প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
অসুস্থ হয়ে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন লালনসংগীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ফরিদা পারভীন। তার অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। শিল্পীর এ সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার মধ্যেই গত সোমবার রাত থেকে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। কেউ কেউ তার ছবি পোস্ট করে মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়ায়। এ বিষয়টি নিয়ে এখন চরম বিব্রত এবং মর্মাহত শিল্পীর পরিবার।
আজ মঙ্গলবার শিল্পীর স্বামী, যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে। ফরিদা এখনও জীবিত, আমরা তাকে ঘিরে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এমন সংকটময় মুহূর্তে মানুষ দোয়া করবে, এই তো প্রত্যাশা। অথচ কেউ কেউ যাচাই না করেই তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটা কী ধরনের মানসিকতা!’
শিল্পী যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, ‘ফরিদা পারভীন হাসপাতালে ভর্তি হন তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে। পরবর্তীতে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। রক্তে সংক্রমণ রয়েছে। জ্ঞানের মাত্রাও অনেকটা কমে গেছে। কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে, সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করাতে হয়। তার (শিল্পী ফরিদা পারভীন) এখনকার যে অবস্থা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দরকার হতে পারে।’
শিল্পীর জন্য সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছে গাজী আবদুল হাকিম বলেন, ‘সার্বিকভাবে ফরিদার অবস্থা ভালো নয়। গত কয়েক মাসে তাকে তিনবার আইসিইউতে নিতে হয়েছে। ফুসফুস ও কিডনিজনিত জটিলতায় তিনি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। হাঁটা বা দাঁড়ানোর শক্তিও নেই। আমাদের একটাই অনুরোধ- গুজব ছড়াবেন না। সবার দোয়া দরকার এখন।’
ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের সিনিয়র অফিসার শিমুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘ফরিদা পারভীন ডায়লোসিসের রোগী। সঙ্গে তার কিডনি সমস্যা আছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিক ও হাইপার টেনশনের সমস্যা আছে। আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। নতুন করে তার কোনো সমস্যা নেই। জ্ঞানের মাত্রা গতকাল (সোমবার) একটু খারাপ ছিল, আজ (মঙ্গলবার) সেটা উন্নতির দিকে। তবে এখনও তিনি বিপদমুক্ত নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে তিনি নিজে নিজে তাকাচ্ছেন এবং হাত-পা নাড়াচ্ছেন। ইশারায় কথা বলারও চেষ্টা করছেন। তার স্বাস্থ্য আরেকটু ভালোর দিকে গেলে আমরা তাকে কেবিনে স্থানান্তর করতে পারি। এর আগ পর্যন্ত তাকে আইসিইউতে রাখা হবে।’