প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১৩:০২ পিএম
আজমেরী হক বাঁধন
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। তার সিনেমা মানেই হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। এবার তার প্রতি ভালোবাসার কথা জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
গত সোমবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাকিব খানের প্রশংসা করে বাঁধন লেখেন, ‘আমার জীবনে বহু মানুষ আছেন যারা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এর মানে এই নয় যে, আমি তাদের সব মতের সঙ্গে একমত। কিন্তু তাদের জীবনের কিছু দিক, মানসিক দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। ঠিক তেমন একজন হচ্ছেন আমাদের সুপারস্টার শাকিব খান।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাকিব খান যেভাবে নিজেকে তৈরি করেছেন, তার জন্য আমি শ্রদ্ধা জানাই। এমন তারকাখ্যাতি অর্জন করা সহজ নয়। এটা সম্ভব হয় বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম আর নিজের কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলে। তার এই অধ্যবসায় ও অঙ্গীকারই তাকে আজকের শাকিব বানিয়েছে। তাই তার প্রতি আমার আন্তরিক সম্মান।’
শাকিব খানকে ঘিরে দর্শকদের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি লেখেন, ‘মানুষ তাকে যেভাবে নিঃশর্ত ভালোবাসে, সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি, খ্যাতির সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে। আমার ধারণা, শাকিব সেটা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তার সব কাজের জন্য শুভকামনা রইল।’
গতকাল মঙ্গলবার আরেক ফেসবুক পোস্টে জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে জানিয়ে বলেন, জীবন ফুলে ভরা বিছানা নয়- এটা সত্যি। তবে জীবন সম্ভাবনায় ভরপুর- এটাও আরেকটা সত্য। আমাকে জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অনেক মেয়ের মতো আমিও বৈষম্যের তিক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি সমাজ থেকে, রাষ্ট্র থেকে, এমনকি নিজের পরিবার থেকেও। কিন্তু আমি হেরে যাইনি। আমার পাশে কোনো গাইড ছিল না, কোনো মেন্টর ছিল না, ছিল শুধু আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, নিজের সততা, আর অক্লান্ত পরিশ্রম। নিজেকে নিয়ে গর্ব করো। নিজেকে সম্মান করো। প্রতিদিন একটা ভালো কাজ করো, যত ছোটই হোক না কেন। ধীরে ধীরে এগুলোই তোমার জীবনকে অর্থবহ ও আনন্দময় করে তুলবে। এক সময় তুমি বুঝবে- তুমি সত্যিই পারো, তোমার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে।

ঈদে মুক্তি পেয়েছে সানী সানোয়ারের সিনেমা ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। শুরুতে থ্রিলার সিনেমাটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ না থাকলেও ধীরে ধীরে দর্শক টানছে সিনেমাটি। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা অভিনেত্রী জানান, ‘আমাদের এখানে তো নারীপ্রধান সিনেমা হয়ই না। আর হলেও ঈদে মুক্তি দেবে, এই সাহস করার তো প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের এটা তো পুরুষপ্রধান ইন্ডাস্ট্রি। এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের গণমানুষ যারা আছেন, বেশিরভাগই ভায়োলেন্স সিনেমা পছন্দ করেন...। আমার পর্যবেক্ষণ হলো, যেসব সিনেমায় নারীদের হেয় করে দেখানো হয়, সেসব সিনেমা গ্রহণযোগ্যতা একটু বেশি পায়। এটা আমাদের সমাজব্যবস্থার একটা প্রতিফলন। সেখান থেকে নারীপ্রধান একটা সিনেমা, যেখানে ওই অর্থে নায়ক নেই, আইটেম গান নেই, এমন কোনো অ্যাকশন নেই...যা আছে সেটা বাস্তবসম্মত। সব মিলিয়ে এমন সিনেমা থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা করিনি, সে জায়গা থেকে বেশি পেয়েছি।’ ঈদে প্রায় প্রতিদিনই হলে হলে ঘুরেছেন বাঁধন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে, সেটা হলো বাংলাদেশের দর্শক সব ধরনের সিনেমার জন্য তৈরি। এখানে ‘তাণ্ডব’ চলছে, ‘উৎসব’ চলছে আবার ‘ইনসাফ’ও চলছে। সব সিনেমা কিন্তু আলাদা আলাদা। এই যে দর্শকের বাংলা সিনেমার প্রতি একটা ভালোবাসা, এটা কিন্তু অনেক ইতিবাচক দিক। এখন মূল দায়িত্ব পরিচালক ও প্রযোজকদের। তারা এখন বিভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে এগিয়ে আসবেন।’ একই সঙ্গে কেবল বাণিজ্যের কথা না ভেবে সমাজ পরিবর্তনে অবদান রাখবে, এমন সিনেমা বানানোর আহ্বান জানান বাঁধন।