প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১০:০৬ এএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
মডেল সিফাত নুসরাত; কোলাজ ছবি
বাংলাদেশের মডেলিং জগতের তরুণ মুখ সিফাত নুসরাত। সম্প্রতি বেশকিছু কাজ করেছে সাড়া ফেলেছেন এই মডেল। মডেলিংয়ের শুরুতে নুসরাত ব্রাইডাল লুক দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। তবে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রোডাক্ট মডেলিং থেকে শুরু করে নানান দেশী ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নিয়ে। আগামী জানুয়ারিতে ওপার বাংলার কলকাতায় কারমা ইন্টারন্যাশনালসের একটি অ্যাওয়ার্ড শোতে পারফর্ম করবেন তিনি। বর্তমান কাজ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সিফাত নুসরাত কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ- এর প্রতিবেদকের সঙ্গে।
প্রবা: বাংলাদেশি মডেল হয়ে কিভাবে আন্তর্জাতিক
অঙ্গণে কাজের সুযোগ পেলেন এবং প্রথম কাজ কি?
সিফাত নুসরাত : আমি বাংলাদেশে একটানা
৩ বছর ব্রাইডাল মডেল হিসেবে কাজ করে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছি। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের
বিভিন্ন জায়গায় ব্রাইডাল ওয়ার্কশপ গুলোতে মডেল হিসাবে আমাকে ডাকা হতো। এভাবেই ফরিদপুরের
একটা ওয়ার্কশপের আকলিমা বেগম (মেকাপ আর্টিস্ট) আমাকে তার মডেল হিসেবে নিয়ে যান। সেটাই
বলতে পারেন আমার ক্যারিয়ারে একটা লাকি ওয়ার্কশপ ছিল, ওখানে আমাকে স্টেজ দেখেন কারমা ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধান অঞ্জনা রয়। সেখান থেকেই
তিনি আমাকে কলকাতার নেক্সট একটা ওয়ার্কশপের মডেল হিসেবে ইনভাইট করেন।
প্রবা : এখন পর্যন্ত কোন কোন আন্তর্জাতিক
ব্রান্ডের সাথে কাজ করা হয়েছে?
সিফাত নুসরাত : এখন পর্যন্ত তিনটা আন্তর্জাতিক
ব্রান্ডের সাথে আমার কাজ করা হয়েছে - আফলাইজা, রিকোড এবং ফরএভার ফিফটি টু। কলকাতার
যেসব স্টেটে ওদের আউটলেট আছে, সবগুলোতেই আমার ছবি প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ইন্টারন্যাশনালি
কিছু মেকাপ আর্টিস্টের সাথে কাজ করারও সুযোগ হয়েছে।
প্রবা : এই তিনটি ব্র্যান্ডের সাথে কাজ কিভাবে হলো?
সিফাত নুসরাত : কলকাতাতে যখন আমি কারমা
ইন্টারন্যাশনালের ওয়ার্কশপে যায় ওখানে সব ব্রান্ডের ওনাররা (মালিক) ছিলেন, সেখান থেকেই
আমাকে দেখে তারা সরাসরি অঞ্জনা রয়ের সাথে কথা বলেন এবং তিনিই আমার সাথে সবার পরিচয়
করিয়ে দেন। প্রথমে আফলাইজা, রিকোড এর সাথে আমার কাজ হয় এবং কাজটা রিলিজ পাওয়ার পরে
কারমা সাথে পূনরায় যোগাযোগ করেন ফরএভার ফিফটি টু। তারাও আমাকে তাদের ব্র্যান্ডের মডেল
হিসেবে চুক্তি বন্ধ হতে চান, পরে আমাকে তারা কলকাতাতে নিয়ে যান এবং আমি তাদের সাথে
এভাবেই কাজ করি।
প্রবা : দেখলাম আবার কলকাতা যাচ্ছেন?
নতুন কোনো ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন নাকি?
সিফাত নুসরাত : আমি যদি বাইরে কোথাও যায় বুঝে নিবেন কোনো কাজ ছাড়া যায় না, কাজ ঘুরাঘুরির জন্য একটা সময় করে নেই, তা না হলে আমি সময় করে উঠতে পারি না। এবারও বেশ কিছু কাজ নিয়ে যাচ্ছি সকলের দোয়া থাকলে কাজের পরে জানিয়ে দিবো। আপাতত এতটুকু বলতে পারি যাওয়ার আরও একটা কারণ হচ্ছে কারমার ইন্টারন্যাশনাল মেকাপ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানুয়ারিতে।
প্রবা : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কাজের মধ্যে আপনার কাছে পার্থক্য
কি মনে হয়েছে?
সিফাত নুসরাত : অনেক অনেক অনেক বেশি
পার্থক্য রয়েছে। আমি একজন বাংলাদেশি মডেল সেখানে কাজ করতে গেছি সেটা তারা আমাকে বুঝতেও
দেয় নাই, কতটুকু সম্মান একজন আর্টিস্টিকে করলে সে কাজটা পরবর্তীতেও করতে আগ্রহী হয়
সেটা তারা জানেন। আমি বারবার তাদের সাথে কাজ করতে চাই।
প্রবা : কারমার সাথে আপনার চুক্তি হয়েছে
কত বছরের?
সিফাত নুসরাত : আমি তিনটা ইন্টারন্যাশনালি
ব্রান্ডের সাথে কাজের সুযোগ পাওয়ার পরে কারমা আমার সাথে তিনবছরের চুক্তি করেছেন, আমাকে
চার মাস তারা আগে পর্যবেক্ষণ করেছে , যে আসলেই আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কতটা সিরিয়াস,
যখন তারা দেখেছে সব ভালো ব্রান্ড গুলো আমাকে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে, এবং আমিও দেশের
বাইরে মুভ করে শুট গুলো করতে পারছি , তখন তারাও আমার উপর বিশ্বাস এনেছে, একটা কাজের
উপর ডিপেন্ড করে কারমা কোনো মডেলের সাথে সাইনিং এআসেন না, আর বাংলাদেশ থেকে বাইরে মুভ
করে শুট করা বারবার শুটের পারপাসে সেটাও কম কথা না, যেহেতু সবগুলো ইন্টারন্যাশনালি
ব্রান্ড তাই শুট গুলো সবই দেশের বাইরে হয়। যেকারণে তাদের মনে একটু সংশয় থাকলেও আমি
সেই সংশয় কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।
প্রবা : ইন্টারন্যাশনালিভাবে নিজেকে
কোথায় দেখতে চান ইনফিউচার?
সিফাত নুসরাত : আমি তো চাই ইন্টারন্যাশনালি
যত বড় বড় ব্রান্ড আছে সব ব্রান্ডের সাথে কাজ করতে , বাকিটা দেখা যাবে , আসলে আমি নিজেকে
আরও যোগ্য এবং আরও পলিস করতে চাই এখনো, আমার মনে হয় আমাকে আরও জানতে হবে আর শিখতে হবে,
আমার হাতে সময় আছে এবং নিজের উপর বিশ্বাস আছে তাই কোনো তাড়াহুড়ো করে একটাও ভুল সিদ্ধান্ত
নিয়ে ভুল কাজ করতে একদমই চাই না। কারণ আমি লং টাইমের জন্য এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে
এসেছি। তাই আমি একটা কাজ করার আগে অনেক সময় নিয়ে ভেবে দ্যান কাজটা করি। সকলের দোয়া
থাকলে হইতো সামনে ভালো কিছু দিতে পারবো আপনাদের।
প্রবা : বড় পর্দা আপনাকে দেখবো কবে?
সিফাত নুসরাত : সময় হলেই দেখবেন, একটা সিনেমা করে নায়িকার তকমা তো লাগাতেই পারি, কিন্তু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই নায়িকা হিসেবে না। আমি মনে করি একসময় আমি হইতো হারিয়ে যেতে পারি কিন্তু আমার কাজ যেনো মানুষের মনে থেকে যায়। আর অভিনয় রপ্ত করতে হলে আমাকে আরও সময় নিতে হবে, ওই যে বললাম নিজেকে আরও পলিস করতে চাই।