রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:২০ এএম
লগ্নজিতা চক্রবর্তী। ছবি : সংগৃহীত
বসন্তকন্যা লগ্নজিতা চক্রবর্তী। ঋতুরাজ বসন্ত আসে তার গানে ভর করে। শিশুসুলভ কণ্ঠ, অথচ তিনি কুহকময়ী। তার জাদুকরী সুরে মিলেমিশে একাকার গঙ্গা-পদ্মা। তবে এখন গান রেখে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। এর মাঝেই কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ
নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু এতদিনেও মূল অপরাধীরা ধরা পড়েনি। বিচারব্যবস্থাকে দুষবেন?
বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। বাড়িতে বসে থাকতে পারিনি। বাংলায় নারীদের সুরক্ষা যে কতটা কম, তা এ ধরনের ঘটনা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। এতটা দিন পেরিয়ে গেল, এখনও অপরাধীদের ধরে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছি। তদন্ত প্রক্রিয়াতেও অসন্তোষ আছে।
তিনি তো আপনার গানের ভক্ত ছিলেন। তার কলার টিউনে আপনার ‘বেহায়া’ গানটি সেট করা ছিল।
এটা জানার পর থেকেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তার সঙ্গে দেখা না হওয়াটা আমাকে বড্ড বেশি পোড়াবে। এখন যদি দেখা হতো, তাহলে তাকে জড়িয়ে ধরতাম।
বাংলাদেশেও আপনার গান জনপ্রিয়। জানেন তো নিশ্চয়ই?
বাংলাদেশের শ্রোতারা যে আমার গান পছন্দ করেন সেটা আমি ফেসবুক-টুইটারে প্রমাণ পাই। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার কাছে এটা ভালো লাগার বিষয়।
আপনার কণ্ঠ অন্য সবার মতো না। দূর থেকে শুনলে যে কেউ বলে দিতে পারেনÑ এটা লগ্নজিতার গান। এই ‘ব্র্যান্ডিং’ উপভোগ করেন?
উপভোগের লজিক্যালি কোনো কারণ নেই। আমার কণ্ঠ পুরোপুরি ঈশ্বরপ্রদত্ত। এতে আমার কোনো হাত নেই। আমি শুধু রেওয়াজের মাধ্যমে কণ্ঠকে আরও শ্রুতিমধুর করি। তবে নিজেকে খুব লাকি যে, আমার কণ্ঠ ভিন্নরকম।
আপনার গানের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়!
একটু আগে আপনি বলছিলেন, আমার কণ্ঠ অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। গানের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে এটি বড় কারণ। সব গানে আমার কণ্ঠ মানায় না। সেজন্য গান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেহেতু সব গান আমার গলায় মানায় না, তাই আমাকে দিয়ে বাছাইকৃত কিছু গান করানো হয়।
শুনেছি, বিদেশে কনসার্ট করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সত্যি?
ঠিকই শুনেছেন। তবে একদম যে করব না, তা নয়। আপাতত করতে চাই না। ২০১৯ সালের পূজায় শেষবার বিদেশে অনুষ্ঠান করেছি। দেশের বাইরে স্টেজ-শো করার ব্যাপারেও কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা আছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
কিন্তু বাংলাদেশে কনসার্ট করার জন্য মুখিয়ে আছেনÑ
একদম তাই। বাংলাদেশ আমার কাছে বিদেশ নয়। পশ্চিমবঙ্গ আমার কাছে যেমন, বাংলাদেশও ঠিক তেমন। কিন্তু দেশটির প্রতি আমার খুব অভিমান জমে আছে। এখন অবধি আমি দেশটিতে একটি কনসার্টও করতে পারিনি। অথচ আমার বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়ররা একবার হলেও বাংলাদেশে গান গেয়েছেন। এটা নিয়ে এক প্রকার দুঃখ আছে। আমি মন থেকে চাই, বাংলাদেশে স্টেজ-শো করতে।