দুদকে অভিযোগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৪ ১৩:০৯ পিএম
অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ করেছে জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন।
দেশের জনপ্রিয় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজ। গান প্রযোজনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে বেশ অনেক দিন ধরেই নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটি। অনেক ভালোর ভিড়ে প্রায়ই নানা রকম মন্দ সংবাদেও শিরোনাম হয় জি-সিরিজ। এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ করেছে জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
এনে অনুসন্ধানপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে ব্যান্ডটি।
চিঠিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি শিরোনামহীনের নিজস্ব এবং কপিরাইটকৃত বেশ কিছু গান বিদেশি কিছু কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং সেসব অর্থের বিপরীতে সরকারকে কোনো ভ্যাট/ট্যাক্স প্রদান করছে না। এতে গানগুলোর প্রকৃত স্রষ্টা ও মালিক শিরোনামহীন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশের প্রথিতযশা ব্যান্ড শিরোনামহীন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি যে, জি-সিরিজ নামক মিউজিক লেবেল প্রতিষ্ঠান আমাদের ব্যান্ডের নিজস্ব এবং কপিরাইটকৃত বেশ কিছু গান যেমন বন্ধ জানালা, হাসিমুখ, জাহাজি, পাখি, ইচ্ছেঘুড়ি, ভালোবাসা মেঘ, ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি বিদেশি কিছু কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং সেসব অর্থের বিপরীতে সরকারকে কোনো ভ্যাট/ট্যাক্সও প্রদান করছে না। জি-সিরিজের এ রকম বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গানগুলোর প্রকৃত স্রষ্টা ও মালিক শিরোনামহীন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের মেধাসম্পদ রক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দুর্নীতি রোধ করার জন্য উপর্যুক্ত বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। অতএব, উপর্যুক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জি-সিরিজের বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিশেষ অনুরোধ করা হলো।’
শিরোনামহীনের প্রথম তিন অ্যালবাম জাহাজি, ইচ্ছেঘুড়ি ও বন্ধ জানালা জি-সিরিজ থেকে প্রকাশিত হয়। তিনটি অ্যালবাম প্রকাশের পরপরই শ্রোতৃমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর এসব গানের কপিরাইট নিজেদের নামে করে নেয় জি-সিরিজ। বিষয়টি নজরে এলে কপিরাইট বোর্ডে অভিযোগ জানায় শিরোনামহীন। ২০১৮ সালে শিরোনামহীনকে ওই তিন অ্যালবামের ৩০টি গানের কপিরাইট সনদ দেয় বাংলাদেশ কপিরাইট বোর্ড।
সেই সনদের প্রসঙ্গ ধরে শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান জানান, কপিরাইট বোর্ডের রায়কে অমান্য করে শিরোনামহীনের এসব গান ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে জি-সিরিজ। এ বিষয়ে কপিরাইট অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তারা। শিরোনামহীনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সোমবার (২৭ মে) জি-সিরিজের কর্ণধার নাজমুল হক ভূঁইয়ার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস।
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যেকোনো শিল্পের কপিরাইট থাকে এর প্রণেতার অর্থাৎ যে ক্রিয়েটর তার। সে হিসেবে শিরোনামহীনের গান শিরোনামহীনের ক্রিয়েশন হিসেবে কপিরাইট সার্টিফিকেট নেওয়া হয়েছে ২০১৭ সালে। জি-সিরিজ থেকে আমাদের অ্যালবামগুলো চুক্তি অনুযায়ী ডিস্ট্রিবিউশন হয়েছিল। আইন অনুযায়ী সেটার সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে গেলে তাদের কপিরাইট বাতিল করে আমাদের শিরোনামহীনের নামে কপিরাইট সার্টিফিকেট ইস্যু করে কপিরাইট অফিস। তাদের আপিলের ভিত্তিতে শুনানি হলে রায় আসে শিরোনামহীনের অনুকূলে। এর পরও আমরা ইউটিউব চ্যানেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের প্রথম তিন অ্যালবাম জাহাজি, ইচ্ছেঘুড়ি ও বন্ধ জানালার গানগুলো তুলতে পারছিলাম না। প্রতিবারই দেখা গেছে জি-সিরিজ সেখানে স্ট্রাইক দিচ্ছে বা টেক ডাউন নোটিস পাঠাচ্ছে, গ্লোবালি ব্লক করে রাখছে। এটা খুবই অন্যায়। সম্প্রতি তারা আমাদের বন্ধ জানালা গানটিতে স্ট্রাইক করেছে। আমাদের চ্যানেলকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে তারা। এ দুর্নীতি আমরা আর কত দিন সহ্য করব? তাই এ বিষয়ে আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিকে জি-সিরিজ এ প্রসঙ্গে এখনও নীরব। তবে বেশ কিছু সূত্র জানান, আইনি লড়াই দিয়েই শিরোনামহীনকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জি-সিরিজ।