প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:২১ এএম
পাইরেসির কবলে দরদ
প্রথম দিন রেকর্ড আয়ের পর যতই দিন যচ্ছিল, ততই দর্শক খরায় ভুগতে ছিল শাকিব খানের ‘দরদ’। সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনগুলোয় দর্শক বাড়বে, সে আশায় ছিলেন হল মালিকসহ সিনেমাসংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এরই মধ্যে অনন্য মামুনের ছবিটির জন্য দুঃসংবাদ হলো পাইরেসির কবলে পড়েছে দরদ। এমনিতেই সিনেমা হলে ভালো মানের ছবির অভাব। হলগুলোর মালিকরা দরদ নিয়ে বাজার চাঙা হওয়ার আশায় ছিলেন; তখনই পাইরেসির কবলে পড়ায় তারা অনেকটাই আশাহত। কয়েক বছরে ধরেই বড় বাজেটের ছবিগুলো বেশি পাইরেসির শিকার হচ্ছে। এর আগে রায়হান রাফীর বিগ বাজেটের দুটি ছবি ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘তুফান’ পাইরেসির কবলে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি সিনেমা হল থেকে দরদ পাইরেসি হয়েছে বলে জানান অনন্য মামুন। কারণ অন্তর্জালে দরদের যেসব সংস্করণ পাওয়া গেছে, সব কটিতেই ইংরেজি সাবটাইটেল ছিল।
গত শুক্রবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে নতুন করে মুক্তি পেয়েছে ‘দরদ’। যুক্তরাষ্ট্রেও মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। ২৯ নভেম্বর ভারতেও মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটি। এরই মধ্যে পাইরেসির খবর অনেকটা অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন নির্মাতা ও প্রযোজক। বিষয়টি নিয়ে পরিচালক অনন্য মামুন খুবই ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘পাইরেসির কবলে পড়ে নির্মাতা-প্রযোজকরা বড় আকারের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়া দরদের সব কপি সরানোর চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে পাইরেসি হওয়া প্রায় ২২ হাজার আইডি থেকে সিনেমাটি সরানো গেছে।’
একটা শক্তিশালী চক্র এ পাইরেসির সঙ্গে জড়িত বলেও জানান অনন্য মামুন। নিজের ছবিকেই উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মামুন বলেন, ‘দরদ যেভাবে পাইরেসি হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, এটা কোনো সাধারণ মানুষের কাজ নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় কোনো চক্র। শাকিব খানের নতুন ছবি পাইরেসি করলে মানুষ হুমড়ি খেয়ে এটা দেখবে, সে লোভ থেকেই তারা এটা করেছে। পাইরেসিকারীরা পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির শত্রু। তারা অল্প কিছু টাকার লোভে ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো আমরা বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
দরদের পাইরেসি নিয়ে শুধু অনন্য মামুন নন, বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল নির্মাতা রায়হান রাফীও চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ। এ পরিচালকের মতে, এমনিতেই হলে সিনেমা নেই। তার ওপর এভাবে পাইরেসি হওয়াটাকে তিনি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বলে মনে করেন।
বিষয়টি নিয়ে রায়হান রাফী বলেন, ‘সিনেমার অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়। তার ওপর যদি ব্যবসাসফল সিনেমাগুলো পাইরেসির কবলে পড়ে, তাহলে আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ি। পাইরেসির কারণে প্রযোজকরা যদি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তারা পরে অর্থ লগ্নি করত চাইবেন না। ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাইরেসি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা বন্ধ করতে হবে।’
পাইরেসি শুধু নির্মাতা-প্রযোজকের না, হল মালিকদেরও মাথাব্যথার কারণ। তারা মনে করেন, এমনিতেই
তারা হলে পর্যাপ্ত ছবি পান না। অন্যদিকে মানসম্পন্ন ছবি তো নেই বললেই চলে, যা-ও দুয়েকটি আসে তা-ও যদি পাইরেসি হয়ে যায়, তাহলে তাদের হল চালানোই কষ্টকর হয়ে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। যিনি ঢাকার মধুমিতা হলের মালিক। হল থেকেই পাইরেসি হয় বলে মনে করেন তিনি। তাই তিনি প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহে ব্যাগ নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করতে হবে।
বিদেশের হলগুলোয় যখন ছবিটি পাঠানো হবে, তাদেরও পাইরেসির বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। পাইরেসিতে অনেক বড় ক্ষতি হয়। পাইরেসি যদি হয়, আমাদের হলেও তো লোক আসবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি একবার নেওয়া গেলে এসব বন্ধ হয়ে যাবে।’
দীর্ঘদিন পর উৎসব ছাড়া বড় বাজেটে ও দেশের সবচেয়ে বড় তারকার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে উল্লেখ করে রায়হান রাফী বললেন, ‘ঈদ ছাড়া মুক্তি পাওয়া ছবি যদি এভাবে পাইরেসি হয়ে যায়, তাহলে দর্শকের আগ্রহ কমে যায়। অনেকে ভাবেন পাইরেসি কপিটা দেখবেন। আমার অনুরোধ, যদি আপনারা সিনেমাপ্রেমী হন, পাইরেসি কপি দেখবেন না। এটা দেখা অন্যায়, দণ্ডনীয়। কেউ লিঙ্কও শেয়ার করবেন না। যিনি শেয়ার করবেন, তিনিও আইনের আওতায় পড়বেন।’