অভিনয়ে দেড় যুগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:০০ এএম
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
অভিনয়টা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর কাছে দায়িত্বশীল কাজ। সে জায়গা থেকে সরিয়ে রাখেন তারকা খ্যাতির লোভ। অভিনয়ের মাটি, সেই পরিবেশের গন্ধ তার প্যাশন। নিজেকে অতিরঞ্জনের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ফেলতে চান না। কারণ তিনি জানেন, দর্শকের চাহিদায় ও ভালোবাসায় আজকের অবস্থানে এসেছেন। সে ভালোবাসায় অভিনয় জীবনের দেড় যুগ পূর্ণ করলেন অপূর্ব। একটু একটু করে নিজের জায়গা মজবুত করেছেন। হয়েছেন সুপারস্টার। অভিনেতা বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি, কারণ তিনি আমাকে সুন্দর একটি জীবন দিয়েছেন, আমার বাবা-মায়ের কারণে এ পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতে পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি আমার প্রথম বিজ্ঞাপনের নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী ভাই, প্রথম নাটকের নির্মাতা গাজী রাকায়েত ভাই, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, শিহাব শাহীনসহ বিভিন্ন সময়ে আরও যারা আমাকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করেছেন তাদের প্রতি।’
বলা হয়, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এলিট শ্রেণির নাটকে বেশি অভিনয় করেছেন অপূর্ব। তবে এ অভিনেতা তা মানতে নারাজ। তার ভাষ্য, ‘যারা এসব বলেন তাদের আমি প্রশ্ন করতে চাইÑআমি ২০০৬ সাল থেকে নাটক করি। আপনারা আমার কটি নাটক দেখেছেন? আমি বিভিন্নরকম চরিত্রে অভিনয় করেছি। তবে এটা সত্য, এলিট শ্রেণির নাটকে বেশি অভিনয় করেছি। তাই বলে আমি ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করিনি, তা কিন্তু নয়। আমার প্রচুর নাটক আছে যেগুলো এলিট শ্রেণির বাইরের কাজ। সেসব কাজের মধ্যে রয়েছে গুড়, পুতুলমানুষ, স্বপ্নের চিতার মতো অনেক নাটক বা টেলিছবি; যেগুলো শহরের এলিট শ্রেণির চরিত্রের বাইরে গিয়ে অভিনয় করেছি। সুতরাং বলব, না জেনে এ ধরনের কথা বলা বোকামি।’
এখন জনপ্রিয়তা পরিমাপ করা হয় ইউটিউব ভিউর ওপর। তিনিও এতে বিশ্বাসী। তবে মানদণ্ডে নয়। অপূর্ব বলেন, ‘ভিউ মানে দর্শক। তবে ভিউ যে নাটকের মান নির্ধারণ করে, এটায় বিশ্বাসী না। এখন যারা অনলাইনে নাটক দেখেন তারা অধিকাংশই টিনএজার। তারা মজার নাটক দেখতে চান। জীবনমুখী সিরিয়াস নাটক দেখতে চান না। প্রতিটি গল্প বোঝার জন্য একটা নির্দিষ্ট বয়সের প্রয়োজন হয়। এর বাইরে কিছু দর্শক আছেন যারা জীবনমুখী গল্পের নাটক পছন্দ করেন। কিন্তু তাদের অনলাইনের প্রতি আগ্রহ কম। দেখা যায়, জীবনমুখী গল্পের ভালো নাটক অনলাইনে প্রকাশিত হলে সেগুলোর ভিউ কম হয়।’
অনেকের ধারণা অপূর্ব মুডি। কেউ একটু বাড়িয়ে বলেন অহংকারী! আসলে কি তাই? উত্তরে অভিনেতা বলেন, ‘প্রত্যেক শিল্পী কোনো না কোনো দিক থেকে মুডি হয়ে থাকেন। অভিনয় করতে গেলে মুড ক্রিয়েট করতে হয়। আর এ মুড ক্রিয়েটের সুযোগটা একজন ডিরেক্টর করে দেন। এ রকমভাবে বলতে গেলে আমি মুডি। এটা শিল্পীর মধ্যে ইমোশন তৈরি করে। ইমোশন না থাকলে অভিনয় করা কঠিন হয়ে যায়। আর হ্যাঁ, মুডি বলে এটা ভাবা যাবে না যে, আমি অহংকারী। সব সময় মাটিতে পা রেখে চলি। আমি জানি, আমার আজকের এ অবস্থান তৈরি হয়েছে দর্শকের জন্য।’
নাটকের পাশাপাশি অপূর্ব ওয়েব সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে চড়া দামে জায়গা কিনেছেন পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের মনে। বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে চমকে দিচ্ছেন অনুরাগীদের।