অরুণাকে বললেন পরীমনি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০০:৩৩ এএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:২৪ এএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রুপের কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ গ্রুপটিতে মূলত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পীরা ছিলেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনে অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে লিখতে দেখা গেছে, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন। ফায়ার সার্ভিস ও গণমাধ্যমকে ঢুকতে দিচ্ছে না টোকাই জামায়াত-শিবিরের মেধাবী আন্দোলনকারীরা।’
তখন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেছেন, ‘গরম জল দিলেই হবে।’
অরুণা বিশ্বাসের এ মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে ক্ষোভ আর ঘৃণা উগরে দেন পরীমনি। তিনি লিখেছেন, ‘অমানুষ! হিংস্র! লোভী! এত হিংসা নিয়ে কখনই শিল্পী পরিচয় বহন করতে পারেন না আপনি। ধিক আপনাকে। থু...।’
মুহূর্তেই তার এ মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এম এ সরকার নামে একজন লিখেছেন, ক্ষমতার জন্য মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে। ধিক্কার জানাই এসব মানুষদের।
আবদুল্লাহ আল মামুন নামে একজন লিখেছেন, এদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।
বাপ্পারাজ লিখেছেন, ধন্যবাদ পরী, আমিও ছিলাম ছাত্রদের পক্ষে।
হোসাইন মোবারক নামে একজন লিখেছেন, শিল্পসাহিত্যের মানুষ দালাল হলে খুব কষ্ট লাগে।
‘আলো আসবেই’ গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ গ্রুপের অ্যাডমিন ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, চিত্রনায়ক রিয়াজ, অভিনেতা সাজু খাদেম ও অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিল্পী ও নির্মাতাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাজপথে ছিলেন। পুলিশের গুলিতে একের পর এক শিক্ষার্থীর নিহতের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন বহু শিল্পী-নির্মাতা। ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়ন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখা গেছে অল্প কয়েকজন শিল্পীকে। মূলত তারাই ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের সদস্য ছিলেন।