গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৩ পিএম
উত্তম কুমার (১৯২৬-১৯৮০)
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামটি উচ্চারিত হলেই একটিই মুখ ভেসে ওঠেÑ উত্তম কুমার। সুদর্শন চেহারা, অনন্য ব্যক্তিত্ব, চোখের ভাষায় অভিনয় এবং অসামান্য প্রতিভা দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়। যার অবস্থান আজও অদ্বিতীয়। আজ, ৩ সেপ্টেম্বর, সেই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিন।
১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার আহরিটোলায় জন্ম নেন অরুণকুমার চ্যাটার্জি, যিনি পরবর্তীতে পরিচিত হন উত্তম কুমার নামে। তার চলচ্চিত্রযাত্রার শুরুটা খুব উজ্জ্বল ছিল না। ১৯৪৭ সালে ‘মায়াডোর’ সিনেমায় এক্সট্রা আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেলেও দর্শকের নজর কাড়তে পারেননি। পরের বছর ‘দৃষ্টিদান’-এও তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। অবশেষে ১৯৪৯ সালে ‘কামনা’ সিনেমায় নায়ক চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করলেন ছবি রায়ের বিপরীতে। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়।
সেখানেই শেষ নয়, টানা আট বছরে আটটি ছবি করলেন, সবকটিই ফ্লপ। সেই কারণে তিনি পেলেন ‘ফ্লপ মাস্টার’-এর তকমা। কিন্তু সময় থেমে থাকেনি। সেই ব্যর্থ নায়কই পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় নায়কÑ ‘হিট মাস্টার’।
১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-ই ছিল তার ভাগ্য পরিবর্তনের মোড় ঘোরানো ছবি। সেখান থেকেই শুরু তার উত্থান। ১৯৫৪ সালে শুধু এক বছরেই অভিনয় করেছিলেন ১৪টি সিনেমায়, যার বেশিরভাগই পেয়েছিল বাণিজ্যিক সাফল্য।
উত্তম কুমার কেবল রোম্যান্টিক নায়কই নন; তিনি ছিলেন দুই বাংলার মায়েদের বাধ্য সন্তান, বোনদের নির্ভরযোগ্য ভাই, ভাবিদের প্রিয় দেবর এবং প্রেমিকাদের স্বপ্নের মানুষ। আর সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি এখনও দর্শকের কাছে কালজয়ী। আজও সেই জনপ্রিয়তার ছায়া ছুঁতে পারেনি অন্য কোনো জুটি। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে প্রায় ২০৯টি ছবিতে অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল দর্শকনন্দিত ও ব্যবসা সফল। তার অভিনীত মনে রাখার মতো কয়েকটি বিখ্যাত সিনেমাÑ পথে হলো দেরি, শিল্পী, সাগরিকা, হারানো সুর, দেয়া নেয়া, সপ্তপদ, অগ্নিপরীক্ষা, শহরের ইতিকথা, পৃথিবী আমারে চায়, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, মায়ামৃগ, থানা থেকে আসছি, কুহক, ইন্দ্রানী, সবার উপরে, এন্থনি ফিরেঙ্গি, অপরিচিতা, নায়ক, চিড়িয়াখানা, ধন্যি মেয়ে, জীবন-মৃত্যু প্রভৃতি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মারা যান এই মহানায়ক।