প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪০ এএম
সাবিনা ইয়াসমীন
বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমীন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠে বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের সুর গেঁথে আছে। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ (৪ সেপ্টেম্বর)। বিশেষ এ দিনটি উপলক্ষে চ্যানেল আইতে বসেছিল তারকার মেলা। থাকছে বিশেষ ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠান। যেখানে শিল্পীকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন সংগীতের দুই গুণী ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হাদী ও কনকচাঁপা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সিনেমার পরিচালক মতিন রহমান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।
‘তারকা কথন’-এ উঠে এসেছে সাবিনা ইয়াসমিনের শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প, ছেলেবেলার স্মৃতি, সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক, গান তৈরির কথা। তিনি বলেছেন প্রথম সিনেমার প্লেব্যাক এবং শিল্পীজীবনে জন্মদিন উদযাপনের নানা ঘটনা। জানা যায়, অনুষ্ঠানটি গত ২৬ আগস্ট চ্যানেল আই স্টুডিওতে ধারণ করা হয়েছে। আজ সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন উপলক্ষে এই বিশেষ ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে ১২টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে। পরিচালনা করেছেন অনন্যা রুমা। মাত্র সাত বছর বয়সে প্রথমবার মঞ্চে গান করেন সাবিনা ইয়াসমীন। ১৯৬২ সালে রবীন ঘোষের সুরে ছোটদের জন্য গান গেয়ে সংগীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন। একই বছর এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে গান করেন।
আর ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন। এরপর একে একে হয়ে ওঠেন বাংলা গানের অপরিহার্য কণ্ঠস্বর। কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী গত পাঁচ দশকে ১৪ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গেয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান। সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে : ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা’, ‘এ সুখের নেই কোনো সীমানা’, ‘বরষার প্রথম দিনে’ ও ‘আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা’।
তার দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে রয়েছে : ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘মাঝি নাও ছাড়িয়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ’ ও ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৪ বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার।