প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২৫ এএম
জাফর ইকবাল
আশির দশকের তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের নায়ক ছিলেন জাফর ইকবাল। ফ্যাশন, স্টাইল আর আবেগী ব্যক্তিত্বে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে। ১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে জন্ম নেওয়া এই তারকা বেড়ে উঠেন সাংস্কৃতিক পরিবারে।
গান দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও অভিনয় ও স্টাইলের জন্য তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে অমর। ১৯৬৬ সালে বন্ধু তোতা, মাহমুদ ও ফারুককে নিয়ে গঠন করেন ব্যান্ড গ্রুপ ‘রোলিং স্টোন’। তার সিনেমায় প্রথম প্লে-ব্যাক করা গান ছিল তার ভাই আনোয়ার পারভেজের সুরে নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘বদনাম’ ছবিতে। প্রথম গান করেন ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও/আমি তো এখন আর নই কারও’। জাফর ইকবালের কণ্ঠে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, প্রথম প্লে-ব্যাকেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান এই অভিনেতা।
এরপর সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করিয়েছিলেন। তার জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনি’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’ অন্যতম। নিজের কণ্ঠে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের যুগে ‘সুখে থাকো নন্দিনী’ গানটি গেয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর উদযাপন বিশেষ অনুষ্ঠানে গেয়েছিলেন ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি।
জাফর ইকবাল নায়ক হিসেবে সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৬৯ সালে। সিনেমার নাম ছিল ‘আপন পর’। জাফর ইকবালের সঙ্গে ববিতার জুটি সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছিল। তারা একসঙ্গে প্রায় ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। জাফর ইকবাল সর্বমোট ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলোÑ অবুঝ হৃদয়, ভাই বন্ধু, অবদান, প্রেমিক, সাধারণ মেয়ে, ফকির মজনু শাহ, দিনের পর দিন, বেদ্বীন, অংশীদার, মেঘ বিজলী বাদল, নয়নের আলো, সাত রাজার ধন, আশীর্বাদ, অপমান, এক মুঠো ভাত, গৃহলক্ষ্মী, ওগো বিদেশিনী, নবাব, প্রতিরোধ, ফুলের মালা, সিআইডি, মর্যাদা, সন্ধি, বন্ধু আমার, উসিলা ইত্যাদি। তবে কেবল অভিনয় কিংবা গানে নয়, জাফর ইকবাল অমর হয়ে আছেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্যও। সশরীরে তিনি লড়েছিলেন পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জাফর ইকবাল।