প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৫৭ এএম
প্রবা কোলাজ
গত মার্চে ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন পরীমনি। সেই সময় কলকাতায় তার প্রথম সিনেমা ‘ফেলু বক্সি’র শুটিং করে আসেন। এখন আবার যাওয়ার কথা ছিল সিনেমার ডাবিংয়ে। কিন্তু ভিসা জটিলতায় আটকে গেছেন তিনি। তাই, ডাবিংয়ের জন্য ভারত যেতে পারছেন না পরীমনি। জানা গেছে, মার্চ মাসে ফেলু বক্সি ছবিটির শুটিং শেষে কিছুটা ডাবিংও করেছিলেন পরীমনি। এখন কলকাতা গিয়ে বাকি অংশ ডাবিং শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু আপাতত সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না ভিসার জটিলতায়। কেবল কয়েকটি জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল বা স্টুডেন্ট ভিসা দিলেও অন্য ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস। শুধু ‘ফেলু বক্সি’ই নয় ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় আটকে গেছে ঢালিউড ও টালিউডের চার-চারটি সিনেমার কাজ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হাসিনা সরকারের পতন এবং নতুন সরকার গঠনের পর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কাটছে না এই দুই সিনেপাড়ার জটিলতা। থমকে গেছে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ চলচ্চিত্রের কাজ ।
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের দুটি সিনেমায় শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল কলকাতার দুই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও স্বস্তিকা মুখার্জির। আবার ভিসা না পাওয়ায় অভিনেত্রী ফারিণের হাত থেকেও ফসকে গেছে কলকাতার সিনেমা ‘প্রতীক্ষা’। কলকাতা গিয়ে শুটিং করতে না পরায় ফারিণকে চুক্তিই বাতিল করতে হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতার শিল্পীরাও বাংলাদেশে আসতে ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় পড়েছেন। তাদের আবেদনে কোনো সাড়া পাওয়া
যাচ্ছে না ।
ফলে স্বস্তিকা মুখার্জিকে নিয়ে ‘আলতাবানু জোছনা দেখেনি’ সিনেমার শুটিং শুরুই করতে পারেননি এর নির্মাতা। আর ‘তরী’ সিনেমার শুটিংয়ের কাজ শতকরা ৮০ ভাগ শেষ হলেও বাকিটুকু ঝুলে আছে
ঋতুপর্ণা ঢাকায় আসতে না পারার জন্য। এই জটিলতায় শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজকরা কাজগুলো নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
পরিচালক হিমু আকরামের ‘আলতাবানু জোছনা দেখেনি’ সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ সেপ্টেম্বর।এই সিনেমার প্রধান অভিনয়শিল্পী কলকাতার স্বস্তিকার শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৭ বা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। বাস্তবতা হলো সিনেমার শুটিংই শুরু করা সম্ভব হয়নি।’
পরিচালক হিমু আকরাম বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুটিংয়ের পরিকল্পনা রেখেছিলাম। সেভাবে প্রস্তুতিও ছিল। স্বস্তিকা মুখার্জি কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে কাজ করবে, ‘ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনও করে রেখেছি, কিন্তু সেটা পাচ্ছি না। ভিসা প্রসেসিংয়েরও একটা জটিলতায় পড়ে গেছি। তাই শুটিং শুরু করা যাচ্ছে না। ওয়ার্ক পারমিটের অনুমতি কবে পাওয়া যাবে সেটাও জানি না। সিনেমার সবকিছুই চূড়ান্ত হয়ে আছে, সময়মতো শুটিং শুরু না হলে তো ক্ষতির মুখে আমাদের
পড়তে হবে।’
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাশিদ পলাশের পরিচালনায় ‘তরী’ সিনেমার দ্বিতীয় পর্বের শুটিংয়ে ঢাকায় আসার কথা ছিল টালিগঞ্জ তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের। কিন্তু সেখানেও ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সমস্যা বাদ সেধেছে।
এই সিনেমার পরিচালক রাশিদ পলাশ বলেন, ‘‘আমার ‘তরী’ সিনেমার ৮০ শতাংশ শুটিং শেষ। ঋতুপর্ণা দিদির অংশটুকুই বাকি আছে। পরিকল্পনা ছিল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কাজটা শেষ করার। এখন যে পরিস্থিতি আছে তাতে সেপ্টেম্বরে শুটিং অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন চেষ্টা করছি অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে শুটিং শেষ করার। দিদির সঙ্গে কথা হয়েছে, সবকিছুই ঠিক আছে পরিস্থিতিটা আরেকটু স্বাভাবিক হলে শুটিংয়ে ফিরব।’’
রাশিদ পলাশ বলেন, ‘আর দুই দেশের কাজের ক্ষেত্রে কোনো সংকট তৈরি হোক আমরা তা চাই না। আমার মনে হয় খুব দ্রুতই সংকট কেটে যাবে এবং আশা রাখছি কাজটিও ভালোভাবেই শেষ করতে পারব।’
কলকাতার বাংলা সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে ‘প্রতীক্ষা’ সিনেমায় কলকাতার নায়ক দেবের বিপরীতে কাজ করার কথা ছিল ঢাকার ছোট পর্দার অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের। কিন্তু ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকায় কাজটি ছেড়ে দিতে হচ্ছে তাকে।
ফারিণ বলেন, ‘নানা অনিশ্চয়তায় সিনেমাটি থেকে সরে আসতে হয়েছে। নভেম্বর মাসে শুটিং শুরুর কথা ছিল, শুরু করা না গেলে দেব ও মিঠুন চক্রবর্তীর শিডিউল পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ থেকে এখন ভিসা পাওয়াটাও অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তাই সিনেমাটিতে আমার কাজ করা হচ্ছে না।’