গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০১ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৮ পিএম
ফিরোজা বেগম (২৮ জুলাই ১৯৩০-৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪)
নজরুলসংগীতকে এক বিশেষ মাত্রায় যিনি নিয়ে গেছেন কণ্ঠমাধুর্যের মায়াময় সুরে, তিনি ফিরোজা বেগম। এক্ষেত্রে তিনি ভারত উপমহাদেশে অদ্বিতীয়। বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। ভারতীয় উপমহাদেশে এই গুণী শিল্পী নজরুলসংগীতের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই তৎকালীন ফরিদপুর জেলায়। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মা বেগম কওকাবুন্নেসা। শৈশবেই তার সংগীতের প্রতি অনুরাগ জন্মে।
চল্লিশের দশকে তিনি সংগীত ভুবনে পদার্পণ করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৪২ সালে গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এই রেকর্ড প্রকাশের মাধ্যমে কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে ফিরোজা বেগমের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রপাত।
১০ বছর বয়সে তিনি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করেন। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। গ্রামোফোন কোম্পানি তার কণ্ঠে নজরুলের গানের প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। প্রকাশিত রেকর্ডে ফিরোজা গাইলেন সর্বকালের জনপ্রিয় দুটি গান ‘দূরদ্বীপবাসিনী’ আর ‘মোমের পুতুল’। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি ৩৮০টির বেশি একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তার কণ্ঠে গীত- ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী’, ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’, ‘নূরজাহান’, ‘চাঁদ সুলতানা’, ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার’, ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি’, ‘আমি চিরতরে দূরে সরে যাব’ নজরুলের এমন কালজয়ী গান অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়।
নজরুলসংগীত ছাড়া তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ, নাতসহ বিভিন্ন ধরনের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। শিল্পচর্চায় অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি একুশে পদক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নজরুল একাডেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
ফিরোজা বেগম স্মরণে ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিরোজা বেগম স্বর্ণপদক’ প্রবর্তন করা হয়। ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ওই হাসপাতালেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণ দিবসে রইল শ্রদ্ধাঞ্জলি।