প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১২:১১ পিএম
বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। যার সমাপ্তি হয় ৫ আগস্ট তথা ৩৬ জুলাই। বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় চলছে মাসব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় গতকাল মঙ্গলবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গতকাল বেলা ১১টা থেকেই লোকজন আসতে শুরু করেন অনুষ্ঠানস্থলে। ১২টার দিকে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।
শুরুতে সাইমুম শিল্পীরা ওস্তাদ তোফাজ্জেল হোসেনের লেখা দেশের গান ‘এই দেশ আমার বাংলাদেশ, আমার ভালোবাসা’ গানটি পরিবেশন করেন।
তারা একে একে পরিবেশন করেÑ এই দেশ আমার বাংলাদেশ, আয় তারুণ্য আয়, জীবনের গল্প, ওমা আর কেঁদো না, যাদের জন্য পেলাম আবার নতুন বাংলাদেশ, জারিগানসহ ইসলামিক সংগীত। এরপর কলরব শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করেÑ তোমার কুদরতী পায়ে, দে দে পাল তুলে দে, ধন ধান্য পুষ্পভরা, ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি ও দিল্লি না ঢাকা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে একে একে সংগীত পরিবেশনা করেন ব্যান্ড ও শিল্পীরা। কণ্ঠশিল্পী নাহিদ পরিবেশন করেন পলাশীর প্রান্তর ও ৩৬ জুলাই। এরপর নোঙর তোল তোল, তুমি প্রিয় কবিতা, কারার ঐ লৌহ কপাট, চল চল ও ধন ধান্য পুষ্পভরাÑ গানগুলো পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী তাশফি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক জুলহাজ্জ জুবায়ের ও সারা আলম।
বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ছিল বেসিক গিটার লার্নিং স্কুলের পরিবেশনা। ৫টা ৫০ মিনিটে এফ মাইনর এবং ৬টা ১৫ মিনিটে পারশা মঞ্চ মাতিয়েছেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল ড্রোন ড্রামা ‘ডু ইউ মিস মি’ পরিবেশিত হয়। এরপর ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে আরও সংগীত পরিবেশন করেছেনÑ চিটাগাং হিপহপ হুড, র্যাপার সেজান, ব্যান্ড শূন্য, কণ্ঠশিল্পী সায়ান, কণ্ঠশিল্পী ইথুন বাবু ও মৌসুমি, ব্যান্ড সোলস, ওয়ারফেজ, কণ্ঠশিল্পী এলিটা করিম।
বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নওশীন নওয়ার বলেন, ‘এক বছর আগে আমাদের ভাই-বোনের রক্তের বিনিময়ে বিজয় এসেছিল। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। আজকে আমরা যে মন খুলে সব কথা বলতে পারছি, সেটি হাসিনা থাকলে বলতে পারতাম না। ফলে এই দিন গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজ এখানে আসা।’
অনুষ্ঠানস্থলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে অনুষ্ঠানগুলো হয়ে আসছে, তার প্রতিটি সফল ও সুন্দরভাবে শেষ করতে তারা সহযোগিতা করেছেন। আজকের অনুষ্ঠানও সুন্দরভাবে শেষ হবে। নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবুও সর্বাত্মক প্রস্তুতি র্যাবের আছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার সামর্থ্য র্যাবের আছে। এই অনুষ্ঠানসহ পুরো ঢাকা শহরে র্যাবের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।