প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৫৬ এএম
আজমেরি হক বাঁধন, নাজিয়া হক অর্ষা ও খায়রুল বাসার (বা থেকে)
অভিনয়শিল্পী সংঘের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানে সংস্কারকামী অভিনয়শিল্পীরা। তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়ার পরও পদত্যাগ না করায় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি অনাস্থা এনেছেন। রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ‘দৃশ্যমাধ্যমের শিল্পী সমাজ’-এর ব্যানারে ‘কথা বলতে চাই, কথা শুনতে চাই’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এ ঘোষণা দেন তারা। এখন থেকে সংগঠনের নেতাদের অভিভাবক মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘের কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এতে শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংস্কারকামীরা। আন্দোলনে অন্যতম বড় ভূমিকা পালনকারী আজমেরি হক বাঁধন বলেন, ‘কিছু তরুণ এক হয়েছেন, যারা এই মিডিয়াকে সুন্দর করে সাজাতে চান। যারা এখন জায়গা ধরে রেখেছেন, তারা তরুণদের জন্য জায়গাটা ছেড়ে দেন। এখানে অনেক সংস্কার প্রয়োজন।’
খায়রুল বাসার বলেন, ‘‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এই আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নিয়ে আমাদের শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের কিছু নেতা ও সদস্য ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ খুলেছিলেন। এখন আমরা রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে বন্ধুরা ‘আলো আসবেই’ বলে আমাদের অপমান করে। সরকার পতনের পর পুরো দেশে যখন সংস্কার চলছে তখন আমরা আমাদের শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের সংস্কার চেয়েছি।’’
নাজিয়া হক অর্ষা বলেন, ‘এখন দেশের সবখানে সংস্কার চলছে। আমরা মনে করি, আমাদের শিল্পীদের জন্য সেটা আগে জরুরি। শিল্পী হিসেবে আমি তো কোনো দলভিত্তিক কাজে ছিলাম না। আমি তো ন্যায়কে ন্যায় বলব, অন্যায়কে বলব অন্যায়। যদি সেটা না করতে পারি তাহলে আমি কিসের শিল্পী!’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্যামল মাওলা, মনোজ প্রামাণিক, সাবেরী আলম, সোহেল মণ্ডল, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, ইমতিয়াজ বর্ষণ, সমাপ্তি মাসুক, এলিনা শাম্মিসহ অনেকে।
এর আগে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে সংস্কারের নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা পেশ করা হয়নি। তবে এ দিন সংস্কারের প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সেগুলো হলোÑ অভিনয়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি এবং অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নতুন করে রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু, তিন ধরনের কোর্সের ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করা, প্রফেশনাল কার্ডের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, রিফরমেশন অ্যাক্ট চালু, অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুষ্ঠু, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিফট সিস্টেম, ওভারটাইম চার্জ, ডেট ক্যান্সেলেশন চার্জ চালু, ন্যূনতম পারিশ্রমিক নির্ধারণ।
প্রস্তাবনা পেশপরবর্তী পরিকল্পনা জানতে যোগাযোগ করা হয় মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের সঙ্গে। তিনি জানান, অভিনয়শিল্পী সংঘ সংস্কার করতে প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাবেন তারা। তার মতে, শিল্পীরা কেউ কারও শত্রু নন। সবার ভালোর জন্যই সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই।