প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:৩৮ এএম
ফেরদৌস আরা
দেশের প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। সম্প্রতি একুশে পদকে ভূষিত হওয়ার পর তিনি এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
ফেরদৌস আরা বলেন, ‘একজন শিল্পীকে এত বছর পারফর্ম করতে না দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। শিল্পীকে তার প্রতিভা থেকে দমিয়ে রাখা যায় না। আমার জুনিয়ররা নিয়মিত বিটিভিতে গান করছেন, অথচ আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা আমি জানি না। কারা এবং কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা-ও জানানো হয়নি।’
দেড় দশক পর অবশেষে তিনি আবার সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বছর ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষিত তালিকায় সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য নাম রয়েছে ফেরদৌস আরার।
নজরুলসংগীতের জনপ্রিয় এ শিল্পী চার যুগের বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চায় নিবেদিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক, নজরুল ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক, সংগীত উপস্থাপক, লেখক এবং প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও সমাদৃত। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত তার সংগীত প্রতিষ্ঠান ‘সুরসপ্তক’ তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
একুশে পদক প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে ফেরদৌস আরা বলেন, ‘এ স্বীকৃতি আমার সংগীতজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। আমি কৃতজ্ঞ আমার শ্রোতা, ভক্ত এবং পরিবারের প্রতি। এ পুরস্কার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।’
ফেরদৌস আরার এর চেয়ে বেশি ভালো লাগা কাজ করছে এটা ভেবে যে, কোনো দলের ব্যানারের ছায়াতলে থেকে পুরস্কারটি পাননি তিনি। তিনি বলেন, ‘অনেককেই বিগত সময়ে বলতে শুনেছিÑ আওয়ামী লীগ করেছে বলেই তারা পুরস্কার পেয়েছে। এতে পুরস্কারকে আরও অসম্মানিত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। সে জায়গায় কোনো দলের হয়ে নয়, বিনা শর্তে, স্বাধীন চিত্তে একুশে পদক পেয়েছি, এটা আমার কাছে পরম শান্তির।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক অনুষ্ঠানে এমনও হয়েছে যে, দর্শকের উচ্ছ্বাস সামলাতে রাস্তার মোড় বন্ধ রাখতে হয়েছে। শিল্পীজীবনে এটাই আমার সত্যিকারের পুরস্কার।’