প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা উপভোগ করছেন সাদিয়া আয়মান ও সৌম্য জ্যোতি ছবি: ফেসবুক থেকে
এবারের ঈদে সিনেমা মুক্তিকে ঘিরে প্রচারের তেমন জোরালো ঢেউ দেখা না গেলেও মুক্তির পরেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
সিনেমা হলে দর্শক টানতে এবার নেমে পড়েছেন তারকারাই- নিজেদের ছবি বাঁচাতে সরাসরি ছুটে গেছেন প্রেক্ষাগৃহে, কথা বলেছেন দর্শকদের সঙ্গে, কখনও দিয়েছেন সেলফি, কখনও বা উপভোগ করেছেন পুরো সিনেমা দর্শকদের সঙ্গে বসে। এমনকি অল্প সময়ের পর্দা-উপস্থিতিতেও তারকাদের ক্যামিও পারফরম্যান্স হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রতিদিন হলে ছুটছেন তারকারা
চলতি ঈদে মুক্তি পেয়েছে ছয়টি সিনেমা- ‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’, ‘টগর’, ‘উৎসব’, ‘নীলচক্র’ ও ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’। প্রচারযজ্ঞে ঘাটতি থাকলেও হলে হলে দর্শকের ভিড় প্রমাণ করেছে, তারকাদের মাঠ পর্যায়ে থাকা মানেই একটা বড় প্রভাব।
‘তাণ্ডব’ সিনেমার প্রচারে দেখা যায় অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে, যিনি বলেন, ‘মুক্তির আগে একটা অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু প্রথম দিনের দর্শক প্রতিক্রিয়া আমাকে আশ্বস্ত করেছে।’ অন্যদিকে জয়া আহসান জানান, “সিনেপ্লেক্সে দর্শকরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন- হাততালি, শিস, উচ্ছ্বাস- তা ‘তাণ্ডব’ সিনেমার প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ।”

পরদিনই জয়া হাজির হন তার আরেক সিনেমা ‘উৎসব’-এর প্রদর্শনীতে, সঙ্গে ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিম, সাদিয়া আয়মান ও সৌম্য জ্যোতি। দর্শকদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন, অংশ নেন আলোচনা পর্বেও।
‘ইনসাফ’ নিয়ে প্রথমবার বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করে হলে হলে ছুটে বেড়াচ্ছেন তাসনিয়া ফারিণ। তার সঙ্গে আছেন শরিফুল রাজ এবং নির্মাতা-প্রযোজক। ‘প্রথমবার এমন বড় পরিসরে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পেরে রোমাঞ্চিত,’ বলেন ফারিণ।

‘এশা মার্ডার’ সিনেমা নিয়ে প্রতিদিনই ঢাকার বিভিন্ন হলে উপস্থিত হচ্ছেন আজমেরী হক বাঁধন। দর্শকসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে দেখে উচ্ছ্বসিত বাঁধন বলেন, ‘নারীপ্রধান একটি গল্প ঈদের মতো বাণিজ্যিক মৌসুমে রিলিজ করা সত্যিই সাহসিকতা। প্রযোজক ও নির্মাতাকে এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তার মতোই ‘নীলচক্র’ সিনেমার অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন, শেয়ার করছেন অভিজ্ঞতা ও সিনেমার পেছনের গল্প। অন্যদিকে ‘টগর’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকা আদর আজাদ ও পূজা চেরি ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন এক হলে থেকে আরেক হলে দৌড় দিয়ে। ছবি প্রচারে থাকছেন দর্শকদের মুখোমুখি হয়ে, নিচ্ছেন সরাসরি মতামত।

আলোচনায় তিন অতিথি চরিত্র
এই ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচনার জন্ম দিয়েছে কিছু অপ্রত্যাশিত অথচ শক্তিশালী অতিথি চরিত্রের উপস্থিতি। মূল গল্পের বাইরেও এই ছোট্ট কিন্তু প্রভাবশালী চরিত্রগুলো দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে সহজেই। সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেই তা স্পষ্ট। একজন দর্শক শিহাবুদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘চারদিকে এখন শুধু অতিথি চরিত্রের গল্প! বিশেষ করে মাসুদকে আবার পর্দায় দেখে বিস্মিত হয়েছি। সুড়ঙ্গ সিনেমার সেই ইলেকট্রিশিয়ান এবার যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঝড়ের মতো।’ তিনি আরও লেখেন, ‘মিখাইল বনাম মাসুদ- এই দ্বন্দ্ব সম্ভবত রাফীর ভবিষ্যৎ সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ রকম চরিত্রই তো বাংলা সিনেমায় এতদিন খুঁজছিলাম।’
‘তাণ্ডব’ সিনেমায় সিয়াম আহমেদের অতিথি চরিত্রে উপস্থিতি ছিল একদম চমক হিসেবে। প্রযোজকরা আগে থেকে কিছু প্রকাশ না করায় দর্শক হলে গিয়ে চমকে গেছেন। এক দর্শক নাদিয়া লেখেন, ‘ঈদের সেরা উপহার! সিয়ামের এই উপস্থিতি একেবারে কাঁপিয়ে দিয়েছে। এমন ক্যামিও আরও হলে সিনেমা দেখা হয়ে উঠবে আরও বেশি আকর্ষণীয়। গল্পে নতুন রকম মাত্রা আসবে।’ অন্যদিকে, শরীফুল রাজ অভিনীত ‘ইনসাফ’ সিনেমায়ও চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। পর্দায় তার অল্প সময়ের উপস্থিতি হলেও, সেটিই ছিল দর্শকের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা। এই সংক্ষিপ্ত চরিত্র দিয়ে চঞ্চল আবারও প্রমাণ করেছেন- অভিনয়ে দৈর্ঘ্য নয়, গভীরতাই মুখ্য। দুটি ভিন্ন সিনেমায় তিনটি আলাদা ধাঁচের অতিথি চরিত্র। কিন্তু সবার অভিন্ন অর্জন একটাই- দর্শকের হৃদয় জয়। এই ট্রেন্ডটি দেখাচ্ছে যে বাংলা সিনেমায় এখন দর্শক শুধু গল্প নয়, চমকও খুঁজছেন। আর সেই চমক যদি সঠিকভাবে পরিবেশন করা যায়, তাহলে তা হয়ে ওঠে সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ- যেমনটি দেখা যাচ্ছে এবারের ঈদের সিনেমাগুলোতে।