি দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঈদে নয়Ñ যথাযথ প্রচারণা চালিয়ে দর্শকের আগ্রহ জাগাতে পারলে অন্য সময়েও সিনেমা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে পারে।