শর্ট ফিল্ম ফোরামের বিবৃতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:০৬ এএম
১৭তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিত নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান প্রেরিত বিবৃতে এ আহবান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের জরুরি সাধারণ সভায় ১৭তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর কেউ কেউ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন বলে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওইসব প্রচারনায় চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ উল্লেখ করে স্থগিতের পক্ষের সদস্যদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষ শক্তি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম জরুরিভাবে সদস্যদের মতামতের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিল যা এখনও ফোরামের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে আছে।’’
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম সবসময় স্মরণ করে। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম ছাত্র-জনতার ন্যায়সংগত আন্দোলনের সাথে সবসময়ই ছিল এবং আগামী দিনগুলোতেও থাকবে। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- ‘সাম্রাজ্যবাদ এবং স্বৈরতন্ত্রসহ সকল শোষণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা এবং সকল স্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা’।
উৎসব স্থগিতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক গত ১৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় অনলাইনে একটা জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে। সভার এজেন্ডা ছিল- ১৭তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। জরুরি সভার বিজ্ঞপ্তি এবং জুম লিংক সভার পূর্বে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সদস্যদের অফিসিয়াল গ্রুপে দেওয়া হয়। ৪১ সদস্যের উপস্থিতিতে উক্ত সভায় আসন্ন ১৭তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ২০ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪-এ অনুষ্ঠিতব্য চলচ্চিত্র উৎসবটি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততা তৈরি হলে ভোটের আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ৪১ সদস্যের মধ্যে ৫ জন সদস্য নির্ধারিত সময়ে চলচ্চিত্র উৎসবটি হওয়ার পক্ষে, ২৮ জন সদস্য চলচ্চিত্র উৎসবটি এই মুহূর্তে স্থগিত করার পক্ষে ভোট দেন এবং ৮ জন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। এই পর্যায়ে সভাপতি মিটিং থেকে বের হয়ে গেলে সহ-সভাপতি-১-এর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালিত হয়। সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন উৎসবটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ এই সিদ্ধান্তের বিরোধী কেউ কেউ এই গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে ‘ফ্যাসিস্টের দালাল’ অভিহিত করে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।”
বিবৃতিতে, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের জরুরি সাধারণ সভার গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবি এবং একটি ভয়মুক্ত, মুক্তচিন্তার আবহে শিল্প আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়।