প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ১২:২৯ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৩:১৬ পিএম
শরীফুল রাজ
নতুন সময়ের ঢাকাই চলচ্চিত্রে তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে শরীফুল রাজ এক ব্যতিক্রমী নাম। কম সময়েই অভিনয়ের এমন নান্দনিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা আজকের চলচ্চিত্রে খুব কমই দেখা যায়। চরিত্রের অন্তর্গত জটিলতা অনুধাবন করে, নিজেকে সেই চরিত্রে পুনর্নির্মাণের যে ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা রাজকে আলাদা মর্যাদায় বসিয়েছে।
তিনি শুধু অভিনয় করেন না- চরিত্র হয়ে ওঠেন। বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন এক যুগের বেশি। বড় পর্দায় ১০ বছর হতে চলেছে। ‘আইসক্রিম’ দিয়ে শুরু, সর্বশেষ কাজ ‘ইনসাফ’। ১০ বছরে ১০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। রাজের সিনেমা যাত্রা শুরু ‘আইসক্রিম’ দিয়ে হলেও, তার আসল জাদু ধরা পড়ে পরবর্তী সিনেমাগুলোতে। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’, ‘গুণিন’, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’, আর ‘দামাল’- প্রতিটি ছবিতে রাজ ছিলেন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন মাত্রায়।
‘পরাণ’-এ প্রেমিকের মোড়কে এক নীতিহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবক হয়ে রাজ তার দ্বিমুখী ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শককে চমকে দিয়েছেন। আবেগ আর হিংস্রতার টানাপড়েন তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, চরিত্রটি কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবের রূপ পেয়েছে।
‘হাওয়া’-তে রাজ নীরবতার মধ্য দিয়েই আবেগ প্রকাশের অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। চোখের ভাষা, অপ্রকাশ্য বেদনা এবং সংলাপহীনতায় তার যে অভিনয়- তা চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটকে এক অন্য স্তরে পৌঁছে দেয়। একজন নিঃশব্দ জেলের মধ্যেও তিনি এক নিঃসঙ্গ কবিকে খুঁজে পেয়েছেন। ‘গুণিন’-এ গ্রামীণ প্রেমিকের সরলতা আর সমাজব্যবস্থার সঙ্গে তার লড়াই তুলে ধরেছেন অপার মানবিকতায়। রাজের অভিনয় দর্শককে শুধু স্পর্শ করে না, ভেতর পর্যন্ত নাড়া দেয়।
‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ সিনেমায় আধুনিক সময়ের বিভ্রান্ত, নিঃসঙ্গ যুবকের চরিত্রে রাজ যেন ছিলেন অনেকটা আয়নার মতো, যেখানে আজকের প্রজন্ম নিজেদের খুঁজে পায়। সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গির ভঙ্গিমা আর শরীরী ভাষায় তিনি ব্যক্ত করেছেন সেই একাকীত্বের অনুভব। ‘দামাল’-এ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাজকে পাওয়া যায় এক সংগ্রামী ফুটবলারের ভূমিকায়। সেখানে কেবল ক্রীড়া-নৈপুণ্য নয়, ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা আর চরিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা তার পারফরম্যান্সে স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। রাজের অভিনয়ের একটি আলাদা শক্তি হলো- তিনি উচ্চকণ্ঠে কিছু বলেন না, বরং নিঃশব্দে অনেক কিছু বলে ফেলেন। সংলাপের বাহুল্যে নয়, অভিব্যক্তির গভীরতায় তিনি নির্মাণ করেন চরিত্রের আত্মা। আর ঠিক এই কারণেই, সমসাময়িকদের ভিড়েও শরীফুল রাজ অনন্য।
রাজের মতে, এখনও সংগ্রাম করে চলছেন। তিনি নিজে একজন সংগ্রামী শিল্পী। এই ইন্ডাস্ট্রির সংগ্রামী শিল্পীরাও তাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেন। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই রাজ বলেন, ‘আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেন আমাদের শাকিব খান। দীর্ঘ সময় ধরে জার্নি করছেন, তারপরও একের পর এক দারুণ দারুণ কামব্যাক হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি যেভাবে অবদান রাখছেন, এটা অনেক বেশি অনুপ্রেরণার। যখন মডেলিং থেকে সিনেমায় আসি, তখন আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে আরিফিন শুভ। সিয়ামও আমার ভীষণ অনুপ্রেরণার।’
সম্প্রতি এক ভক্ত ফেসবুকে এক অসামান্য মন্তব্য করেছেন, ‘শরীফুল রাজ, আপনি মনোজ বাজপেয়ী নন, সঞ্জয় দত্তও নন, সালমান খান তো নয়ই…! দেয়ালের দেশে-এ আপনার পারফরম্যান্স এমন এক ছাপ ফেলে গেছে, আপনি যদি আর কোনো সিনেমাতেই অভিনয় না করেন, তবুও এই এক সিনেমার জন্য আপনাকে মনে রাখা হবে।’ এই কথাটাই রাজের শিল্পীসত্তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে সংজ্ঞায়িত করে- তিনি উপস্থিতি দিয়ে নয়, প্রভাব দিয়ে থাকেন।