প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৪ পিএম
জয়া আহসান
দুই বাংলার জনপ্রিয় তারকা জয়া আহসান গত রবিবার কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। আগামী দিনে সমাজমাধ্যমে নেটপ্রভাবীদের যে গুরুত্ব বাড়তে চলেছে, সে কথাও জানাতে ভুলেননি জয়া।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে জয়া জানিয়েছেন, তার নিজের দেশকে নিয়ে অনেক ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। দুই বাংলার জনপ্রিয় তারকা জয়া আহসান গত রবিবার কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
আগামী দিনে সমাজমাধ্যমে নেটপ্রভাবীদের যে গুরুত্ব বাড়তে চলেছে, সে কথাও জানাতে ভুলেননি জয়া। ভারতীয় গণমাধ্যমকে জয়া জানিয়েছেন, তার নিজের দেশকে নিয়ে অনেক ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। নইলে আমরা বেঁচে আছি কী করে?’

বিনোদন দুনিয়া কি আগামী দিনে অনুসরণকারীদের সংখ্যার ওপরেই নির্ভর করবে, এমন প্রশ্নে জয়ার সাফ জবাব, ‘আমি তো তেমনটা মনে করি না।’
এরপর জয়া বললেন, আমার অভিনয় কিন্তু আমার অনুসরণকারীদের ওপর নির্ভর করে না। পরিচালকদের চোখে আমার অভিনয়ের ভালো-মন্দও এসব কিছুর ওপর নির্ভর করে না। শুধু আমার বলে নয়, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর কাজের মাপকাঠি তাদের অনুসরণকারী দেখে বিচার করা হয় না। তার মতে, যেহেতু মানুষের জীবনে সমাজমাধ্যমের প্রভাব যথেষ্ট, তাই হয়তো ইদানীং এই দিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। ছবির নায়িকা সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হলে ছবির বাণিজ্যও বাড়বে।

এই প্রসঙ্গে জয়ার আরও উপলব্ধি, কয়েক মিনিটের ভিডিওতে নেটপ্রভাবী যে অভিনয় করছেন সেটাই সেরা। কিন্তু ছবিতে অভিনয় করতে গেলে তাকে লম্বা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই প্রস্তুতি না থাকলে অভিনেত্রী হওয়া সম্ভব নয়।
দুই নারীর অন্য রকম সম্পর্কের গল্প নিয়েই পিপলু আর খানের ‘জয়া আর শারমিন’। সিনেমাতেও তিনি জয়া আহসান। একা থাকেন। তবে সেই সিনেমার জয়া বাস্তবের জয়ার কাছ থেকে কতটুকু নেওয়া হয়েছে, সেই রহস্য ভাঙেননি কেউ। গত মে মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটিতে জয়া আহসানের অভিনয় প্রশংসিত হয়। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকায় মুক্তি পাওয়া দুই সিনেমা ‘উৎসব’ ও ‘তাণ্ডব’ দিয়ে আলোচনায় ছিলেন জয়া।

জুনের প্রথম সপ্তাহে জোড়া চমক নিয়ে হাজির হন অভিনেত্রী। ঈদে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’ এবং তানিম নূরের ‘উৎসব’। প্রথমটি দিয়ে দীর্ঘদিন পর পুরোমাত্রার বাণিজ্যিক সিনেমায় ফেরেন জয়া, শাকিবের সঙ্গে তাকে পর্দায় দেখা যায় প্রায় ১০ বছর পর। সাংবাদিক সায়রার চরিত্রে জয়া ছিলেন দুর্দান্ত। নায়িকা না হয়েও তিনি এ সিনেমায় যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। অন্যদিকে ভূত হয়ে হাজির হয়েছেন উৎসব-এ, স্বল্প উপস্থিতিতেও যেভাবে নিজের জাত চিনিয়েছেন, সেটা ছিল দেখার মতো। দুই বাংলায় নানা ধরনের চরিত্র করলেও মায়ের চরিত্রে জয়াকে দেখা যায়নি। গত জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ‘ডিয়ার মা’ সিনেমায় সেটাও করলেন। কলকাতার সমালোচকরা এটিকে চলতি বছরের অন্যতম সেরা বাংলা সিনেমার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
সিনেমায় জয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা এক কেরিয়ারিস্ট মেয়ে থেকে দাম্পত্যের চেনা ছকের বাইরে হাঁটতে চাওয়া স্ত্রী কিংবা দত্তক সন্তানকে সহজভাবে ভালোবাসতে না পারা থেকে মেয়েকে আঁকড়ে বাঁচতে চাওয়া এক একলা মা— জয়া যেন নিজেকেই ছাপিয়ে গিয়েছেন এক ভূমিকা থেকে অন্য ভূমিকায়।’ এরপর ১ আগস্ট মুক্তি পায় ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’; মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে সুমন মুখোপাধ্যায়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা। জয়া এতে কুসুম। মুক্তির পর তার অভিনীত সিনেমা ও চরিত্র দুটোই প্রশংসা পাচ্ছে। ৪ মাসে ৫ চরিত্রে জয়া যেন নিজেকে নিজেই ছাড়িয়ে গেছেন।
জয়া আহসান বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সমাজ সচেতন ইস্যুতেও মুখ খুলছেন, যা দুই বাংলায় প্রশংসিত হচ্ছে।