× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাজির সুরে বাজিমাত

অভ্র বড়ুয়া

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:০৫ পিএম

ইমন চৌধুরী

ইমন চৌধুরী

কোক স্টুডিও বাংলার বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় মৌসুমের চতুর্থ গান হিসেবে সম্প্রতি প্রকাশিত হলো সুরের নতুন মহাকাব্য ‘বাজি’। এখানে একসঙ্গে দ্যুতি ছড়িয়েছে পাহাড়ি-আদিবাসী সুরের রঙ ও শহুরে লোকসংগীতের অনন্য ঢং। বৈচিত্র্যের সেতুবন্ধ রচনা করে এই গান যেন আবারও প্রমাণ করল সংগীতই পারে সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে এক হয়ে উঠতে। ‘বাজি’ যেন বাংলাদেশের বহুস্বরিক আত্মারই উজ্জ্বল প্রতিধ্বনি। গানটির সুরারোপ ও সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন এ সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান শিল্পী ইমন চৌধুরী এবং তার সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে রয়েছেন হাশিম মাহমুদ, যিনি একাধারে একজন গীতিকার ও সুরকারও। ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে ‘বাজি’ যেন হয়ে উঠেছে এক বর্ণিল সুরভূমি, যেখানে বৈচিত্র্যময় লোকজসংগীতের রঙ, উপজাতীয় বাদ্যযন্ত্রের অপার্থিব মাধুর্য আর প্রাণশক্তিতে ভরপুর লোকশিল্পের ধ্বনি একসঙ্গে একাত্ম হয়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য সংগীতানুভূতি। বাজি সৃষ্টির পেছনে যে গল্প রয়েছে তা নিয়ে সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অভ্র বড়ুয়া। 

‘বাজি’ নামটির পেছনে কী ধরনের দার্শনিক ও সৃজনশীল চিন্তা কাজ করেছে?

আমার কাছে বাজি গানটি এ সময়ের বাংলা গানের এক অসাধরণ, বিস্ময়কর সৃষ্টি বলে মনে হয়। আমাদের সবার প্রিয়, শ্রদ্ধার মানুষ, গুণী শিল্পী হাশিম মাহমুদ ভাইয়ের আরেক অনবদ্য সৃষ্টি। ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’-এ গানটির নামকরণে ‘বাজি’ গানের সৃষ্টি। এক সাধারণ নারীর নিষ্পাপ ও কোমল প্রেমের গল্প, যেখানে অপার্থিব মায়া মিশে গেছে সহজ আবেগের স্রোতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কণ্ঠ ও সুরের মেলবন্ধন গানটিকে দিয়েছে এমন এক সর্বজনীন রূপ, যা প্রেমের চিরন্তন অনুভূতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলে।

গানটির সুর ও বাদ্যযন্ত্রে আদিবাসী সুর ও আধুনিক ধ্বনিকে মেলাতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন?

চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। একেকটা এক এক ধরনের মিউজিক। এক এক ধরনের প্রেজেন্টেশন। পাহাড়ের এক রকম সুর আবার আমাদের সমতলের আরেকরকম সুর। মণিপুরিদের এক রকম সুর আবার আমাদের মারমাদের ভিন্ন রকম সুর। যেমন ধুয়া গানের সঙ্গে ভিন্ন সুর সম্পৃক্ত করা। উল্লেখ্য, ‘আসমানে তোর ছায়ারে কন্যা’ অংশটি সংযুক্ত করা। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি প্রতিটি গান কিংবা সুরের যে মূলধারা বা উৎস তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। আসল সুর অক্ষুণ্ন রেখে আমরা পুরো দল চেষ্টা করেছি সুরের যে ট্রানজিশন তা যেন মসৃণ হয়। চেষ্টা করেছি যেন সুরের ধারাটা সুন্দর ও স্নিগ্ধ ফুলের মালার মতো গাঁথতে পারি।

ম্যান্ডোলিন, গিটার ও কণ্ঠ- এই তিনটিকে একসঙ্গে প্রযোজনায় মেলানোর মূল কৌশল কী ছিল?

সুরের প্রতিটি ধারায় থাকতে পারা আমার ভালো লাগা, ভালোবাসা। এই গানটিতে সংগীত পরিচালক হিসেবে থাকতে পারাটাও আসলে আমার জন্য অনেক আনন্দের। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারাটা অসাধারণ সব মিউজিশিয়ানের সঙ্গে কাজ করতে পারাটাও ভীষণ আনন্দের। ম্যান্ডোলিন, গিটার আর কণ্ঠ এরা তিন ভিন্ন চরিত্রের মতো। ম্যান্ডোলিনের সুর খুব স্বচ্ছ, যেন পাহাড়ি ঝরনার মতো; গিটার দিয়েছে গানের দেহে ছন্দ ও গতি আর কণ্ঠ হয়ে উঠেছে সেই আবেগের বাহক, যা পুরো গল্পকে বেঁধে রাখে। আমি চেষ্টা করেছি যেন তারা কথোপকথনের মতো একে অপরকে উত্তর দেয়, আর শ্রোতা শুনে অনুভব করতে পারে সেই আলাপচারিতা। আমরা প্রথম থেকে চাইছিলাম যেন পাহাড়, সমতল, নদী, সাগর মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। গান শুনে যেন মনে হয় পুরো বাংলাদেশটাকে আমরা চোখের সামনে দেখছি, অনুধাবন করছি।

আপনার কাছে ‘ভালোবাসার সুর’ বলতে কী বোঝায় এবং তা কীভাবে শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন?

আমার কাছে ভালোবাসার সুর হলো যা আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সৃষ্টি করি। আর একটা বিষয় আমি প্রত্যক্ষ করেছি, কোনো গান যদি মন থেকে তৈরি করা হয়, মনের সুরগুলো যদি আসলে প্রকাশ করি কেউ না কেউ, কোনো না কোনোভাবে সেই সৃষ্টির সঙ্গে নিজেদের কানেক্ট করে। আর এটাই ভালোবাসার সুর।

গানটির প্রযোজনার সময় এমন কোনো মুহূর্ত কি ছিল, যা আপনাকে গভীরভাবে আবেগতাড়িত করেছে?

আসলে বাজি গানটার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের আবেগের একটা সংযুক্ততা ছিল। এ গানে যারা যারা ছিলেন সবাই আসলে নানা জায়গা থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। যেমন একটা কথা বলতে চাই যে, পাহেড়ের গুণী বংশীবাদক ক্যউপ্রু মারমা, তার নানিও অংশ নিয়েছেন আমাদের সঙ্গে। যেহেতু ক্যউপ্রুর নানি আমরাও সবাই নানি বলে ডাকি। প্রথম যখন নানির কণ্ঠ শুনি, যেটা (বাজি গানের একদম শুরুতে ব্যবহৃত হয়েছে) আমি সেসময় পাহাড়ে হারিয়ে যাই। পাহাড়ের সেই সুর যা সময়ের বিবর্তনে মানুষ হারাতে বসেছে। আমার ভীষণ অদ্ভুত লেগেছিল। পাহাড়েই এই গান এখন অশ্রুত। আমি চাইছিলাম উনিও আমাদের সঙ্গে কোক স্টুডিওতে যুক্ত হন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উনি যে এলাকায় থাকেন সেখান থেকে বান্দরবানের মূল শহরে আসতে এক দিন লাগে। উনি কখনও ঢাকায় আসেননি। উনার বয়স ষাটোর্ধ্ব। যখন আমরা উনার খবরটা পাই প্রায় তার ঠিক দুদিন পর ছিল আমাদের শুট। এখন উনাকে কীভাবে আনি ঢাকায়? সিদ্ধান্ত হলো ক্যউপ্রুর মা নানিকে ঢাকায় নিয়ে আসবেন। মজার বিষয় ক্যউপ্রুর মাও কখনও ঢাকায় আসেননি।তাঁরা দুজন বান্দরবান শহরে আসেন, তারপর আমরা ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করি। তারা দুজন অজানা এক পথে আমাদের কোক স্টুডিওর উদ্দেশে যাত্রা করেন। নানি ভালোবেসে আমাদের জন্য উনার জুমচাষের সবজি, ফল এবং আমার মেয়ের জন্য কিছু মাথার ক্লিপ, রাবার ব্র্যান্ড নিয়ে আসেন। উনার আন্তরিকতা ও সরলতা আসলেই আমাকে মুগ্ধ করে। ধুয়া গানের শিল্পীরাও অনেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আসেন। যারা মূলত ইটভাটায় কাজ করেন। শুটিং শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় তারাও অনেক কান্নাকাটি করেছেন। বলছিলেন যে, বাবা বাঁচি-মরি তোমাদের সঙ্গে আবার কবে যে দেখা হয়, জানি না। তোমরা অনেক ভালো মানুষ। তোমাদের জন্য দোয়া করে গেলাম। পুরোটা সময় তারা আমাদের ভালোবেসে ছিলেন। আর হাশিম ভাই যেদিন প্রথম আমাদের সঙ্গে স্টেজে ওঠেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের ছিল, আবেগের ছিল। উনি আমাদের অনেক সুন্দর সুন্দর গান উপহার দিয়েছেন। উনার মতো গুণী একজন মানুষের সঙ্গে স্টেজ ভাগ করে নিতে পারাটাও পরম সৌভাগ্যের। 

বাংলাদেশের আদিবাসী সংস্কৃতিকে আপনি কীভাবে এই গানে সম্মান জানিয়েছেন এবং এই বহুত্ববাদী ঐতিহ্য থেকে আপনার ব্যক্তিগত অর্জন কী?

আদিবাসী সংস্কৃতি তো আমাদের এই মাটিরই সংস্কৃতি। আদিবাসীদের প্রতি আমার সব সময়ই ভালোবাসা কাজ করে। কারণ আসলে উনাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষাকে যেভাবে আগলে রাখে তা আমাদের শেখার বিষয়। শুধু তারা রক্ষা করেন না, বরং নিজেদের মধ্যে লালন করেন, যাপন করেন। আমরা প্রথম থেকেই চাইছিলাম যে, এমন একটা গান করতে যা পাহাড়, সমুদ্র, নদী, সমতল ও এর মানুষকে মোটামুটিভাবে যতটুকুই পারি না কেন, এক করা। একটা মালায় ফুলের মতো গাঁথা। যেমন আমাদের মারমা গান, আদিবাসীদের বম বা ওই সম্প্রদায়ের বাঁশনৃত্য। মজার বিষয় আমাদের মণিপুরি পুং চোলোম নামক একটা নৃত্যধারা ও সংগীতধারা রয়েছে, খুবই থিয়েট্রিকেল মুডে পরিবেশনা করা হয়। সেই সঙ্গে আমাদের ধুয়া গানের দল, শত বছরের পুরনো একটা ঐতিহ্য। এ রকম খুবই মজার মজার গানের ঘরানাকে এক করা এবং তাদের সঙ্গে থাকা, তাদের সরলতা শেখা আমার জীবনের পরম পাওয়া। ছোট একটা দেশ, কিন্তু কী বৈচিত্রময়! যা আমাকে মুগ্ধ করে, ভাবায়। আর এ ধরনের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের।

বাঁশনৃত্য ও মণিপুরি পুঙ্গ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধারার নৃত্যরূপ। এই দুটিকে একই মঞ্চে মেলাতে গিয়ে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন?

মণিপুরি নৃত্য এবং বম সম্প্রদায়ের বাঁশনৃত্য দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। এই দুই ঘরানাকে আসলে এক মুডে আনা আমার জন্য খুব কঠিন কাজ ছিল। আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে সফলভাবে দুটো ভিন্নধারার নৃত্যরূপকে মেলাতে পেরেছি মসৃণভাবে এবং আমরা কোনোভাবেই চাইনি যে, নৃত্যধারার আসল রূপ পরিবর্তন করতে।

‘ধুয়া গান’ টিমের উপস্থিতি গানটিতে একধরনের লোকঐতিহ্যের ঘ্রাণ এনেছে। কীভাবে এই অংশটিকে পুরো কম্পোজিশনের সঙ্গে একীভূত করা হলো?

ধুয়া গান নিয়ে আসলে আমার তেমন জানা-শোনা ছিল না। এক দিন আমার আব্বু মতিউর রহমান চৌধুরী উনি নজরুল একাডেমি নরসিংদী জেলা শাখার প্রিন্সিপাল, উনি আমাকে একটা ভিডিও পাঠান তাতে দেখলাম ১০-১৫ জন নৃত্য করে উঠানে ঘুরছে। উনি বললেন, ছোটবেলায় আমরা অনেক দেখেছি, এখন তো দেখা যায় না। তোমাকে পাঠালাম, হয়তো কাজে লাগতে পারে। আমি তো দেখে বিস্মিত! এই জিনিস আমাদের আশপাশে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম যে, টাঙ্গাইল এলাকায় এ রকম কয়েকটা দল এখনও আছে। আগ্রহ প্রকাশ করলে উনারা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি আমরা তাদের এ রকম একটা জায়গায় ডাকব। কেউ ইটের ভাটায় কাজ করেন, কেউ অটো চালান, রিকশা চালান এ রকম। উনাদের সরলতা দেখে আমি বিস্মিত হই। আমার প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিল আসলে ‘কথা কইয়ো না’ গানটার জবাব যেন আসলে ‘বাজি’ সিক্যুয়েলের মতো হয়, এর আগে যেমন ‘বারো মাসে বারো ফুল রে’Ñ এটা মহিলারা গ্রামের গীতের মতো করে উঠানে বসে গেয়েছিল এ রকম একটা অনুভূতি ছিল। কিন্তু আমাদের দেশে গ্রামে যখন পুরুষরা এ ধরনের গান গায় ওরা আসলে উঠানে নেচে নেচে গান গায়, তাই ওটার একটা জবাব আমি দিতে চেয়েছিলাম। ওই সময় লিরিক্স খুঁজছিলাম। কারণ ধুয়া গানের এই ফরমেটে আসলে আমাদের একটা নতুন গান বানানোর দরকার ছিল। আমার কাছে একটা বই ছিল জালাল উদ্দিন খাঁর। কয়েকটা পঙক্তি আমাকে খুব আবেগতাড়িত করে। ওই পঙক্তিগুলো নিয়ে নতুন একটা গান করি ‘আসমানে তোর ছায়া রে কন্যা’ যেটা আমার সুরে আর জালাল উদ্দিন খাঁর লেখা। ধুয়া গানে ফেলার পর পঙক্তিগুলো অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। এভাবে আসলে ধুয়া গানের কম্পোজিশন করা হয়। 

ঢাকা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার শিল্পীদের (ভায়োলিন, ভায়োলা, সেলো) অন্তর্ভুক্তি গানটিকে যেন আরও মহাকাব্যিক করে তুলেছে। লোকসংগীতের সঙ্গে ক্লাসিক্যাল অর্কেস্ট্রেশন মেলাতে গিয়ে কোনো নতুন দিক খুঁজে পেয়েছেন?

আমি সব সময় কম্পোজিশনে স্ট্রিং সেকশন বা অর্কেস্ট্রার বিষয় রাখতে চাই। চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা ছিল, চলচ্চিত্রের মিউজিক করি বা বিজ্ঞাপনের মিউজিক করি। গানে অর্কেস্ট্রা বা স্ট্রিং-এর ব্যবহার আমি মনে করি গানকে সিনেমাটিক করে। আমরা চেয়েছি বাজি গানটা একটু থিয়েট্রিক্যাল মুড, লোক এবং ফিউশনের ধাঁচে হোক। যেমন ‘কথা কইয়ো না তেও’ আমরা স্ট্রিং সেকশনের ব্যবহার করেছি। স্ট্রিং সেকশন বাজি গানকে অনন্য নাটকীয়তায় নিয়ে গেছে। ঢাকা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার শিল্পীদের আমার অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তারা অসাধারণ কাজ করছেন। একটা দেশে অর্কেস্ট্রা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আসলে দুরূহ ব্যাপার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরেকটু জটিল বিষয়টা। এ রকম জায়গায় অর্কেস্ট্রা গড়ে তোলা, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার। ঢাকা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা আরও বহুদূর যাবে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

আপনার কাছে সংগীত কি কেবল শিল্প, নাকি সামাজিক দায়বদ্ধতারও বহিঃপ্রকাশ?

সংগীত আমার কাছে কেবল সংগীত না। কিছু কিছু গান আমি আসলে খুব ভালোবেসে এমনিতে করি। আর বড় কোনো পরিসরে কাজ করতে গেলে আমার একটা চেষ্টা থাকে যে, দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরা। ছোট একটা দেশে এত বৈচিত্র্যতা তা সবার দেখা উচিত। আমরা যদি আমাদের দেশের শিল্প, সংস্কৃতিকে তুলে না ধরি, তাহলে কে তুলে ধরবে? এটা আমাদের দায়িত্ব। আর হ্যাঁ এই দায়বদ্ধতা আমি অনুভব করি। আমার ভীষণ ভালো লাগে যে, দেশটার মধ্যে কত সুর, ভাষা, ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে। যা থেকে নিজেও অনেক কিছু শিখতে পারি।

বাজি কি ভবিষ্যতে আপনার আরও বহু সাংস্কৃতিক সংগীত প্রযোজনার দিকনির্দেশক হয়ে দাঁড়াবে?

আমি এমন একটা গান করতে চেয়েছি, যেখানে বাংলাদেশটাকে চোখের সামনে তুলে ধরতে পারব। বাংলার নদী, সমুদ্র, চা বাগানের মানুষদের এক করা, সবাইকে তো আর সম্ভব না। চেষ্টা করি যতটুকু পারা যায়। যেন একটা গান শুনে ও দেখে মানুষ বলতে পারে বাহ্, এখানে তো বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি। কোক স্টুডিওকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার স্বপ্নের সঙ্গে ছিল তারা। আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার জন্য। নানা সুর শুনে ও জেনে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হই, নানা কিছু শিখি। আরও নতুন নতুন কাজ নিয়ে অবশ্যই আসব। 

তরুণ প্রজন্মকে যদি বার্তা দিতে চান, এই গানের অভিজ্ঞতা থেকে সেটি কী হবে?

আমি তরুণদের বলতে চাই, নিজেদের সংস্কৃতি ও শিকড়কে ভালোবাসতে শিখুন। আমরা যত বৈচিত্র্যময়, তত শক্তিশালী। বাজিতে আমি দেখেছি পাহাড়, সমতল, শহর, গ্রাম সব জায়গার মানুষ, ভাষা আর সুর একসঙ্গে মিললে কী অসাধারণ কিছু সৃষ্টি হয়। তাই আমার বার্তা ভিন্নতাকে আলিঙ্গন করুন, বৈচিত্র্যকে শক্তি বানান। কারণ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি আপনারাই আর আপনাদের হাতেই ভবিষ্যতের সংগীত, সংস্কৃতি ও সমাজ গড়ে উঠবে। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা