প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৫:০৬ পিএম
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও সাবিলা নূর।
গেল বছরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে মুক্তি পায় ওয়েব সিরিজ ‘বুকের মধ্যে আগুন’। এ সিরিজে গোলাম মামুন চরিত্রটি দিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের জীবন ও মৃত্যুরহস্যের ওপর নির্মিত বলে সিরিজটি নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়। তাতে অবশ্য কান দেয়নি হইচই। তারা এ সিরিজের গোলাম মামুন চরিত্রকে কেন্দ্র করে নতুন গল্প নিয়ে আসছে। এ স্পিন-অব সিরিজেও নামভূমিকায় অভিনয় করছেন অপূর্ব। নতুন করে গোলাম মামুনকে হাজির করার দায়িত্ব এবার শিহাব শাহীনের কাঁধে। এ খবর বেশ পুরোনো।
নতুন করে জানা গেল, এ সিরিজে অপূর্বর সঙ্গে থাকছেন সাবিলা নূর। অবশ্য তার অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারটি অনেক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। তবে নিশ্চিত ছিল না। সেটাই নিশ্চিত হলো সাবিলার জন্মদিনে। এদিন হইচই বাংলাদেশ তার ছবিসহ ঘোষণা দিয়ে ব্যাপারটি নিশ্চিত করে। সেখানে তারা জানায়, সাবিলা আসবেন রাহী চরিত্রে।
এ নিয়ে সাবিলা বলেন, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমি গোলাম মামুনে আছি নাকি। হইচই থেকে যেহেতু কিছু বলার বারণ ছিল তাই কাউকে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু আমার জন্মদিনে যে এভাবে তারা আমাকে সারপ্রাইজ করবেন আমার জানা ছিল না। অনেক ধন্যবাদ হইচই বাংলাদেশকে।’
এ সিরিজে অপূর্ব-সাবিলা ছাড়াও রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ, নাজমুস সাকিব, সাবরিন আজাদ প্রমুখ। ১৩ জুন সিরিজটি মুক্তি পাবে হইচইতে। আর ২ জুন মুক্তি পাবে এর ট্রেলার। এদিকে অপূর্ব জানালেন এ সিরিজটির শুটিং করতে গিয়ে তার করুণ এক গল্প। এর শুটিংয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন জনপ্রিয় এ তারকা। অ্যাকশন দৃশ্য করতে গিয়ে হাতে ও পিঠে মারাত্মক চোট পান তিনি। জানা গেছে, আউটডোর শুটিংয়ের সময় অ্যাকশন দৃশ্য করতে গিয়ে এ চোট পান অভিনেতা। সেই সঙ্গে তার ব্যাকপেইন ওঠে। মাসল পেইন ও ব্যাকপেইন একসঙ্গে হওয়ায় অনেকটা সেন্সলেস হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় তার। এরপর তৎক্ষণাৎ ফিজিওথেরাপিস্ট এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও অল্প সাময়িক চিকিৎসা নিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান অপূর্ব। তার পরও শুটিং বন্ধ রাখেননি তিনি। পরিচালক এদিন শুটিং বন্ধ রাখতে চাইলেও শুটিংয়ের ক্ষতি হবে ভেবে কাজ চলমান রাখেন অপূর্ব।
এ বিষয়ে সিরিজটির পরিচালক শিহাব শাহীন বলেন, ‘শুটিং করার সময় হঠাৎই গুরুতরভাবে ইনজুরড্ হয় অপূর্ব। পরে ফিজিওথেরাপিস্ট এসে প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট করেন। ইনজুরড্ অবস্থায় অপূর্বর শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসক দ্রুত পেইন কিলার ইনজেকশন দেওয়ার পর সে কিছুটা স্বাভাবিক হয়। অপূর্বকে কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু শুটিংয়ের ক্ষতি হবে ভেবে সে কাজ চলমান রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর টানা কয়েক দিন শুট থাকলেও সে কোনো বিরতি নেয়নি বরং কাজ চালিয়ে যায়। অপূর্ব কাজের প্রতি বরাবরই ডেডিকেটেড। সে নিজের আগে অন্য সবার কথা চিন্তা করে। এটাই অপূর্বর গুণ।’ বিষয়টি নিয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বলেন, ‘একটা কাজের সঙ্গে অনেক মানুষ জড়িত থাকে। শুধু আমার কথা চিন্তা করলেই তো হবে না। আমার অনেক আগে থেকেই ব্যাকপেইনের সমস্যা, তার মধ্যে ওইদিন ইনজুরড্ হওয়া, সবকিছু মিলিয়ে কষ্ট হচ্ছিল। পেইন কিলার নেওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক হই।’ দর্শক গোলাম মামুনকে পর্দায় দেখে আনন্দিত হলেই সব শ্রম সফল হবে বলে মনে করেন অপূর্ব।