গোপন ভিডিওকাণ্ড
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৫০ এএম
সাদির পাশে তিশা-মৌসুমী । ছবি: সংগৃহীত
ছোটপর্দার মিষ্টি মেয়ে হিসেবে সমাদৃত সাদিয়া আয়মান। হাতেগোনা কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে নিজের অভিনয়দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে সম্প্রতি দেশের একটি পত্রিকার সংবাদ প্রদায়কের বিরুদ্ধে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ আনেন তিনি। ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে এ কথা জানান। এর পরই তার বিরুদ্ধে একাট্টা হন অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা। অভিনেত্রীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন নেটিজেনের একাংশ।
এ ঘটনায় সাদিয়া আয়মান যখন কাউকে পাশে পাচ্ছিলেন না, তখন তার হয়ে কথা বলেন তানজিন তিশা। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘কথায় কথায় নায়িকাদের চরিত্র খারাপ! কেন? একটা মেয়ে সাধনা, অধ্যবসায়, পরিশ্রমের দীর্ঘ জার্নিতে অভিনয়টা ভালো করলেই নায়িকা হন। আমরা পরিবারের চেয়ে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাই। সেদিক থেকে এটাও আমাদের পরিবার। আর পরিবার হয়ে উঠলেই গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যেখানে সম্পর্ক আছে সেখানে ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমার মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গেও ভুল বোঝাবুঝি হয়। কই, তারা তো চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না! তাহলে আপনারা আমাদের কেমন পরিবারের সদস্য হলেন যে, কথায় কথায় নায়িকাদের চরিত্র নিয়ে ছোট করেন?’
শেষ দিকে তিশা খানিকটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘যুক্তি দিয়ে হেরে যাবেন বলে নারীদের চরিত্রে হাত দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চান? ভুল বোঝাবুঝি হলে যুক্তি দিয়ে কথা বলেন, তাতে আমাদের সার্বিক সম্মান বজায় থাকবে। আপনার পরিবারের কাউকে ছোট করে কি আপনি বড় হচ্ছেন ভাবছেন?’
এর পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মৌসুমী হামিদ। তিনিও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অবাক হয়েছি যারা সাদিয়া আয়মানের ভিডিও দেখে পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে তো তেমন কিছুই দেখা যায় নাই; তাদের ওপর। যিনি ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তার জন্য আমার কিছুই বলার নেই। উনি ভিডিও ডিলিটও করেছেন। আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সর্বনাশ যা হওয়ার তো হয়ে গেছে। ভিডিও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে এবং মানুষের ট্রলিং। কারণ আমি ওনাকে যতটুকু চিনি, উনি একদমই ক্ষতিকারক মানুষ নন। বেশ বন্ধুসুলভ হাস্যোজ্জ্বল এবং প্রচণ্ড পরোপকারী মানুষ। আমি বিশ্বাস করতে চাই না, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এমন কাজটা করেছেন। লুকিয়ে বা গোপন ক্যামেরায় তো নয়ই। বরং অনুতপ্তই হয়েছেন বলে আমি মনে করি।’
তার ভাষ্য, ‘যারা বলছেন ভিডিওতে তেমন কিছুই দেখা যায় নাই তাদের জন্য প্রশ্ন আছে, এই তেমন কিছুই না দেখা ভিডিওটির কারণে যে পরিমাণ নোংরা, অসভ্যতা, বুলিং, বডি শেমিং, রেপ থ্রেট মেয়েটাকে সহ্য করতে হয়েছে বা এখনও হচ্ছে; সেটা যদি আপনার পরিবারের কোনো মেয়েকে সহ্য করতে হয়, আপনি সেটা দেখার জন্য প্রস্তুত আছেন তো?’
সাদিয়া আয়মান ব্যক্তিজীবনে প্রতিবাদী চরিত্রের। সবশেষ দেশের পট পরিবর্তনের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি। এ সাহসী ভূমিকার জন্য প্রশংসিতও হন।