৩৬ জুলাই উদযাপন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪২ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪৩ পিএম
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। রবিবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্রের পাশাপাশি আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে থাকছে দেশের তারকা শিল্পীদের পরিবেশনাও। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সায়ান ও বেলা ৩টায় ইথুন বাবু এবং মৌসুমী দর্শকদের মাতাবেন গানে গানে।

বেলা সাড়ে ৩টায় থাকবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল সোলসের পরিবেশনা। বিকাল ৪টায় গান পরিবেশন করবে ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ।

সন্ধ্যা ৭টায় গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী এলিটা করিম। সবশেষ আয়োজন হিসেবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেলের গান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আরও থাকবে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, কলরব শিল্পীগোষ্ঠী, চিটাগাং হিপহপ হুড, সেজান ও শূন্য’র পরিবেশনাও। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আর সহযোগিতায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখ যোদ্ধাদের সাহস জোগাতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গান। চব্বিশের কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনও ব্যতিক্রম নয়। আন্দোলনের সময় প্রকাশিত অনেক গান রাজপথে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আন্দোলনে র্যাপ গানের ছিল আধিপত্য। সে সময় অর্ধশতাধিক র্যাপ গান প্রকাশ হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘আওয়াজ উডা’। এটি গেয়েছেন র্যাপার হান্নান হোসাইন শিমুল। ১৮ জুলাই গানটি প্রকাশের পরপরই তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। আলোচনায় ছিল হান্নানের ভাই র্যাপার সেজানের গাওয়া ‘কথা ক’ শিরোনামের আরও একটি গান। এটিও বেশ সাড়া ফেলে ছাত্র-সমাজের মধ্যে।
গত বছরের ১৬ জুলাই প্রকাশিত এ গানটি সামাজিক মাধ্যমে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তরুণ সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণির গাওয়া ‘চলো ভুলে যাই’ গানটিও লাখো শ্রোতার হৃদয় জয় করেছে। এদিকে শুরু থেকেই রাজপথে আওয়াজ তুলেছিলেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।
আন্দোলনের মধ্যে সায়ান গেয়েছেন ‘ভয় বাংলায়’ ও ‘এইবার’ শিরোনামের দুটি প্রতিবাদী গান। বিজয়ের পর তিনি প্রকাশ করেছেন ‘হুঁশিয়ারী’ গানটি। আন্দোলনের সময় তার গাওয়া ‘আমিই বাংলাদেশ’ গানটিও বেশ আলোচিত ছিল। ব্যান্ড শহরতলির ভোকাল জিল্লুর রহমান সোহাগ গেয়েছেন ‘ও প্রধান তোমাকে বলছি শোনো’ গানটি। শূন্য ব্যান্ডের ‘শোনো মহাজন’ শিরোনামের গানটিও চর্চায় ছিল। ‘জাদুর দেশে জাদু দেখায় রাজা/আমরা সবাই অবাক হয়ে রই’ এমন কথার একটি গান ২০২০ সালে প্রকাশ করেছেন শিল্পী মল্লিক ঐশ্বর্য। আন্দোলনের সময় এটি নতুন করে ভাইরাল হয়। ব্যান্ডশিল্পী হাসি গেয়েছেন ‘দেশটা কারো বাপের না’, লুনাটিক্স বীর ও রিদমাস্ত্রের ‘দেশ কার’, রাজেশ পালের ‘শিকল ভাঙার মন্ত্র’ গানগুলোও আলোচিত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। নব্বই ও শূন্য দশকে প্রকাশিত দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাকসুদ-এর ‘আবার যুদ্ধে যেতে হবে’, আর্কের ‘আর কত মৃত্যু’, ওয়ারফেজের ‘জনস্রোত’, জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’, শিল্পী হায়দার হোসেনের ‘স্বাধীনতা’সহ আরও কয়েকটি পুরনো গান আন্দোলনের মধ্যে চর্চায় এসেছিল। এ ছাড়া ‘ছাত্র’, ‘সুবিচার চাই’, ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’, ‘দমায় দেখা’, ‘রক্ত’, ‘আবু সাঈদ’, ‘জবাব দেনা’, ‘পাল্টে দে ইতিহাস’, ‘রাজাকার’, ‘দেশ কার’সহ প্রকাশিত আরও বেশ কয়েকটি গান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল।