প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পকলার মঞ্চে আসছে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের চতুর্থ প্রযোজনা ‘আত্মজয়’। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে নতুন নাটকটি । আগামীকাল ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটক দুটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে তরুণ সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। যার পেছনে রয়েছে সামাজিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক সংকট; পারিবারিক সমস্যাসহ নানাবিদ কারণ। তবে, এই পরিস্থিতি প্রতিরোধ সম্ভব যদি আমরা একে অন্যকে মানসিক সহায়তা দিই। ‘আত্মজয়’ নাটকটি এই বার্তা তুলে ধরবে। থিয়েটারের শক্তিশালী মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে, এটি যুবসমাজের মধ্যে আশার আলো জাগাতে এবং জীবনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
‘আত্মজয়’ নাটকটি রচনা করেছেন মোমেনা চৌধুরী এবং নির্দেশনায়ছিলেন শামীম সাগর। এতে অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী, তাহমিনা সুলতানা মৌ, মুনিরা অবনী, রাফিউল রকি এবং তানভীর সানি। নাটকের গল্প দুটি প্রধান চরিত্র, দ্বীপ ও মমতাজের জীবন ঘিরে আবর্তিত হয়। তারা জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এক নির্জন স্থানে তাদের জীবনের ইতি টানার মুহূর্তে এক রহস্যময় ব্যক্তির আগমন ঘটে। এই ব্যক্তির উপস্থিতিতে তারা তাদের দুঃখ-দুর্দশা ভাগ করে নেয় এবং একে অপরকে বিশ্বাস করতে শিখে। শেষপর্যন্ত তারা উপলব্ধি করে যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান এবং যেকোনো সংকটই জয় করা সম্ভব যদি আমরা নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখি।
এ বিষয়ে মোমেনা চৌধুরী বলেন, ‘থিয়েটার আমার কাছে শুধুই বিনোদন নয়, এটি সমাজের দর্পণ, ভাবনার খোরাক, এবং পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। আমি সবসময় সমাজের সমসাময়িক এবং জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজে। এর অন্তর্গত বিষয় খুঁজতেই ‘আত্মজয়’ রচনার প্রয়াস। নাটকের বার্তা হলো অন্ধকার যত গভীরই হোক, আশার আলো সবসময় থাকে। এই নাটকের রহস্যময় চরিত্রটিও দর্শকের মনে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির প্রয়াস চালায়, যেখানে আত্মহত্যার বিপরীতে আত্মজয়কে তুলে ধরা হয়েছে।’
শামীম সাগর বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রবণতা একটি জটিল সামাজিক ও মানসিক বিষয়, যা বিভিন্ন সমাজ ও দর্শনে ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়েছে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মতে, এটি একটি সাময়িক সংকট, যা প্রতিরোধযোগ্য। সাংস্কৃতিক মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করে আমরা এ ধরনের সংকট মোকাবিলার পথ দেখাতে পারি, এবং সেই চেষ্টাই রয়েছে ‘আত্মজয়’-এ।’
২০১১ সালে খ্যাতনামা মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার। শূন্যনের পূর্ববর্তী প্রযোজনা ‘লালজমিন’, ‘মৃত্যু মৃত্যু খেলা’ এবং ‘রঙিন চরকি’।