শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ২২:৩০ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ২২:৩৩ পিএম
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা ভারত সীমানে ‘শাপলা শালুক’ সিনেমার শুটিং করছেন শবনম বুবলী ও সজল। বুধবার সকালে একদল হাতির আক্রমণে শুটিং সেটের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুটিংয়ের অনুমতির নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
ফেসবুকে জয়া আহসান লিখেছেন, ‘বনের ভেতর এই আরেক উপদ্রব। বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মন চাইলেই লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন শুরু করা যায়?’
তিনি আরও লেখেন, ‘মাইকের শব্দ, শুটিং টিমের বর্জ্য, গান-বাজনা, এগুলো কি অ্যালাউ করা ঠিক হবে এ রকম একটা সেনসিটিভ জায়গায়?
তবে ছবিটির পরিচালক লাজুকের দাবি, তারা বনে শুটিং করছেন না। পার্শ্ববর্তী গ্রামে পেতেছেন ‘শাপলা শালুক’-এর সেট। ভুল তথ্যে দিশাহারা না হয়ে খোঁজ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘উনি (জয়া আহসান) লিখেছেন আমরা বনের ভেতর শুটিং করেছি। এটা একেবারেই ভুল। আমরা গ্রামে শুটিং করছি। সিনেমাটির মাধ্যমে বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাইছি। সেজন্যই সুন্দর একটি গ্রাম বেছে নিয়েছি। আমরা বনে হাতির কাছে যাইনি। বরং হাতি আমাদের এখানে এসেছে। কেননা বনে খাদ্য সংকট দেখা দিলে হাতি গ্রামে আক্রমণ করে। সেরকমই হয়েছে। আর উনি না জেনে লিখে দিলেন, বনের ভেতর শুটিং করেছি। ওনার এই কথায় আমি, শবনম বুবলী, সজলসহ সবাই অবাক হয়েছি। এটা নিয়েই বলাবলি করছিলাম। আর একটা কথা, জয়া আহসান একাই শুধু অ্যানিমেল লাভার নন, পশুপাখির প্রতি আমাদেরও ভালোবাসা আছে।’
যদিও শুটিংয়ের সময় হাতির আক্রমণের কথা ফেসবুকে জানিয়েছেন অভিনেতা সজল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘বন্য হাতির আক্রমণে শুটিং সেট এর যা অবস্থা। জানালা ভেঙে শেষ।’
সমালোচনা করে ডিপ ইকোলজি এবং স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এমন একটা বনের ভিতর কীভাবে তারা শুটিং করছে। শুটিংয়ের শব্দে এবং শুটিং দেখতে আসা লোকজনের কারণে বনের অনেক কীটপতঙ্গ, সাপসহ ছোট বড় অনেক প্রাণী ভয়ে অন্যত্র মুভ করতে পারে। তাছাড়া মারাও যেতে পারে। এবং এসব কারণে অনেক প্রাণী ট্রমায় ভুগবে। এজন্য এখানে শুটিং বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’
রিচার্স অ্যান্ড কনজারভেশন অব এলিফ্যান্ট বাংলাদেশের সভাপতি আসিফুজ্জামান পৃথিল বলেন, ‘দেশের অন্যান্য বনের তুলনায় গারো পাহাড়ের শেরপুর জেলায় হাতির দলের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে রাতে এবং দিনে প্রায় সবসময় হাতির দলগুলো ঘুরাফেরা করে, খাবার খোঁজে। একদিকে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোকজন দলগুলোকে ডিস্টার্ব করে। আর তার চেয়েও মারাত্মক হুমকি হচ্ছে, গভীর বনে কিভাবে শুটিং করা হচ্ছে। এখানে আসা লোকজন, শব্দ সবকিছু মিলিয়ে স্থানীয় হাতিগুলোকে উত্যক্ত করা হচ্ছে। দ্রুত এখানে এসব উত্যক্ত বন্ধ করতে হবে।’
স্থানীয় মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার দেওয়ান আলী বলেন, ‘সেখানে সিনেমার শুটিং হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়েছি। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাব। ’