প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:২১ পিএম
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথমপত্রের বিতর্কিত প্রশ্নপত্র। সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নে লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হককে হেয় করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ১৪ জন শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজন।
ঘটনা দুটিকে ‘শিক্ষার অধোগামিতা’ উল্লেখ করে তারা বলেছেন, ‘আমরা ভেবে অবাক হই, কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রে এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়। আমরা শিক্ষার এই অধোগামিতা দেখে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক অপচেতনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অসারতা প্রমাণ করে।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন—সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও ছায়ানটের সহসভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, প্রাবন্ধিক-গবেষক মফিদুল হক, খুলনার ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা শফি আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘খ্যাতনামা লেখক সাংবাদিক আনিসুল হকের লেখা উদ্ধৃতি করে যে কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় করা হয়েছে,তা নজিরবিহীন। আরও উল্লেখ্য, সাম্প্রদায়িক অপচেতনার ভিত্তিতে আরও একটি প্রশ্নপত্র সরাসরি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক।’
তারা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো কার্যত বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান অব্যবস্থার চিত্র। এখনই এ ধস রোধ করতে হবে।’
তারা এ সকল অপকর্মের দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লালন অনুসারী সাধুসঙ্গের অশীতিপর সাধক মদন ফকিরসহ সাতজন লালন অনুসারীর ওপর হামলার নিন্দাও জানান শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজনরা।
তাদের অভিযোগ, লাউবাড়িয়া উত্তর পাড়া জামে মসজিদের সভাপতির নেতৃত্বে পরিচালিত উগ্র ধর্মান্ধরা বাউল সাধকদের ওপর হামলা করেছে।
তারা ওই হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বাউল সাধকদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানান।