প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৫ ১২:৪৬ পিএম
শাকিব খান অভিনীত প্রথম সিনেমা ১৯৯৯ সালের ২৮ মে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ মুক্তি পায়। পরিচালক ছিলেন সোহানুর রহমান সোহান। সেই থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ঢালিউড যাত্রায় শাকিব খানের পথচলা এতটা সহজ ছিল না। পদে পদে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে।
ভাগ্যের ওপর নয়, পরিশ্রম ও মেধার পরিচয় দিতে হয়েছে। সাধনা করতে হয়েছে। লেগে থাকতে হয়েছে। কখনোই সিনেমা থেকে দূরে সরে যাননি। প্রিয়তমা, রাজকুমার, তুফান, বরবাদ, তাণ্ডব— এই সিনেমাগুলো তাকে দিয়েছে অন্যরকম দর্শকপ্রিয়তা। তার সমালোচকদের অনেকেও এখন বলছেন, ‘শাকিব খান নম্বর ওয়ান’। সবশেষ মুক্তি পাওয়া ‘তাণ্ডব’ও তাকে বিপুল ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে। অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, হলিউডে কাজ করবেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ তারকা শাকিব খান। এরপর এবার ঈদে হঠাৎ করেই চাউর হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হলিউড নির্মাতা আসিফ আকবরের সঙ্গে নতুন প্রজেক্ট করতে যাচ্ছেন তিনি।
অবশেষে জানা গেল, হলিউডে নতুন সিনেমা নির্মাণ করছেন ‘বনইয়ার্ড’, ‘অ্যাস্ট্রো’, ‘দ্য কমান্ডো’, ‘স্মোক ফিল্ড লাংস’ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’ অবলম্বনে নির্মিত ‘এমআর-নাইন’ খ্যাত আসিফ আকবর। আর সেই সিনেমাতে প্রোটাগনিস্ট হিসেবে থাকছেন শাকিব খান। এমনটা নিশ্চিত করেছেন পরিচালক নিজেই। আসিফ আকবর জানান, এখন পাণ্ডুলিপির কাজ চলছে। ছবিটির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন শাকিব খান। তার সঙ্গে থাকবেন দুজন চিত্রনায়িকা। একজন বাংলাদেশ থেকে, অন্য জনকে নেওয়া হবে হলিউড থেকে। শুধু তাই নয়, খলনায়ক থাকবেন হলিউডের পরিচিত মুখ। জানা গেছে, আগামী মাসের শুরুর দিকে শাকিব খানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে। তখন সবকিছু চূড়ান্ত হবে।
যদি সবকছু ঠিক থাকে তাহলে এটি হবে শাকিব খানের প্রথম হলিউড সিনেমা। ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার এ সিনেমাটি ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ঈদের ছবির মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’। প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যায় ও শোতে এখনও এগিয়ে সিনেমাটি। আয়েও রেকর্ড গড়েছে। ঈদে মাল্টিপ্লেক্সে ২৮টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করে তাণ্ডব। এ ছাড়া শতাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পায় ‘তাণ্ডব’। বাংলা মুভি রিভিউর তথ্যানুসারে মুক্তির ১৪তম দিনে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার শো কমলেও কালেকশন বেড়েছে। শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, মম ইন, মণিহার সিনেপ্লেক্স, মধুবন সিনেপ্লেক্স, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে মোট শো চলেছে ৬১টি। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্সে চলা ৩৬টি শোর ১৯টি হাউজফুল এবং ২টি শো প্রায় ফুল ছিল। এ ছাড়া গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটারে ৩টি শোর মধ্যে ২টি শো অলমোস্ট ফুল গেছে। মম ইনে ৩টি শোর মধ্যে ১টি শো হাউজফুল ছিল। মণিহার সিনেপ্লেক্সে ৫টি শোর মধ্যে ১টি শো হাউজফুল গেছে শুক্রবার। তাছাড়া লায়ন সিনেমাসে শো চলেছে ৮টি, বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে ৩টি, কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্সে ৩টি শো চলেছে। তবে এই তিন থিয়েটারে কোনো শো হাউজফুল যায়নি। চৌদ্দ দিন শেষে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।