প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৫ ১২:২১ পিএম
ঈদ কেন্দ্রিক যেসব সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সবগুলোতেই আকৃষ্ট হচ্ছেন দর্শকরা।
দর্শক হারাতে বসা সিনেমা হলগুলোতে যেন ধীরে ধীরে ফিরছে জৌলুস। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে, যার প্রমাণ মিলছে রাজধানীর সিনেমা হলগুলোতে ‘হাউজফুল’ বোর্ড ঝুলে থাকার দৃশ্যে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বাংলা সিনেমায় দর্শক আকৃষ্টের পর থেকে ঈদ কেন্দ্রিক যেসব সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সবগুলোতেই আকৃষ্ট হচ্ছেন দর্শকরা। ফলে প্রতিটা শো-তেই থাকছে হাউজফুল। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত কোন সিনেমা কেমন চলছে তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

‘তাণ্ডব’ ঝড় চলছেই
মাল্টিপ্লেক্সে আরও একটা সিঙ্গেল ডে রেকর্ড কালেকশন তুলেছে ‘তাণ্ডব’। নিজের ২য় দিনে গড়া রেকর্ড ৩য় দিনে এসে ভাঙলো সিনেমাটি। তৃতীয় দিন শেষে সিনেমাটির আয় ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, মম ইন, গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স, মণিহার সিনেপ্লেক্স, মধুবন সিনেপ্লেক্স, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে ‘তাণ্ডব’-এর মোট শো চলেছে ৮১টি। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্সে চলা ৪৪টি শো-ই হাউজফুল ছিল। লায়ন সিনেমাসে ১১টি শো’র মধ্যে ৮টি শো হাউজফুল এবং ৩টি শো অলমোস্ট ফুল ছিল। বাকি গ্র্যান্ড সিলেটে চলা ৪টি শো-ই হাউজফুল ছিল। মম ইনে চলা ৫টি শো-ই হাউজফুল গেছে তৃতীয় দিনে। মণিহার সিনেপ্লেক্সের ৫টি শো-ই হাউজফুল ছিল। বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে চলা ৪টি শো-ই হাউজফুল ছিল। তবে কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্সে কালেকশন কিছুটা কমেছে। সেখানে ৪টি শো’র মধ্যে ২টি শো হাউজফুল গেছে তৃতীয় দিনে। সর্বশেষ, তৃতীয় দিনে গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে ৪টি শো’র মধ্যে ৪টিই হাউজফুল শো চলেছে। মোটকথা, ৮১টি শো’র মধ্যে ‘তাণ্ডব’ তৃতীয় দিনে ৭৬টি হাউজফুল এবং ৩টি অলমোস্ট ফুল শো উপহার দিয়েছে। তিন দিন শেষে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। চতুর্থ দিনে মাল্টিপ্লেক্সে ২ কোটির ক্লাবে এন্ট্রি নেবে ‘তাণ্ডব’।

এগিয়ে যাচ্ছে ‘ইনসাফ’
ঢাকা শহরের এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইউসুফ; যার মৃত্যুর খবর বহু আগেই ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ ইউসুফের অস্তিত্ব বারবার অনুভূত হচ্ছে। রহস্যভেদে দায়িত্ব দেওয়া হয় এএসপি জাহানকে। এভাবেই শুরু হয় সঞ্জয় সমাদ্দার পরিচালিত সিনেমা ‘ইনসাফ’-যেখানে দেখা গেছে প্রেম, ভালোবাসা, প্রতিশোধ, দুর্নীতি এবং রাজনীতির মিশেলে একটি অ্যাকশন থ্রিলার এবং গ্যাংস্টার ড্রিভেন গল্প বাংলাদেশে সঞ্জয় সমাদ্দারের প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমা ‘ইনসাফ’। সিনেমায় শরীফুল রাজের কাজ বেশ ভালো ছিল। পুরো সিনেমাজুড়ে রাজকে বেশ কয়েকটা লুকে দেখতে পাওয়া গেছে। বোঝাই যাচ্ছিল যে রাজ এই সিনেমার জন্য অনেক খেটেছেন। কেননা, ওনার ট্রান্সফরমেশনটা অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। উনি অভিনয়ও ভালো করেছেন এই সিনেমায়। ফাইট সিক্যুয়েন্সগুলোতে দুর্দান্ত ছিলেন। তাসনিয়া ফারিণ প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমা হিসেবে যথেষ্ট ভালো করেছেন। মুক্তির ৩য় দিনে এসে ডাবল ডিজিট কালেকশন তুলেছে ‘ইনসাফ’। তৃতীয় দিনে ইনসাফের আয় ছিল ১০ লাখ ৪৮ হাজার। স্টার সিনেপ্লেক্স এবং লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে মোট শো ছিল ১৪টি। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্সে ৫টি শো হাউজফুল এবং ১টি অলমোস্ট ফুল গেছে। তৃতীয় দিনে লায়ন সিনেমাসেও ‘ইনসাফ’ বিগত দিনের তুলনায় ভালো চলেছে। তিন দিনে ‘ইনসাফ’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা!

‘উৎসব’ দেখতে ভিড়
গত ঈদের মতো এবার ঈদেও যেন দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে সিনেমা হলগুলোতে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দেখছেন সিনেমা। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেকগুলো সিনেমার ভিড়ে ‘তাণ্ডব’র পর আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে পারিবারিক গল্পের সিনেমা ‘উৎসব’। হলে শোগুলো হাউসফুল যাচ্ছে। ঈদের দিন থেকে তৃতীয় দিনেও রাজধানীর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সরেজমিন এমনটাই দেখা গেছে। পারিবারিক গল্পের কারণে বেশিরভাগ দর্শকই পরিবারসহ সিনেমাটি দেখতে এসেছেন। দেখার পর ‘উৎসব’ ঘিরে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। হল থেকে বেরিয়ে দর্শকরা বলছেন, ‘ভাবতেই পারিনি যে, এত ভালো সিনেমা হবে।’ আরেকজন দর্শক বললেন, ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট ছবি, সবার ফ্যামিলি নিয়ে ছবিটি দেখা উচিত। অসাধারণ হয়েছে।’ কেউ কেউ সিনেমাটি দেখে নস্টালজিয়ায়ও ডুবে গেছেন বলে জানিয়েছেন। বললেন, ‘একটা ক্লাসিক কাল্ট সিনেমা। তাণ্ডবের মধ্যে একটা উৎসবের মতো সিনেমা দরকার ছিল।’ হল থেকে বের হতে হতে একজন এও বললেন, ‘উৎসব না দেখলে মনে হবে এই ঈদে আপনি কোনো সিনেমাই দেখেননি।’ ‘উৎসব’ ঘিরে এই জমজমাট সাড়ায় অভিভূত এর নির্মাতা তানিম নূর। ‘কাইজার’ খ্যাত এ নির্মাতা বলেন, ‘দর্শকের যে ভালোবাসা পাচ্ছি সেটা অভূতপূর্ব। উৎসব যেন আলাদা উৎসবই তৈরি করে দিয়েছে। প্রত্যেকটা শো হাউসফুল যাচ্ছে, যারাই ছবিটি দেখেছেন তারাই ছবিটি নিয়ে কথা বলছেন, মানুষকে জানাচ্ছেন। এটা সত্যি দারুণ।’ প্রথম দুদিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে কালেকশন কিঞ্চিৎ বেড়েছে। অবশ্য শো একটা কম চলেছে। মুক্তির ৩য় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স এবং লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে মোট শো ছিল ১০টি। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্সে চলা ৯টি শো-ই হাউজফুল ছিল। তৃতীয় দিনে উৎসবের আয় ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিন দিন শেষে ‘উৎসব’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ১৮ লাখ ৮ হাজার টাকা।
নীলচক্র নিয়ে শুভ
‘নীলচক্র’-এর তৃতীয় দিনের আয় দ্বিতীয় দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্স এবং লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ‘নীলচক্র’ সিনেমার মোট শো চলেছে ৯টি। কোনো শো হাউজফুল যায়নি। দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটির আয় ছিল ৩.০২ লাখ টাকা, আর তৃতীয় দিনে এসেছে ৩.২৬ লাখ টাকা। তিন দিন শেষে মাল্টিপ্লেক্স থেকে ‘নীলচক্র’-এর মোট আয় ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়া মুক্তির ৩য় দিনে এসে লাখের ঘরে কালেকশন তুলেছে ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’। কালেকশনে বেশ ভালো একটা গ্রোথ এসেছে, যেটা এই সিনেমার জন্য পজিটিভ সাইন। তৃতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির মোট শো চলেছে ৬টি। লায়ন সিনেমাসে কোনো শো চলেনি। তিন দিন শেষে ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়া মুক্তির ৩য় দিনে আবারও ড্রপ দেখা গেছে ‘টগর’ সিনেমার কালেকশনে। তৃতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির মোট ৪টি শো চলেছে। তবে লায়ন সিনেমায় দর্শক খরায় কোনো শো চলেনি। তিন দিন শেষে ‘টগর’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।