প্রতিযোগিতা
ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আলাপসিং গ্রামে শুক্রবার ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় নেমে মারা যাওয়া ঘোড়া ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবি : প্রবা
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ঘটে গেল অঘটন। প্রতিযোগিতায় ‘দাপট দৌড়ে’ নেমে প্রাণপ্রদীপ নিভে গেল আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোড়াটির।
ছয় লাখ টাকা দামের প্রিয় ঘোড়াটি হারিয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন মালিক আবুল হোসেন। আর হরষের আয়োজন শেষ হলো বিষাদের মধ্য দিয়ে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আলাপসিং গ্রামে গত শুক্রবার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিযোগিতা শুরুর নির্দিষ্ট লাইন থেকে অংশগ্রহণ করা ঘোড়াগুলো সওয়ারি নিয়ে দৌড় শুরু করে। সাঁই সাঁই ছুটে চলা ঘোড়াগুলোর পিঠে সওয়ার হওয়া মালিকের স্থির দৃষ্টি কেবলই সামনে। যে করে হোক সবার আগে লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে- সওয়ারির এই আকঙ্ক্ষা পূরণে ঘোড়াগুলোও মরিয়া হয়ে দৌড়ে চলেছে। হাত তালিতে উল্লাসে ফেটে পড়ছেন হাজার হাজার উৎসুক দর্শক।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার সবচেয়ে মজার অংশ ছিল ‘দাপট দৌড়’। কিন্তু সেই পর্যায়েই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোড়াটি লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। সঙ্গে সঙ্গেই সেটি প্রাণ হারায়।
আয়োজক কমিটি জানায়, দাপট দৌড়ে চার চক্রের এক চক্র পেরুনোর পরই হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় গাঢ় খয়েরি রঙের বিশালদেহি ঘোড়াটি। আর সওয়ারির বুকফাটা আর্তনাদে কেঁপে ওঠে প্রতিযোগিতার মাঠ।
ঘোড়ার মালিক আবুল হোসেন ড্রাইভারের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায়। তিনি তার প্রিয় ঘোড়াটি ওই প্রতিযোগিতার মাঠেই দাফনের জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করেন।
আবুল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঘোড়াটি ছিল আমার খুব আদরের। কিন্তু অতি আদরের ছিল বলে কারও কাছে বিক্রি করিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওকে নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছি। শেষ পর্যন্ত ওর মৃত্যুটা লেখা ছিল এখানেই। তাই ওর শেষ শয্যাও এখানেই হোক।’
ঘৌড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজকদের একজন কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘোড়াটির দাম দেওয়ার সাধ্য আমাদের নেই। তবে মুক্তাগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান লেবু ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরে হাসানুজ্জামান সোহাগ ঘোড়ার মালিককে সান্ত্বনা দিয়েছেন। তারা তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতাও করেছেন।’
এদিকে আলাপসিং গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এই ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে শুক্রবার আশপাশের গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। খেলায় জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা এবং আশপাশের উপজেলার প্রতিযোগীরা তাদের ঘোড়া নিয়ে অংশ নেন। কদম ও দাপট ইভেন্টে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৪০ জন প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করেন। গ্রামীণ পরিবেশে এটা ছিল এক বিশাল উৎসব।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা আতাউর রহমান বলেন, ‘অনেক বছর ঘৌড়দৌড় হয়নি। এবার দেখার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগল। বিশেষ করে দাপট দৌড় খুবই আকর্ষণীয়। তবে আয়োজনের দিক দিয়ে এটিতে কিছুটা অগোছা ভাব ছিল। আয়োজকরা এই আয়োজনকে আরও সুন্দর করতে পারতেন।’
প্রতিযোগিতায় কদম দৌড়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে মাদারগঞ্জের গোলাম রব্বানী, টাঙ্গাইলের সখীপুরের মুমিনুল হক ও জামালপুরের নাসিরের ঘোড়া। কদম দৌড় দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘাড়ামার রঞ্জু প্রথম, নরুন্দির রশিদ দ্বিতীয় ও ইটাইলের রিপন তৃতীয় হন।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট দাপট দৌড়ে প্রথম রাউন্ডে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে বিদ্যাগঞ্জের লাভলু, টাঙ্গাইলের নয়ন ও মহিষমারির এমরান মীরের ঘোড়া। আর দাপট দৌড় দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রথম হয় ময়মনসিংহ সদরের মশিউর নগরের মোসলেম উদ্দিন, দ্বিতীয় বিদ্যাগঞ্জের সোহরাব ও তৃতীয় মহিষমারির আবুল হোসেনের ঘোড়া। চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ) পুরস্কার লাভ করে বিদ্যাগঞ্জের রঞ্জুর ঘোড়া।