× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চবিতে সেশনজটে নাকাল ১৯ বিভাগ

৫ বছরের কোর্স শেষ হয়নি ৯ বছরে

মো. মাসুদ, চবি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সেশনজটে নাকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১৯ বিভাগের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেশনজটে আটকা পড়ে দীর্ঘতর হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন। চার বছরের অনার্স কোর্স ছয় বছরেও শেষ করতে পারছেন না তারা। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের আন্তঃকোন্দল, উদাসীনতা ও কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব সেশনজটের মূল কারণ। এজন্য প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয়কে দায়ী করছে বিভাগগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলার ব্যাচ ২০১৮-১৯ সেশন অনার্স (স্নাতক) শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সে ও ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরা অনার্স (স্নাতক) ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। কিন্তু সেশনজটে জর্জরিত বিভাগগুলোর কোনোটাতে তিন বছর, কোনোটাতে দুই বছর, কোনোটা এক বছরের সেশন জট রয়েছে।

সেশনজটে জর্জরিত বিভাগগুলো হলোÑ ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স, ওশানোগ্রাফি, ফিশারিজ, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স, ইংরেজি, শিক্ষা ও গবেষণা, পালি, চারুকলা, নাট্যকলা, সংগীত, প্রাণিবিদ্যা, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, পদার্থবিদ্যা, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভাগগুলোর ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা এখনও চার বছরের অনার্স (স্নাতক) কোর্স শেষ করতে পারেননি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সের চার শিক্ষাবর্ষে চারটি ও মাস্টার্সে একটিসহ মোট পাঁচটি রানিং ব্যাচ থাকার কথা থাকলেও উল্লেখিত বিভাগে ছয়-সাতটি ব্যাচ চলমান রয়েছে।‌ এদিকে ছয় মাসের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও একাধিক বিভাগে তা মানা হচ্ছে না।

সবচেয়ে ভয়াবহ সেশনজটে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্সেস বিভাগ। 

বিভাগটির ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরা এখনও মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি। বিভাগটির ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা সাত বছরেও অনার্স শেষ করতে পারেননি। এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারেননি ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

২০১৫-১৬ সেশন দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিভাগে ৯ বছরেও কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।‌ নিজস্ব কোনো ক্লাস রুম না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ঘুরে ঘুরে বিষয়ভিত্তিক কোর্সগুলোর ক্লাস করতে হয়।‌ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট আটটি ব্যাচ চলমান রয়েছে। ২০২৩-২৪ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ব্যাচের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৪৩তম বিসিএস অংশগ্রহণ করতে পারলেও সেশনজটের কারণে আমরা পারিনি।‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষ করতে যদি ৯ বছর লেগে যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়?

বিভাগটির বেহাল অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, ক্লাস রুমের চেয়েও এখানে বড় সমস্যা শিক্ষক নেই।‌ আগে একবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এই বিভাগের শিক্ষক পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে পুরো দিন আমাকে এই বিভাগের কাজগুলো সামাল দিতে হয়। পার্ট টাইম শিক্ষকরা নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে চলে যান। বিভাগের এত কাজ একজন সামাল দেওয়া কঠিন। ক্লাসরুমের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওশানোগ্রাফি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ওনারা শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকটের কথা বলতেন। কিন্তু এখন এইসব বিষয় যথেষ্ট সমৃদ্ধ হওয়ার পরও বিভাগের শিক্ষকদের অবহেলার কারণে আজ আমরা সেশনজটে জর্জরিত। ব্যাংক, বিসিএস, সরকারি, বেসরকারি কত সার্কুলার যে মিস করেছি তার হিসাব নেই। বিভাগের সবাই কি গবেষক হবে? অনার্স মাস্টার্স শেষ করতে যদি ৯ বছর শেষ হয়ে যায়, আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

ওশানোগ্রাফি বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ অহিদুল আলম বলেন, করোনার দুই বছর এবং এর আগেও শিক্ষক সংকট ছিল, যার কারণে বিভাগে সেশনজট তৈরি হয়েছে। সেশনজটের মূল কারণ হচ্ছে রেজাল্ট তৈরিতে বিড়ম্বনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও সনাতনী পদ্ধতিতে রেজাল্ট তৈরি করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে তা রেজাল্ট শিটে তুলতে হয়। এর মধ্যে আবার অনেক শিক্ষক নাম্বার জমা দিতে দেরিও করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পালি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগে সেশনজটের মূল কারণ স্যারেরা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেন না এবং রেজাল্ট দিতে দেরি করেন। শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আশা করি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তদারকি করবেন।

পালি বিভাগের চেয়ারম্যান শাসনানন্দ বড়ুয়া রুপন বলেন, আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। মাত্র সাতজন শিক্ষক দিয়ে আমরা বিভাগ পরিচালনা করছি। করোনাসহ নানা কারণে আমাদের বিভাগে এই জট তৈরি হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে বলেন, ২০২২ সালে সেশনজট নিরসনে আমি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু উপাচার্যের অনুমতি না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। উপাচার্য যে দায়িত্ব দেন প্রো ভিসি তাই পালন করতে পারেন। 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ.বি.এম আবু নোমান বলেন, সেশনজট নিরসনে শিক্ষকদের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি বিভাগের দাপ্তরিক কাজের যথাযথ সমন্বয় করতে হবে। বিষয়টি শিক্ষক সমিতির মিটিংয়ে আমরা আলোচনায় আনব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা বলব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, এই বিষয়ে আমি উপ-উপাচার্য একাডেমিককে দায়িত্ব দিয়েছি। সেশনজট নিরসনে আমরা একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করব। এটি যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেশনজট নিরসন করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা