প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৪ ১০:২৬ এএম
নায়করাজ রাজ্জাক ও মিয়া ভাই খ্যাত নায়ক ফারুককে জীবন চলার পথে ভীষণ মিস করেন সংসদ সদস্য ও নায়ক ফেরদৌস আহমেদ।
বাংলাদেশের সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাক ও মিয়া ভাই খ্যাত নায়ক ফারুককে জীবন চলার পথে ভীষণ মিস করেন সংসদ সদস্য ও নায়ক ফেরদৌস আহমেদ। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের দীর্ঘদিনের পথচলায় ফেরদৌস এ দুই অগ্রজের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগতভাবেও দুজনের স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। দিতেন দিকনির্দেশনা।
নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৫তম জন্মদিন বিশেষভাবে উদ্যাপন করা হয়েছিল চ্যানেল আইয়ে। তখন অনেক নিমন্ত্রিত অতিথির মাঝে ফেরদৌসও ছিলেন। নায়ক ফেরদৌসকে অনুষ্ঠানে দেখে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন রাজ্জাক। তিনি ফেরদৌসকে ভীষণ পছন্দ করতেন। নিজের পরিচালিত ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমায় ফেরদৌসকে নিয়েছিলেন সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেই। ই সিনেমায় ফেরদৌসের অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।
অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে রাজ্জাককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে নায়ক ফারুকও উপস্থিত হয়েছিলেন। সে সুযোগে প্রিয় দুই অভিনেতার সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়েছিলেন ফেরদৌস।
সিনেমার হাত ধরে ফেরদৌস আজ সংসদ সদস্য হয়ে চলচ্চিত্রের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে দেখা করতে যান শিল্পী, পরিচালকসহ চলচ্চিত্রের অনেকেই। ফেরদৌস তাদের সময় দেন, আড্ডায় মেতে ওঠেন। তবে তিনি জানান, খুব মিস করছেন রাজ্জাক ও ফারুককে। তিনি বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের শক্তিমান দুই অভিনেতা রাজ্জাক আংকেল ও ফারুক ভাই। তারা আমাদের অভিভাবকও ছিলেন। কেবল মুখে বলার অভিভাবক নন, সবকিছুতেই তারা একটা নেতৃত্ব দিতে পারতেন। চলচ্চিত্রের মানুষও তাদের কথা মেনে চলতেন। আজ দুজনই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। আমি তাদের খুব মিস করি। প্রায়ই ভাবি আমি আজ সংসদ সদস্য হয়েছি, এটা দেখলে দুজনই কত খুশি হতেন। আমাকে তারা সন্তানের মতো স্নেহ দিয়েছেন, নানা ভুল শুধরে দিয়েছেন। বিপদে পড়লেই তাদের কাছে ছুটে গেছি। তারাও আগলে রাখতেন। আমি সেসব ভালোবাসার কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’
‘মিয়া ভাইও রাজনীতির মানুষ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। নায়ক হয়েও তিনি যেমন দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবেও জনগণের ভালোবাসা পাচ্ছিলেন। আমিও আজ তার মতো সংসদ সদস্য। তিনি বেঁচে থাকলে এটা দেখে খুব খুশি হতেন। হয়তো দুই ভাই মিলে সংসদে যেতাম। আফসোস! আমি সব সময়ই দোয়া করি উনারা জান্নাতবাসী হোন’, যোগ করেন ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ অজিত।
তিনি আরও জানান, চলচ্চিত্রের যেসব কিংবদন্তি ও সিনিয়র এখনও বেঁচে আছেন তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত। তারা যেন অবমূল্যায়িত না হন, কারও দ্বারা কষ্ট না পান সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।