প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:১৯ এএম
চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার
সমালোচনা যেন পিছুই ছাড়ছে না চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের। কিছুদিন পরপরই নানা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েন। কখনও শিল্পী সমিতির নির্বাচন কিংবা পদ নিয়ে, কখনও বা বেফাঁস মন্তব্যের জন্য। এবার শুধু সমালোচনাই নয়, শিল্পী সমিতি থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন তিনি। জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে নিপুণকে। অনৈতিকভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে মনগড়া বিবৃতি প্রদান করার অভিযোগে সম্প্রতি কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিল্পী সমিতির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ডি এ তায়েব। তিনি বলেন, ‘গত ১৮ তারিখ বিকালে কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন ব্যারিস্টারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তারপর গণমাধ্যমে জানানো হবে।’
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শিল্পী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিবৃতি প্রদান করেন নিপুণ আক্তার। সেখানে নিজেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন তিনি। ১৭ জুলাই নিজের ফেসবুকে সেটা পোস্টও দেন। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক সমালোচনা হয়। অনৈতিকভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করায় মিশা-ডিপজল নেতৃত্বাধীন কমিটি গত বছরের ৩০ জুলাই সমিতির ষষ্ঠ সভায় এ বিষয় উত্থাপিত হলে নিপুণকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কারণ দর্শানোর নোটিস দিলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। তার আগে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে নিয়ে গণমাধ্যমে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে এ বিতর্কিত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ করায় নিপুণকে নোটিস দেয় কার্যনির্বাহী পরিষদ। তবে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার কাছের মানুষ হওয়ায় কোনো চিঠিই আমলে নেননি নিপুণ। চালিয়ে যান তার সব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনৈতিকভাবে শিল্পী সমিতির প্যাড ব্যবহার এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে শিল্পী সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন নিপুণ আক্তার।
এর আগে ১০ জানুয়ারি সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার পাসপোর্ট অফলোড করে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। তবে নিপুণের নামে মামলা না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।