প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:২৯ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিগত সরকারের সময় আটকে থাকা ছবিগুলোর প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তৎকালীন সেন্সর বোর্ডে আটকে পড়া ছবিগুলো নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্রাঙ্গনে চাপা উদ্বেগ রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিগত সরকারের সময় আটকে থাকা ছবিগুলোর প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সেন্সর বোর্ডের ইতি ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাঁচ মাসে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেমাসহ সাড়ে ৩ শতাধিক নতুন সিনেমাকে সার্টিফিকেশন সনদ দিয়েছে বোর্ড। নতুন ছবির পাশাপাশি আটকে থাকা সিনেমাগুলোর ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্বও সার্টিফিকেশন বোর্ডের। গত দেড় দশকে অন্যদিন..., নমুনা, শনিবার বিকেল, মাই বাইসাইকেল (মর থেংগারি), অমীমাংসিত, মেকআপ, রানা প্লাজা আটকে রেখে গেছে বিগত সরকার। শুধু মেকআপ মুক্তি পেলেও বাকিগুলোর ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত।
আটকে থাকা সিনেমাগুলো : বর্তমান অবস্থা
আটকে থাকা সিনেমাগুলোর কোনোটি সার্টিফিকেশন বোর্ড, কোনোটি আপিল কমিটিতে রয়েছে। আর আদালতে রয়েছে দুটি সিনেমা। সার্টিফিকেশন বোর্ডে আছে মাই বাইসাইকেল (মর থেংগারি) ও অন্যদিন…।

শনিবার বিকেল
২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘শনিবার বিকেল’ নির্মাণ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ সিনেমাটি ২০১৯ সালে সেন্সরে জমা পড়ে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর সিনেমাটি ভারতীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পেয়েছে। তবে ছাড়পত্র না পাওয়ায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে এখনও ছবিটি মুক্তি পায়নি।

অমীমাংসিত
এক সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘অমীমাংসিত’। ছবিটি নির্মাণ করেছেন রায়হান রাফী। সিনেমাটি গত বছর থেকে আপিল কমিটিতে আটকে আছে।

মাই বাইসাইকেল (মর থেংগারি)
সেন্সর বোর্ডে (সার্টিফিকেশন) প্রায় এক দশক ধরে আটকে আছে চাকমা ভাষার সিনেমা ‘মাই বাইসাইকেল’ (মর থেংগারি)। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অং রাখাইন। পাহাড়ঘেরা এক গ্রামের কমল নামে এক চাকমা যুবককে ঘিরে সিনেমার কাহিনী। শহরে জীবিকা অর্জনে বিফল হয়ে একটি সাইকেল নিয়ে গ্রামে ফেরত আসেন তিনি। সিনেমায় অভিনয় করেছেন স্থানীয় চাকমা অভিনয়শিল্পীরা।

অন্যদিন...
দেশের নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ‘অন্যদিন...’ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বিগত সরকার। বিশ্বের কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেলেও কামার আহমাদ সাইমনের প্রামাণ্য ছবিটি এখনও ঢাকার সার্টিফিকেশন সনদই পায়নি।
প্রায় ১৫ বছর আগে সরকারি অনুদানে ‘নমুনা’ নির্মাণ করেছেন স্থপতি ও নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর। ‘আহা’ দিয়ে প্রশংসা কুড়ানোর পর এটি ছিল তার দ্বিতীয় ছবি, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তৈরি। তবে সেন্সর বোর্ড থেকে এ ছবির সিংহভাগ গল্প পরিবর্তন করতে বলা হয়েছিল এবং ‘অসম্পূর্ণ’ দাবি করে নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। তাই ছবিটির ভাগ্য সার্টিফিকেশন বোর্ড কিংবা আপিল কমিটির হাতে নেই, আদালতে রয়েছে। বিষয়টি এখনও আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে সার্টিফিকেশন বোর্ডের করার কিছু নেই।

২০১৩ সালে সাভারের নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এটি ছিল দেশের পোশাকশিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। রানা প্লাজা ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পোশাককর্মী রেশমাকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয় সিনেমা। নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত সিনেমাটিতে রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেন পরীমনি এবং টিটু চরিত্রে সাইমন সাদিক। আট মাস সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকার পর হাইকোর্টের রায় নিয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুলাই সিনেমাটি মুক্তির অনুমতি পায়। এরপর চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন উচ্চ আদালত। সিনেমাটির মুক্তির দাবিতে প্রায়ই পরিচালক সমাজমাধ্যমে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রত্যাশা ছিল নতুন সার্টিফিকেশন বোর্ড আটকে থাকা সিনেমাগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। নতুন বোর্ড যদি চলচ্চিত্র মুক্তির বিষয়ে নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তাহলে আটকে থাকা সিনেমাগুলোর মুক্তির সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যথায় দর্শকের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হবে, আর নির্মাতারা সৃজনশীলতার স্বাধীনতা নিয়ে আরও সংকটে পড়বেন। প্রশ্ন রয়ে যায়Ñ বাংলাদেশ কি সেন্সরশিপের শৃঙ্খল ভেঙে চলচ্চিত্রের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে? নাকি এগুলো শুধুই আলোচনার বিষয় হয়ে থেকে যাবে?