× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের বলি শিক্ষার্থীরা

জাভেদ রায়হান, কুবি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৬:৫৯ পিএম

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফাইল ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফাইল ফটো

শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। স্থগিত আছে পাঁচ বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা। নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা যায়নি সাত বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তাবিত রুটিন। সেশনজটের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শিক্ষার্থীদের কপালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, শিক্ষক সমিতির অনড় অবস্থানে সৃষ্ট এ সংকট সমাধানের কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটতে রাজি নয় শিক্ষক সমিতি। যদিও দ্রুত সুরাহা হবে বলে আশা রাখছে প্রশাসন।

গত ২৯ এপ্রিল অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি। পরদিন ৩০ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভা থেকে একই রকম সিদ্ধান্ত আসে– অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে হলগুলোও বন্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অনেক শিক্ষার্থী হল ছাড়েননি। শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন চেয়ে রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

সেশনজটের শঙ্কা

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি পাঁচ বিভাগের আটটি পরীক্ষা। এগুলো হলো অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং মার্কেটিং বিভাগ। আরও সাত বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা রুটিন প্রস্তুত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।

শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের বলি শিক্ষার্থীরা– এমন প্রশ্ন রেখে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে ভর্তি হয়ে ২০২৪ সালেও পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। এ ব্যর্থতা কার? আমার ব্যাচের প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী সন্দিহান– এ শিক্ষা জীবন কবে শেষ হবে। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন মজুমদার বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যেক ব্যাচের সেশন পিছিয়ে পড়ে। এখন আবার শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে আমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা এই সংকট নিরসন চাই।’

সাত দফা থেকে এক দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অস্থিতিশীল অবস্থার সূত্রপাত হয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দিন। নির্বাচনের পর ইশতেহার নিয়ে উপাচার্য কার্যালয়ে যান শিক্ষক সমিতির নেতারা। সেখানে একপর্যায়ে শুরু হয় হট্টগোল। এরপর একাধিকবার উপাচার্যকে উদ্দেশ করে অসম্মানসূচক বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

ঘটনার তিন সপ্তাহের মাথায় ১৩ মার্চ সাত দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন শুরু করে শিক্ষক সমিতি। মাস খানেকের বেশি সময় পর ২৪ এপ্রিল জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ওঠে শিক্ষক সমিতির সাত দাবি। বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। তবে সিন্ডিকেটের চার সিদ্ধান্তে উপাচার্যের ‘সমস্যা সমাধানের দৃশ্যমান উদ্যোগ নয়’ জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষক সমিতি। তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।

এ সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো জবাব না আসায় আরও চড়াও আচরণ শুরু করে শিক্ষক সমিতি। ২৫ এপ্রিল উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তাদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তিন দিনের মাথায় ২৮ এপ্রিল প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য প্রবেশের সময় শিক্ষক সমিতির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসন। উপাচার্য, ট্রেজারারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে শিক্ষক সমিতি। পাল্টা তাদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রশাসনের মামলায়।

২৮ এপ্রিলের ঘটনার পর সাত দফা থেকে সরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদত্যাগের এক দফা দাবি সামনে আনে শিক্ষক সমিতি। পরদিন ২৯ এপ্রিল থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় তারা। পরদিন ৩০ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অনড় শিক্ষক সমিতি, আশা দেখছে প্রশাসন

শিক্ষক সমিতিকে সমর্থন জানিয়ে চলমান এ দ্বন্দ্বের মধ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৯ জন শিক্ষক। তবে সংকট নিরসনে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যদিও নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় থাকার অবস্থান পরিষ্কার করেছে শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য সমস্যার সমাধান না করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা চাই– দ্রুত উপাচার্যের অপসারণ হোক এবং সমস্যার সমাধান হোক। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি চাই না।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আগে থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আসছিল শিক্ষক সমিতি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ক্যাম্পাস ও হল বন্ধের। আশা করছি– খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা